বান্দরবানের প্রয়াত ভদন্তের (উ চ হ্লা ভান্তে) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত জরুরি সভা অনুষ্ঠিত-

বান্দরবানের প্রয়াত ভদন্তের (উ চ হ্লা ভান্তে) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত জরুরি সভা অনুষ্ঠিত-

মোহান্মদ আলী,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি,দর্পণ টিভিঃ-

বান্দরবানের বোদ্ধ ধমীর্য় গুরু প্রয়াত ভদন্তের
(উ চ হ্লা ভান্তে) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত বা শেষকৃত্য সম্পাদক বিষয়ক এডহক কমিটি গঠন ও
জরুরি সভা ১৬মে শনিবার বিকালে বান্দরবান পাবর্ত্য জেলা পরিষদের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় যথাযথ মর্যাদায় ধমীর্য় ভাবগাম্ভীর্যতার সাথে প্রয়াত ভদন্তের (উ চ হ্লা ভান্তে) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদন করার লক্ষ্যে জেষ্ঠ ভিক্ষু সংঘ ও বিভিন্ন এলাকার ভিক্ষু সংঘ, মাননীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পাবর্ত্য আঞ্চলিক পরিষদ, ০৩ পাবর্ত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ০৩ সার্কেল চীফ, অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিভাগের প্রধান/ প্রতিনিধি, খিয়ংওয়া ক্যং কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে ১১৩ জন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের প্রস্তাব সভায় গৃহিত ও অনুমোদিত হয়।

জরুরী সভায় পাবর্ত্য ভিক্ষু পরিষদের সভাপতি রোয়াংছড়ি বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ পঞঞানন্দ মহাথের এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পাবর্ত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্ল, পাবর্ত্য আঞ্চলিক পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য কে এস মং, রাজপুত্র নু মং প্রু, মংথোয়াইচিং হেডম্যান, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লুবু প্রু সহ অন্যান্য সদস্য গন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, বিগত ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে এই ধর্মীয় গুরুর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। উপঞঞাজোত মহাথেরো ১৯৫৫ সালের ২২ ডিসেম্বর বান্দরবান পার্বত্য জেলার রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালের ৭ জুন চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উপন্ডিত মহাথের কাছে প্রব্রজ্যা গ্রহণ (গৃহজীবন ত্যাগ) করে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হন। এর ছয় মাস পরই পবিত্র মাঘী পূর্ণিমার দিনে তিনি উপসম্পদা (ভিক্ষুত্ব) গ্রহণ করেন ।
১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি, ১৯৮২ সালে এলএলএম এবং ১৯৮৩ সালে বিসিএস পাশ করেন। বিসিএস ক্যাডার হিসেবে তিনি সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাত্র ১২ বছর তিনি কর্মজীবনে ছিলেন।
২০০২ সালে জুলাই মাসে অনাথ ও দরিদ্রদের জন্য বি হ্যাপি লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণ মন্দির) এবং রাম জাদির প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। এছাড়া তিনি ভারতের বুদ্ধগয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ মন্দির স্থাপন করেছেন।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536