জাফলংয়ে মুক্তিযোদ্ধা ফারুকের দিন চলে এখন অটো বাইক চালিয়ে।

জাফলংয়ে মুক্তিযোদ্ধা ফারুকের দিন চলে এখন অটো বাইক চালিয়ে।

মোঃ নিজাম উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার সিলেটঃ
১৯৭৮সালে সুনামগঞ্জ থেকে প্রকৃতি কন্যা জাফলং দেখতে এসে বিয়ে করে দাম্পত্য ূ যান জাফলংয়ের লাখের পাড় গ্রামে শুকুর আলী ফারুক একসমায়ের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও কর্মঠ ঠছিলেন। টাকা-পয়সার ও কমতি ছিল না তাঁর সংসার জীবনে এখন তার কষ্ট হয় সংসার চালাতে এমন অবস্থা কষ্টের হানা যেন আঁকড়ে ধরেছে চারপাশ থেকে অটো বাইকের সাথে সংগ্রাম করে তার জীবন জীবিকা। ফজরের সময় মোয়াজ্জিনের আজান শুনে ভাঙ্গা কুটির থেকে বের হয়ে পড়েন জীবিকার সন্ধানে বাড়ি ফেরেন শিয়ালঢাকা সন্ধ্যারাতে। সারাদিনে অটো বাইক নিয়ে জীবিকার সাথে সংগ্রাম করে ২০০/৩০০ টাকা রোজগার করে কষ্ট করে চলে ছয়জনের সংগ্রামী জীবন১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের এক মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তার ভাগ্যে জুটেনি মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা সহ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা। তিনি হলেন১৯৭১ সালে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী ফারুক মিয়া। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার সদর থানার বিরামপুর গ্রামে সন্তান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী। ১৯৭৮ সাল থেকেই সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন পূর্ব জাফলংয়ের লাখের পাড় গ্রামে বিয়ে করে দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হন তিনি। তার সাথে একান্ত আলোচনায় জানা যায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ভারতের বালাট এলাকায় ইখওয়ান 1 থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের কমান্ডিং অফিসার মেজর মুসলিম উদ্দিন ও টু আইসি বিমান বাহিনীর ক্যাপ্টেন মাহফুজ ভূঁইয়ার অধীনে জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সহযোদ্ধাদের মত লড়াকু সৈনিক হয়ে দাঁড়ান পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সহযোদ্ধা আরও ১০ জনের নেয় তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে রাখেন অগ্রণী ভূমিকা। শত্রু মুক্ত দেশ স্বাধীন হলে পাড়ি জমান সিলেটের পূর্ব জাফলংয়ের লাখের পাড় গ্রামে। যার ফলে তৎকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক তালিকা ও মুক্তি ভাতা গেজেট অন্তর্ভুক্ত থেকে বাদ পড়েন তিনি। সশরীরে জীবন বাজি রেখে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ১১/৭/২০০৬ সালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে উত্তীর্ণ হয়ে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হন। যাচাই-বাছাইয়ের ক্রমিক নং২৯ তম হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স্মারক নং২০৫/২০১৩ তারিখ২৩/৪/২০১৩ উল্লেখ করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫০বছর পার হলেও তিনি সরকার বাহাদুর কর্তিক দেয়ার সকল সুযোগ সুবিধা থেকে রয়েছেন বঞ্চিত। সংসার চালাচ্ছেন কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি অটো বাইক চালিয়ে। শুকুর আলী ফারুক তার কান্না ভরা হৃদয় কন্ঠে এসব কথাগুলো বলতে গিয়ে মাটিতে ঢলে পড়ে যান। মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সমস্যার সমাধানে সরকারের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব রয়েছে। আশাকরি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়নে শিগগির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536