৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষন চেষ্টার মামলায় নিম্ন আদালতে আত্নসমার্পনের নির্দেশ মহামান্য হাইকোর্টের

৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষন চেষ্টার মামলায় নিম্ন আদালতে আত্নসমার্পনের নির্দেশ মহামান্য হাইকোর্টের

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

ডিমলায় ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষন চেষ্টার মামলায় ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউপি চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি ও তার ভাই নাউতারা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ( প্রাইভেট) অধ্যক্ষ মাহামুদুল হাসান নয়ন মহামান্য হাইকোর্টে আগাম জামিনের প্রার্থনা করলে মহামান্য হাইকোর্ট আসামীদের জামিন না দিয়ে ২ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ১৯ এপ্রিল মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের এনেক্স ভবন৫ নং আদালতের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসাইন ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের এক দ্বৈত বেঞ্চে এ আদেশ প্রদান করেন। আসামীদের হাইকোর্টের মামলার সিরিয়াল নং ৬০ টেন্ডার নং ২৭৭৯৩
দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গত ৩এপ্রিল৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীর পিতা মামলা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতরা ইউপি চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি ও তার বড় ভাই নাউতরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান) অধ্যক্ষ মাহামুদুল হাসান নয়নকে আসামি করে থানায় এ মামলা হয়। থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গাঢাকা দিয়েছে।
জানা যায়, সরকারিভাবে গত ২২শে এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ থাকলেও নাউতরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ২৮শে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে তার প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখেন। গত ২৮শে এপ্রিল ক্লাস পরীক্ষা চলাকালীন সময় ৫ম শ্রেণির ঐ ছাত্রীর পরীক্ষার রুমে গিয়ে অধ্যক্ষ মাহামুদুল হাসান নয়ন ছাত্রীটি হিজাব পরে আসলে হিজাবের প্রতি কুটক্তি করে হিজাব খোলার নামে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেয়। এতে ছাত্রীটি কান্নায় ভেঙে পড়লে পরীক্ষা শেষে তাকে অফিস রুমে নিয়ে এসে অধ্যক্ষ নয়ন ছাত্রীটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় সে কান্না করলে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেন অধ্যক্ষ। ছাত্রীটির বাবা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চাকরি করেন। গত ৩০ এপ্রিল ছাত্রীটির বাবা বাড়ি আসলে ছাত্রীটির মা তার বাবাকে বিষয়টি খুলে বলেন। ছাত্রীর বাবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিসহ ঘটনাটি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করেন। চেয়ারম্যান আপোষ মিমাংসার নামে কালক্ষেপণ করে গত ২এপ্রিল তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিষয়টি মিথ্যা বলে ভিন্নভাবে নিয়ে ছাত্রীটির অভিভাবককে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ করে ও শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিথ্যা মানববন্ধন করেন।স্থানীয় লোকজন জানায়,১ এপ্রিল রাতে বিষয়টি নিয়ে আপস মীমাংসার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্রীটির পরিবারের লোকজনসহ গন্যমা ব্যাক্তিদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায় কিন্তু রাত ৩টা পর্যন্ত ঘটনাটি সমাধান না করে টালবাহানা করে পরের দিন সকাল ১০ টায় আপোষ করার কথা বলে উল্টো ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে ছাত্রীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে এলাকায় মানববন্ধন করায়। ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ছাত্রীটির পরিবারকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার পাঁয়তারা করছে। চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের কারণে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে প্রধান শিক্ষক মাহামুদুল হাসান নয়ন নানান অজুহাতে প্রায় ছাত্রীদের গায়ে হাত দেয়।
এদিকে মামলা করার পর ২ নং আসামী আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি চেয়ারম্যানের ক্ষমতাবলে তার গুন্ডা ও মাস্তান বাহিনী দিয়ে বাদী ও তার পরিবারের উপড় মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যার কারনে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির জোড় দাবী জানান এলাকাবাসী।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536