যারা জামানতের জন্য ঋণ পাচ্ছেন না, তাদের জন্য সরকারের উদ্যোগ

যারা জামানতের জন্য ঋণ পাচ্ছেন না, তাদের জন্য সরকারের উদ্যোগ

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

জামানত ছাড়া ঋণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের মর্টগেজ বা সিকিউরিটি ছাড়া ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোও বসে আছে। আর সেই ঋণের গ্যারান্টার হবে স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু প্রচারের অভাবে এই স্কিমের কথা জানেন না বেশিরভাগ ছোট উদ্যোক্তা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম (সিজিএস) ইউনিটের তথ্য এমনটিই বলছে।

গেলো বছরের এপ্রিলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের (সিএমএসএমই) জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। জামানত না থাকায় ওই সময় উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই ঋণ পাননি। সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যেন এই প্যাকেজ থেকে ঋণবঞ্চিত না হন সেই লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে ঋণের গ্যারান্টি দিতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ক্ষেত্রে যেসব ছোট উদ্যোক্তার জামানত দেওয়ার সক্ষমতা নেই, তাদের জামানতের ব্যবস্থা করেছে স্বয়ং কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য গত বছরের ২৭ জুলাই ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমও গঠন করা হয়। যে তহবিলের আওতায় আট হাজার ৩২০ কোটি টাকার ঋণের গ্যারান্টি দেওয়া হবে।

এই স্কিমের আওতায় ঋণখেলাপি হলে তার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এর আওতায় একজন উদ্যোক্তাকে ২ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করা ৩১টি প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও ফোন নম্বর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
২১ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনি কি একজন কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা? করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবে কি আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে? মর্টগেজ বা সিকিউরিটির অভাবে ঋণ বা বিনিয়োগ পাচ্ছেন না? আপনি কি একজন সিএমএস নারী উদ্যোক্তা? আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানতবিহীন ঋণ বা বিনিয়োগ পেতে কি গ্যারান্টির প্রয়োজন? তাহলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্পের (সিএমএস) জামানতবিহীন ঋণ বা বিনিয়োগ প্রাপ্তির জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা পেতে আজই আপনার নিকটস্থ পিএফআইভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

নিয়ম মেনে কোনও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এই সুবিধা নিতে চাইলে ব্যাংকের কাছে আবেদন করবেন। ব্যাংক সেই আবেদন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিজিএস ইউনিটের কাছে পাঠাবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী জামানতবিহীন ছোট ঋণের জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের অন্তত ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর সম্পৃক্ততা বাড়াতে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোর সিএমএসএমই খাতের মোট ঋণের অন্তত ১৫ শতাংশ তাদের মাঝে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। এখন এটা ৪ শতাংশ।

জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গ্যারান্টি স্কিম চালু থাকলেও বাংলাদেশে এটি নতুন। করোনার কারণে প্রচার না থাকায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এর বিষয়ে জানতেন না।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যাংকগুলোর যে নেটওয়ার্ক থাকার কথা সেটা নেই। যে কারণে এই ঋণ জনপ্রিয় হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাহক নিজে নির্বাচন করে ব্যাংক। আবার ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাকেই বাছাই করে ব্যাংক। এ কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত উদ্যোক্তা পাওয়া যায় না।’

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536