বিশাল প্যারাবন ধ্বংস করে ঘের বানাচ্ছে খালেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজন-

বিশাল প্যারাবন ধ্বংস করে ঘের বানাচ্ছে খালেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজন-

মোঃ সাহাব উদ্দিন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ-

মহেশখালীর শাপলাপুরের উপকূলীয় বনবিভাগ ও চরণদ্বীপ রেঞ্জের দীনেশপুর মৌজার বন বিভাগের মালিকানাধীন প্রায় ৫০ হেক্টর প্যারাবন কেটে গড়ে তুলা হচ্ছে চিংড়ী ঘের। নিত্যদিন শতাধিক শ্রমিক দিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে প্যারাবন কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে চিংড়ী প্রজেক্ট। নদী দখলকারী সন্ত্রাসীরা ভারি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দিন দুপুরে মহাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে- স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খালেকের বাড়ির পেছনে পূর্বদিকে লইল্যাচরায় চেয়ারম্যান নিজেই তার লোকজন দিয়ে প্যারাবন দখল করে যাচ্ছে। বিগত একমাস ধরে খালেক চেয়ারম্যান এমন বেপরোয়া কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। কীভাবে প্যারাবনের গাছ কেটে সাবাড় করে বিরানভূমি বানানো হচ্ছে তার প্রমাণস্বরুপ বেশ কিছু ভিডিওচিত্র ও ছবি সিডব্লিউর কাছে এসেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য- সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এসব বিষয়ে নূন্যতম পদক্ষেপ কিংবা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। যার ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির রূপ লাবণ্যের অন্যতম সহযোগী মায়াবী প্যারাবন।

সম্প্রতি কিছুদিন আগে স্থানীয় বন কর্মকর্তা সংঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে নদী দখলকারীদের সাথে বন বিভাগের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে ।

এর পরেই স্থানীয় বিট কর্মকর্তা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হলেও সেই থেকে এখন পর্যন্ত পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে নদী দখলকারীরা। ঔসব নদী দখলবারীরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের ছত্রছায়াতে এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানায়, শাপলাপুরের চেয়ারম্যান, বাকঁখালী নদী দখলের তালিকা ভুক্ত অন্যতম নদী দখলকারী আ.খালেক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পরপরেই তার দৃষ্টি পড়ে চরণদ্বীপ রেঞ্জের দীনেশপুর মৌজার বিশাল প্যারাবনে। তার ছত্রছায়াতে পারিবারিক লোকজন ও লালিত ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিশাল প্যারাবন কেটে গড়ে তুলা হচ্ছে চিংড়ী প্রজেক্ট।

স্থানীয় বন বিভাগ দুয়েকবার অভিযান চালিয়ে নদী দখলকারীদের ধাওয়া করলেও তারা চলে আসার পরপরেই আবারো দখল কাজে নেমে পড়ে নদী দখলকারীরা।

এনিয়ে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড, রেঞ্জ কর্মকর্তা সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে চিঠিও প্রেরণ করেছেন। তারপরেও রহসজনকভাবে ঐপ্রভাবশালী চেয়ারম্যান আ.খালেকের লোকজনদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বিশাল এ প্যারাবন।
স্থানীয় লোকজন নদী দখলে বাধা প্রধান করতে গিয়ে অনেকবার লাঞ্চিত হতে হয়েছে মি. খালেকের লোকজনদের হাতে।

