ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকের যুদ্ধে গিয়ে জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন নাছির-

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকের যুদ্ধে গিয়ে জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন নাছির-

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসান জাবেদ,দর্পণ টিভিঃ-
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার আউলিয়া বাজারের ব্যবসায়ি আবু নাছির (৩৫) শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার রেনেসাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে নিশ্চিত করেছে তার ভাগিনা সোহাগ।

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামূড়া গ্রামের আবু শামার ছেলে নাছির একই গ্রামের প্রয়াত বাদল ভূঁইয়ার ছেলে, মাদকের কারবারে জড়িত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার ভূঁইয়া ও তার সহযোগীদের হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছিলেন। কাউসার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা লোহার রড ও শাবল দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তার ডান হাত ও ডান পা ভেঙ্গে ফেলেন।

ঢাকায় থাকা নাছিরের ভাগিনা সোহাগ জানান, নাছিরের মরদেহ এখন ধানমন্ডি থানায় আছে। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিজয়নগরের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে।

সেজামূড়া গ্রামের ইউপি সদস্য বাসির মিয়া বলেন, কাউসার ও তার মাদক চক্রের বিরুদ্ধে গত ২৩ মে বিকেলে গ্রামের ৬০-৬৫ জন মুরুব্বি ও যুবকদের নিয়ে স্থানীয় হুমায়ূন কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সভার আয়োজন করেছিল নাছির। সভা থেকে গ্রামের ওপর দিয়ে মাদক পাচার করতে দেওয়া হবে না বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু নাছির জানিয়েছিলেন, ২৪ মে সকালে তার দাদী মারা যাওয়ায় তিনি কাফনের কাপড় কিনতে আউলিয়া বাজারে গিয়েছিলেন। কাপড় কিনে ফেরার পথে নজরপুর গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে ওত পেতে থাকা কাউসারসহ ১২/১৪ জন গতিরোধ করে তাকে লোহার রড ও শাবল দিয়ে বেধড়ক পেটান। তিনি লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। কাজল নামের এক ব্যবসায়ী তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আউলিয়া বাজারে নিয়ে যাওয়ার পর অন্য ব্যবসায়ীরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

গত ২৭ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এদিকে গত ২৬ মে নাছিরের বাবা আবু শামা বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা কাউসারকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

বিজয়নগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, নাছিরের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যদি আঘাতজনিত কারণে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়- তাহলে তার বাবার করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। অভিযুক্ত কাউসারসহ আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536