বদলে যাচ্ছে ধরনী, এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে!

বদলে যাচ্ছে ধরনী, এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে!

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, পৃথিবীতে থাকবে না কোনো প্রাণ। ২৪০ কোটি বছরেরও আগে পরিস্থিতি যে রকম ছিল পৃথিবী আবার ফিরে যাবে সেই অবস্থায়। পৃথিবী ভরে যাবে তখন অত্যন্ত বিষাক্ত মিথেন গ্যাসে।

বিভিন্ন তাত্ত্বিক মডেল খতিয়ে দেখে করা সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই অশনি সঙ্কেত দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘নেচার জিওসায়েন্স’-এ।

সূর্যের গা ঝলসে দেওয়া তাপে মহাসাগরের সবটুকু পানি উবে যাওয়ার আগেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে উবে যাবে শ্বাসের বাতাস। অক্সিজেন। ছিঁড়ে ফালাফালা হয়ে যাবে পৃথিবীকে চারপাশ থেকে মুড়ে রাখা ওজোন গ্যাসের চাদর। সব ধরনের সৌর বিকিরণ ও মহাজাগতিক রশ্মির হামলা থেকে যা বাঁচিয়ে রাখে আমাদের।
সৌর বিকিরণ আর মহাজাগতিক রশ্মি চুরচুর করে ভেঙে দেবে এই নীলাভ গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে। কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো যে গ্রিনহাউস গ্যাসের বাতাসে নির্গমনের মাত্রা বৃদ্ধিতে আমরা এখন যারপরনাই উদ্বিগ্ন, সেই গ্যাসই তখন আর থাকবে না বায়ুমণ্ডলে।
ফলে অক্সিজেন-নির্ভর প্রাণের পক্ষে টিকে থাকা যেমন সম্ভব হবে না, তেমনই অসম্ভব হয়ে পড়বে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণও। তাদের রান্নাবান্নার যাবতীয় প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

গবেষকরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের ঔজ্জ্বল্যের বাড়া-কমার প্রবণতা এবং তার প্রেক্ষিতে বায়ুমণ্ডলে কীভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ কমে-বাড়ে, সে সবের যাবতীয় তথ্যও বিশ্লেষণ করেছেন।
ভিনগ্রহে কী প্রকৃতির প্রাণের হদিস মিলতে পারে, সেই প্রাণ বেঁচে থাকে কোন কোন প্রাকৃতিক উপাদানের উপর নির্ভর করে তা জানার লক্ষ্যে নাসার একটি বিশেষ প্রকল্প ‘নেক্সাস ফর এক্সোপ্ল্যানেট সিস্টেম সায়েন্স’-এর অংশ এই গবেষণাটি।
দুই মূল গবেষক আমেরিকার জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভূবিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্রিস রেনহার্ড ও জাপানের তোহো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক কাজুমি ওজাকি দাবি করেছেন, এই পরিস্থিতি আসবে সূর্যের তাপে পৃথিবী জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যাওয়ার আগেই। সেই সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভরে যাবে শুধুই বিষাক্ত মিথেন গ্যাসে। যে গ্যাসে নির্ভর করে বাঁচতে পারে বিশেষ কয়েকটি অণুজীব। তখন মানুষ, অক্সিজেনের উপর নির্ভরশীল কোনও প্রাণী বা সালোকসংশ্লেষণে নির্ভর কোনো উদ্ভিদই আর টিকে থাকতে পারবে না পৃথিবীতে। ২৪০ কোটি বছরেরও আগে এমনই অবস্থা ছিল পৃথিবীর। এই গ্রহ আবার সেই পরিবেশে ফিরে যাবে। সেটা আর ১০০ থেকে ২০০ কোটি বছরের মধ্যেই হতে পারে।
গবেষকরা এও জানিয়েছেন, গবেষণার এই ফলাফল বুঝিয়ে দিচ্ছে, মিথেন বা অন্য কোনও গ্যাসনির্ভর প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে ভিনগ্রহের ভিনমুলুকে। এবার সেই ধরনের প্রাণের খোঁজ-তল্লাশের সময় এসে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর সূর্যের আলো প্রতিফলনের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, কয়েক দশক আগেও পৃথিবী যে পরিমাণ সূর্যের আলোর প্রতিফলন করে মহাকাশে পাঠিয়ে দিত, এখন প্রতিফলনের পরিবর্তে শুষে নিচ্ছে সেই আলোর অনেকাংশ।

