নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় শায়িত হলেন নৌদুর্ঘটনায় মৃত শিক্ষক আলমগীর হোসেন

নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় শায়িত হলেন নৌদুর্ঘটনায় মৃত শিক্ষক আলমগীর হোসেন

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

ফরিদপুরের খলিল মন্ডলের হাট সংলগ্ন নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় শিক্ষক আলমগীর হোসেন চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।

দাফনের পূর্বে রবিবার রাত প্রায় ১১ টায় মাধবদিয়া ইউনাইটেড হাই স্কুল মাঠে জানাজা নামাজ আদায় করা হয়। আর জানাজা শেষে বাড়ির সামনে আঙ্গিনায় আমতলার ছায়ায় খোড়া কবর হয়ে যায় শিক্ষক আলমগীর হোসেনের শেষ ঠিকানা।

মর্মান্তিক নৌডুবির শিকার আলমগীরের মরদেহ নিজগ্রামে নিয়ে আসলে নিজ এলাকায় ও শিক্ষক সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে। হাজারো মানুষের ঢল নামে তার বাড়ির আঙ্গিনায়।

এসময় পিতামাতা, স্ত্রী, শিশু সন্তান ও স্বজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

তার মরদেহ এক নজর দেখতে ও স্বজনদের সমবেদনা জানাতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য ও মান্যজন।

ফরিদপুরের জেলা পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান জানান,পুলিশ স্থানীয় এক সংবাদদাতার মাধ্যমে রবিবার দুপুর ১২ টায় শরিয়তপুরের জাজিরা থানায় একটি মরদেহ সন্ধান পান।

জাজিরা থানার নৌপুলিশ পদ্মা সেতুর ৫ নং পিলার নিকটবর্তী মাঝিপাড়া নামক এলাকা থেকে সেই মরদেহ উদ্ধার করে জাজিরা থানায় নিয়ে আসেন।

আলমগীর হোসেনের স্ত্রী জোবাইদা জেসমিন ( জেবা) জাজিরা থানায় গিয়ে আত্মীয় স্বজনদের উপস্থিতিতে স্বামীর মরদেহ সনাক্ত করেন।

পরবর্তীতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে আলমগীরের মরদেহ স্ত্রী জেবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাটে দুই শিক্ষক আলমগীর ও আজমল মর্মান্তিক নৌকাডুবির শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়ে যান।

আলমগীর হোসন ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। আজমল হোসেন ছিলেন সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গনিতের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক।

এসময় তাদের ১৪ জন শিক্ষকের একটি দল খলিল মন্ডলের হাট হতে নৌভ্রমণে বের হন। ফেরার পথে নদীর তীরেই সিএন্ডবি ঘাটে নৌকাটি স্রোতের টানে ডুবে পন্টুনের নীচে চলে যায়। অন্যান্য শিক্ষকদের স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উদ্ধার করতে পারলেও আজমল ও আলমগীর পদ্মার ঘোলা জলের পাকে তলিয়ে গিয়ে সলিল সমাধি হয়।

এক সপ্তাহ পরেই শিক্ষক আজমল হোসেনের লাশ উদ্ধার করেন জাজিরা থানা ও নৌপুলিশ। কিন্তু তখনো নিখোঁজ থাকে আলমগীরের মরদেহ।

দীর্ঘ ২৫ দিন পর জাজিরা থানায় মাঝিপাড়া এলাকার পদ্মা নদীতে ভেসে উঠা মরদেহ
সন্ধান পেয়ে স্ত্রী জেবা ও স্বজনেরা ছুটে আসেন জাজিরায়।

জাজিরা থানায় নারকেল গাছের পাশে ভ্যানের উপরে পলিথিন মোড়ানো স্বামীর হাতে পায়ের আঙ্গুল ও বুকের উপর জন্মদাগ দেখে আলমগীরকে সনাক্ত করেন প্রিয় সহধর্মিণী । এসময় জেবা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।
লাশ ফরিদপুরে এলে তার কর্মস্থল ‘ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে’ রাখা হয় দর্শনার্থীদের জন্য। সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আলমগীরের সকল সহকর্মী, ছাত্র, বন্ধু ও স্বজনেরা এখানে আসে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।
পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় তার অত্যন্ত প্রিয় নদীঘেরা সবুজ গ্রামের বাড়িতে। সেখানে জানাজা শেষে নিজ বাড়ির আঙিনায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536