পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক জনকে নৃশংসভাবে খুন-

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক জনকে নৃশংসভাবে খুন-

নিতিশ চন্দ্র বর্মন নিরব পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি,দর্পণ টিভিঃ-

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে নৃশংসভাবে খুন করার খবর পাওয়া গেছে। এঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। হত্যাকান্ডের শিকার যুবক হলেন উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার এবং পুরাতন আটোয়ারী এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুল হকের ছোট ছেলে মো: আমিনুল ইসলাম (৩২)। এঘটনায় নিহত যুবকের বাবা বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আটোয়ারী থানার মামলা নম্বর-৫, তারিখ-২১ মে/২০২০খ্রি:।
মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে দুপুর ১টায় পাটক্ষেতে গাছের ডাল কাঁটা নিয়ে প্রতিবেশী মৃত: বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো: ইসমাইল হোসেন সহ তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে আমিনুলের পরিবার সহ তাদের প্রতিপক্ষ ইসমাইলের পরিবারের লোকজন আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। পরে আমিনুলের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ওই দিন রাত ৯.৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিনুল মৃত্যু বরণ করে।
এদিকে ঘটনার পরদিন (২০মে) বিকেলে নিহত আমিনুলের মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে এসে রাতে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এব্যাপারে নিহত আমিনুলের বড় ভাই এবং ধামোর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মো: সাহিদুল জব্বার শাহীন জানান, প্রতিপক্ষ পরিবারের সাথে আমাদের কখনও কোন বিরোধ ছিলনা। সামান্য ঘটনায় তারা কেন আমার ছোটভাইকে মেরে ফেললো আমি খুনীদের ফাঁসী চাই। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমিনুলের লাশ নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা রংপুরে অবস্থান করছিলেন সেহেতু মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হলো। কেন আমিনুল কে তুচ্ছ ঘটনায় খুন করা হলো জানতে চাইলে আসামীপক্ষের লোকজন সঠিক কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি।
এ ব্যাপারে হত্যা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইজার উদ্দীন বলেন, তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের ঘটনার দিন থেকে নজরবন্দী করে রাখে। বাদীপক্ষ মামলা দায়ের করার সঙ্গে সঙ্গে নজরবন্দীকৃত তিন জনকে গ্রেফতার করি। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো: ইসমাইল হোসেন(৫৫) এবং তার দুই ছেলে রইছুল ইসলাম (২০) ও সাহিদুল ইসলাম শাকিব (১৮)। তিনি আরো বলেন, অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ শেয়ার করুন

ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সাজানো মিথ্যা মামলায় ফেলে এক নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে-নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা কয়াগোলাহাট ঘোনপাড়া এলাকায়৷ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৭৯ বছর পূর্বে বসতি স্থাপন করে স্থানীয়রা রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করে আসছি৷ সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ এসে রাস্তা খুলে দিলেও পুলিশ চলে যাবার পরে রাস্তাটি পুনরায় বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তী স্থানীয়দের সহোযোগিতায় বাড়ির বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও গত ২৬র্মাচ এ বিকল্প চলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়া হয় । এতে বাধা দিলে সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাই আজিজুল হক ও শফিকুল ইসলামের পরিবার এ-র উপর আতর্কিত হামলা করে বাড়ী ঘরের বেড়া, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে ধারালো অস্ত্রসহ(হাচুয়া,বটি,দা) লোহার মোটা পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে প্রতিপক্ষ সিরাজুলরা। আহতদের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়া হয় (ওসিসি বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিরাজুল ও শফিকুলদের আসামী করে সৈয়দপুর থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবারটি৷ এদিকে, মামলাটি থানায় দেয়ার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটির উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকি বিদ্যমান রেখেছে প্রতিপক্ষ৷ ভুক্তভোগী পরিবারের আতিয়ার রহমান খোশো বলেন, আমি রংপুর বিভাগের রংপুর বীর উত্তম শহীদ সামাদ স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিষয়ক সহকারী শিক্ষক । ঘটনার দিন আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, এই মর্মে প্রতিষ্ঠান প্রিন্সিপাল মহোদয় প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করেন। শফিকুলেরা অপরাধ সংঘটিত করে আগেই মামলা দায়ের করেন৷ আমি উপস্থিতি না থাকলেও আমাকে আসামির শ্রেনীভুক্ত করা হয়েছে৷ এমনকি, সৈয়দপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আমার কল রেকর্ড আছে এবং ঐ কল রেকর্ড ট্রাকিং করে দেখা গেছে আমি ঐদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৬ শেষ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে যুক্ত ছিলাম, শুধু মাত্র আমাকে হয়রানি করার জন্য এবং আমার সন্মান হানি করার জন্য হয়রানি মূলক মিথ্যা সাজানো মামলা করা হয়েছে৷ এ অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আতিয়ার রহমান খোশো তাদের সম্পর্কে আত্মীয় আমাদের সাথে জগড়া লাগলে তিনি তাদের পরামর্শ ও শেল্টার দেন। তাই ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে। তারাও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাই আমরাও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি৷ তবে, মামলার সূষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীর।

নীলফামারীতে মিথ্যা মামলায় ফেলে নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

themesbazartvsite-01713478536