অনুসন্ধানে জানা যায়- চেয়ারম্যান আ.খালেকের সার্বিক সহযোগিতায় প্যারাজায়গীর তথা হেডম্যান নামধারী প্যারানিধনকারী আবদুল্লাহ (পিতা মৃত কালামিয়া দালাল) হেডম্যান পরিচয়ে নিয়মিত প্যারাবন কেটেঁ সাভাবিক ভাবে চিংড়িঘের নির্মাণ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার সহযোগিতায় রয়েছে অলি আহমদ ও নজির আহমদ(উভয় পিতা কমলি) গং এর সহযোগিতা রয়েছে। এমনকি উক্ত প্যারাবন কাটা গাছগুলো বহন করা বোটের মালিক সাইফুল (পিতা মোজাম্মেল) নিজের বোট দিয়ে বিক্রি করত; বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। ঐ এলাকায় বসবাসকারী নিরীহ জনগনের ভাষ্যমতে, আ. খালেক চেয়ারম্যান হওয়ার একমাসের মাথায় দীনেশপুর মৌজায় আরও একটি চিংড়িঘের নির্মান করেন প্যারাবন কেটেঁ। উক্ত প্যারাবন কেটেঁ চিংড়িঘের নির্মাণের সময় বিভিন্ন পত্রিকায় ও গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হলে দুই /একদিন কাজ বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে নিয়মিত কাজের ন্যায় প্যারাবন কেটেঁ চিংড়িঘেরের কাজ সম্পাদন করে। স্থানীয় লোকজন জানান, উক্ত প্যারাবন ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে হেডম্যান আবদুল্লাহ গংদের। কারন আবদুল্লাহ গং হেডম্যান এর দায়িত্বে আছেন বলে এলাকার কোন লোকজনকে প্যারাবনের আশেপাশে হাটতেঁও দেয়না। সেই সুযোগে চেয়ারম্যান ও আবদুল্লাহ গংদের পৈত্রিক সম্পদের ন্যায় প্যারাবন ধবংস করে নির্ভয়ে নিয়মিত চিংড়িঘের তৈরী করে যাচ্ছে। প্রশাসন ও প্যারাবন রক্ষাকারী কতৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রশ্ন- এভাবে প্যারাবন ধ্বংস করে উপকূলীয় অঞ্চল ঝুঁকিতে ফেলা ওপরিবেশ ধ্বংস করা এমনকি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের খবর কি কর্তৃপক্ষের কেউ জানেনা?

এবিষয়ে উপকূলীয় বনকর্মকর্তা গোলাম মওলার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি কক্সবাজার বনবিভাগ উত্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে দাবী করেন। এর আগে কক্সবাজার বনবিভাগ উত্তরের সাথে কথা হলে মহেশখালীর প্যারাবনের বিষয়টি উপকূলীয় বনবিভাগের অধীনে বলে জানান। এভাবেই পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করে পার পেতে চেয়েছিলো সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা। কিন্তু পরবর্তীতে দায় এড়াতে না পেরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে এক ধরণের দায়সারা মন্তব্য করেন এবং আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

সংবাদ শেয়ার করুন

ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সাজানো মিথ্যা মামলায় ফেলে এক নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে-নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা কয়াগোলাহাট ঘোনপাড়া এলাকায়৷ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৭৯ বছর পূর্বে বসতি স্থাপন করে স্থানীয়রা রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করে আসছি৷ সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ এসে রাস্তা খুলে দিলেও পুলিশ চলে যাবার পরে রাস্তাটি পুনরায় বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তী স্থানীয়দের সহোযোগিতায় বাড়ির বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও গত ২৬র্মাচ এ বিকল্প চলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়া হয় । এতে বাধা দিলে সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাই আজিজুল হক ও শফিকুল ইসলামের পরিবার এ-র উপর আতর্কিত হামলা করে বাড়ী ঘরের বেড়া, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে ধারালো অস্ত্রসহ(হাচুয়া,বটি,দা) লোহার মোটা পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে প্রতিপক্ষ সিরাজুলরা। আহতদের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়া হয় (ওসিসি বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিরাজুল ও শফিকুলদের আসামী করে সৈয়দপুর থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবারটি৷ এদিকে, মামলাটি থানায় দেয়ার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটির উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকি বিদ্যমান রেখেছে প্রতিপক্ষ৷ ভুক্তভোগী পরিবারের আতিয়ার রহমান খোশো বলেন, আমি রংপুর বিভাগের রংপুর বীর উত্তম শহীদ সামাদ স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিষয়ক সহকারী শিক্ষক । ঘটনার দিন আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, এই মর্মে প্রতিষ্ঠান প্রিন্সিপাল মহোদয় প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করেন। শফিকুলেরা অপরাধ সংঘটিত করে আগেই মামলা দায়ের করেন৷ আমি উপস্থিতি না থাকলেও আমাকে আসামির শ্রেনীভুক্ত করা হয়েছে৷ এমনকি, সৈয়দপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আমার কল রেকর্ড আছে এবং ঐ কল রেকর্ড ট্রাকিং করে দেখা গেছে আমি ঐদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৬ শেষ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে যুক্ত ছিলাম, শুধু মাত্র আমাকে হয়রানি করার জন্য এবং আমার সন্মান হানি করার জন্য হয়রানি মূলক মিথ্যা সাজানো মামলা করা হয়েছে৷ এ অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আতিয়ার রহমান খোশো তাদের সম্পর্কে আত্মীয় আমাদের সাথে জগড়া লাগলে তিনি তাদের পরামর্শ ও শেল্টার দেন। তাই ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে। তারাও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাই আমরাও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি৷ তবে, মামলার সূষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীর।

নীলফামারীতে মিথ্যা মামলায় ফেলে নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

themesbazartvsite-01713478536