জলবায়ু আর মেঘের সম্পর্কটা ভিন্ন। জলবায়ু পাজেলে মেঘের ভূমিকা অনন্য। বিজ্ঞানীরা বের করছেন আশঙ্কাজনক সব তথ্য। মেঘের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের কি প্রভাব, ভবিষ্যতে তা কেমন ভয়ংকর হতে পারে, সেসব নিয়ে চলছে গবেষণা। প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরের মেঘ নিয়ে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ‘আর্থশাইন’ নিয়ে বিজ্ঞানীদের দুই দশক ধরে গবেষণার ফলাফল ভালো দিকনির্দেশনা দিচ্ছে না।

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন, পৃথিবী কি পরিমাণ সূর্যালোক মহাকাশে পাঠাচ্ছে আর কতটুকু ধরে রাখছে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে আলোকরশ্মি মহাকাশে যায়। সমুদ্র খুব কম সূর্যালোক মহাকাশে পাঠায়। ভূপৃষ্ঠ তার চেয়ে দ্বিগুণ সূর্যের আলো পাঠায় স্পেসে। কিন্তু মেঘের ওপর যে পরিমাণ সূর্যালোক পড়ে, তার অর্ধেকই মেঘ ফেরত পাঠিয়ে দেয়। আর বরফের ওপরে পড়া সূর্যালোকের অধিকাংশই হিমশৈল বা বরফের সমুদ্র মহাকাশে পাঠিয়ে দেয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার বিগ বিয়ার সোলার অবজারবেটরির বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা ১৯৯৮ সাল থেকে পৃথিবীতে সূর্যালোক নিয়ে গবেষণা করছেন। তারা বলছেন, পৃথিবীর সূর্যালোক প্রতিফলনের ক্ষমতা প্রতিদিন কমছে। কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে সূর্যালোক প্রতিফলনের সক্ষমতা হারাচ্ছে পৃথিবী।

নাসার ক্লাউডস অ্যান্ড আর্থস রেডিয়েন্ট এনার্জি সিস্টেম প্রকল্প এই গবেষণা নিয়ে কাজ করছে ১৯৯৭ সাল থেকে। বিভিন্ন স্যাটেলাইটের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখছেন, গেল দুই দশকে পৃথিবীর সূর্যের আলো প্রতিফলনের ক্ষমতা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তার মানে প্রতি স্কয়ার মিটারে অর্ধেক ওয়াট করে কমেছে প্রতিফলন সক্ষমতা।

এর মধ্যে গেল ৩ মাসে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কমেছে সূর্যালোক প্রতিফলন সক্ষমতা। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ পরিমাণে কমেছে পৃথিবীর সক্ষমতা। এ সময়টায় পৃথিবীরও পরিবর্তন হচ্ছে তাই দ্রুতগতিতে। গলছে হিমশৈল, বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উষ্ণ হচ্ছে পৃথিবী। মেঘ এখন সূর্যালোক বেশি শোষণ করায় বাড়ছে সমুদ্রের উষ্ণতাও। আলো প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে যেতে না পারায় আটকে যাচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। বাড়ছে পৃথিবীর উষ্ণতা।

তথ্যসূত্র: আনন্দ বাজার।

সংবাদ শেয়ার করুন

সামসুজ্জামান(সেন্টু)আত্রাই (ন‌ওগাঁ) বিশেষ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মোঃ সুমন খাঁ ওরফে রাকিব (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে আত্রাই থানা পুলিশ। গ্রেফতার মোঃ সুমন খাঁ ওরফে রাকিব উপজেলার একই গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে। উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর নামক স্থানে ঘটনা ঘটেছে।

আত্রাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ক্ষিদ্র কালিকাপুর (ভাটোপাড়া) গ্রামে গত শনিবার গৃহবধূ মোছা পাখী বিবি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বাহির হওয়া মাত্রই বাড়ির পাশে উৎপেতে থাকা মোঃ সুমন খাঁ ওরফে রাকিব (১৯) ও তার সহযোগী মোঃ সিয়াম (২০) তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরের দিন রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল বেলা ভিকটিম বাদী হয়ে দুই জনকে বিরুদ্ধে আত্রাই থানার এজাহার দায়ের করে।

পরে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের অভিযুক্ত ১ নাম্বার আসামী মোঃ সুমন খাঁ ওরফে রাকিবকে আটক করে। সোমবার (২৯ নভেম্বর) তাকে কোর্টে সোপর্দ করে পুলিশ।

ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আত্রাইয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক-১

themesbazartvsite-01713478536