ইউপি নির্বাচনে উত্তপ্ত ঈশ্বরদী-প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন

ইউপি নির্বাচনে উত্তপ্ত ঈশ্বরদী-প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন


তুহিন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়াচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ। প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়। গ্রামে,পাড়ায়-মহল্লায় চেয়ারম্যান, মেম্বার প্রার্থীরা নানা রকমভাবে চালাচ্ছেন তাদের গণসংযোগ ।সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই। জয়ের আশা ব্যক্ত করছেন সকলেই।
পছন্দের প্রার্থীর জনপ্রিয়তার জানান দিতে সন্ধ্যা হলেই, পাড়া মহল্লার অলিগলিতে বিভিন্ন শ্লোগানে দফায় দফায় চলে মোটরসাইকেল শো-ডাউন। পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে রাস্তার দু’পাশ। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে মাইকিং, প্রত্যেক প্রার্থীর রয়েছে আলাদা আলাদা নির্বাচনী অফিস।
এদিকে রাতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময়ও করছেন সকল প্রার্থী । মোড়ে-মোড়ে, রাস্তা-ঘাটে, চায়ের দোকানে প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা-সমলোচলার ঝড়।
কে হবেন আগামীদিনের জনপ্রতিনিধি?কতটুকুই বা কাজ করবেন জনসাধারণেরর জন্য ? তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগেই প্রার্থীরা এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নসহ দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ছলিমপুর ইউপির ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আব্দুল গণি (মোরগ মার্কা) বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে অধিক মেম্বার প্রার্থী রয়েছে, এরই মধ্যে মেম্বার প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে টানটান উত্তেজনা। তাই আমি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করি।
দাশুড়িয়া ইউপির ৬নং ওয়ার্ড ভোট কেন্দ্র মাড়মী সুলতান পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উক্ত ৬নং ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী মোট তিনজন। একে অপরের পোষ্টার ছিঁড়াসহ চলছে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে হুমকি ধামকি দেয়ার অভিযোগ।ইতি মধ্যে প্রসাশন গিয়ে তিন মেম্বার প্রার্থীকে নিয়ে চালাচ্ছে বৈঠকের পর বৈঠক যাতে নির্বাচন কেন্দ্রে কোন সহীংশতা না ঘটে ।এর মধ্যেও থেমে নেই টানটান উত্তেজনার ভাব।উল্লেখ্য বিগত নির্বাচনে উক্ত কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে বাধাসহ নানা ধরনের হুমকির ঘটনাও ঘটেছে।অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ২৮ তারিখ নির্বাচনে মারমী সুলতানপুর থেকে দরগা বাজার পর্যন্ত রাস্তায় পুলিশি টহলের দাবী জানিয়েছে সাধারন জনগণ। ৩নং ওয়ার্ডেও রয়েছে আতঙ্ক ।
দাশুড়িয়া ইউপি’র ১নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র দাশুড়িয়া ডিগ্রী কলেজ। এ কেন্দ্রেও বিরাজ করছে ঠান্ডা উত্তেজনা। পিছিয়ে নেই ৭ নং ওয়ার্ডও । পাকশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডেও মেম্বার মেম্বারে হয়েছে মারধর ।
মুলাডুলি ইউপি’র ৮ নং ওয়ার্ড পতিরাজপুর মালিথাপাড়া ভোট কেন্দ্রেও রয়েছে ঝূঁকিপূর্ণ। রয়েছে এ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হওয়ার সম্ভাবনা।
নির্বাচনে ‘ফ্রি স্টাইলে’ চলছে আচরণবিধি লঙ্ঘন। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা। প্রার্থীদের গণসংযোগ থেকে পোস্টারিং কিংবা মাইকিং সব ক্ষেত্রেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে সংশ্লিষ্টরা যেন এক রকম নির্বিকার।
এভাবে চলতে থাকলে সামনে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে পরিস্থিতি- এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভোটারগণ ।
এখনই যদি প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলতে বাধ্য করা না যায় তাহলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যার ফলে নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আচরণবিধির ৭-এর ‘খ’ ধারায় রয়েছে, কোনো প্রার্থী পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা আগে তাহার স্থান এবং সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। যাতে ওই স্থানে চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবে চলছে তার উল্টো। রাস্তা বন্ধ করে এসব পথসভা করায় আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। কিন্তু এসব দেখতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ঠ কোনো কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। রয়েছে একই প্রার্থীর একাধিক অফিস যা অবৈধতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
আচরণবিধির ১৬-এর (ঘ)-তে বলা হয়েছে, কোনো সড়ক কিংবা জনগণের চলাচল ও সাধারণ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্থানে নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করিতে পারবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র পুরো উল্টো। এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেশির ভাগ নির্বাচনী প্রার্থী ফুটপাত, অনেক জায়গায় রাস্তা দখল করে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করেছেন। আচরণবিধির ২০-এ বলা হয়েছে, আচরণবিধিতে দুপুর ২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে বলে উল্লেখ আছে। শুধু তাই নয়, রাত আটটার পর কোনো প্রার্থী গণসংযোগও চালাতে পারবেন না। কিন্তু অনেক স্থানে দেখা যাচ্ছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইক বাজানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রচারও চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
তবে ভোটাররা বলছেন সংঘাত নয়, প্রতিযোগিতা থাকুক। সুষ্ঠু পরিবেশে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ভোটের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবেন তারা ।

সংবাদ শেয়ার করুন

সামসুজ্জামান(সেন্টু)আত্রাই (ন‌ওগাঁ) বিশেষ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মোঃ সুমন খাঁ ওরফে রাকিব (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে আত্রাই থানা পুলিশ। গ্রেফতার মোঃ সুমন খাঁ ওরফে রাকিব উপজেলার একই গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে। উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর নামক স্থানে ঘটনা ঘটেছে।

আত্রাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ক্ষিদ্র কালিকাপুর (ভাটোপাড়া) গ্রামে গত শনিবার গৃহবধূ মোছা পাখী বিবি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বাহির হওয়া মাত্রই বাড়ির পাশে উৎপেতে থাকা মোঃ সুমন খাঁ ওরফে রাকিব (১৯) ও তার সহযোগী মোঃ সিয়াম (২০) তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরের দিন রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল বেলা ভিকটিম বাদী হয়ে দুই জনকে বিরুদ্ধে আত্রাই থানার এজাহার দায়ের করে।

পরে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের অভিযুক্ত ১ নাম্বার আসামী মোঃ সুমন খাঁ ওরফে রাকিবকে আটক করে। সোমবার (২৯ নভেম্বর) তাকে কোর্টে সোপর্দ করে পুলিশ।

ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আত্রাইয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক-১

themesbazartvsite-01713478536