পুলিশ সেজে ছিনতাই; আটক ৪, গাড়ী উদ্ধার

পুলিশ সেজে ছিনতাই; আটক ৪, গাড়ী উদ্ধার

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

ফরিদপুর জেলার মধুখালী-রাজবাড়ী, ফরিদপুর-মধুখালী হাইওয়ে সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলা পুলিশের পোষাক পড়ে দাঁড়িয়ে গাড়ী থামিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাই করতো তারা। পুলিশের পোষাকে ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি প্রাইভেটকার, ২টি খেলনা ওয়াকিটকি, ১ জোড়া হ্যান্ডকাপ, ১টি পুলিশের জ্যাকেট, ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল লাইট উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ১টি মাইক্রোবাস ও ছিনতাইকৃত ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

কোতোয়ালী থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায় কোতয়ালী থানা ফরিদপুর এর মামলা নং-৪০ তারিখ ১১/০৯/২০২১খ্রিঃ, ধারা-১৭০/৩৯৪ পেনাল কোড এর ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামী ১। জুয়েল রানা (৩১), পিতা-জাকির বিশ্বাস, সাং-বাগাট, থানা-মধুখালী, ২। বাবুল আক্তার (৪৩), পিতা-রবিউল আলম, সাং-কামারগ্রাম, থানা-আলফাডাঙ্গা, উভয় জেলা-ফরিদপুর ৩। ইমরান হোসেন (২৪), পিতা-রফিকুল ইসলাম, সাং-বাঁশবাড়ী কাইচাবাড়ী, থানা-আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা ৪। আশিক মৃধা (৩৭), পিতা-বাল্লুক মৃধা, সাং-আড়কান্দি, থানা-বালিয়াকান্দি, জেলা-রাজবাড়ীদের গ্রেফতার করার সময় তাদের কাছ থেকে ০১টি প্রাইভেটকার , ২টি কালো রংয়ের খেলনা ওয়াকিটকি, ০১ জোড়া হ্যান্ডকাফ, ১টি পুলিশের জ্যাকেট, ০১টি ইলেক্ট্রনিক সিগনাল লাইট, ১টি পুলিশের জ্যাকেট এবং ০১টি কাঠের লাঠি উদ্ধার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মোতবেক ১টি হায়েজ মাইক্রো উদ্ধার করা হয় যা ছিনতাই কাজে ব্যবহার করে ছিল। এছাড়া ছিনতাইকৃত মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ও অভিনব কায়দায় তৈল চুরি চক্রের ১ সদস্যসহ ১টি পিক আপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পুলিশের পোষাক পড়ে মহাসড়কে রাতের বেলা বিভিন্ন গাড়ী থামিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকাসহ মূল্যবান জিনিষপত্র হাতিয়ে নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিক্তিতে কোতয়ালী থানা পুলিশ শনিবার রাতে মধুখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েল রানা (৩১), বাবুল আক্তার (৪৩), ইমরান হোসেন (২৪) ও আশিক মৃধাকে আটক করে। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশের পোষাকসহ বিভিন্ন জিনিষপত্র উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, গত শুক্রবার রাতে আল আমিন নামের এক ডাকাতকে আটক করে পুলিশ।
আলামিনের জবানবন্দিতে উঠে আসে পুলিশের পরিচয়ে ছিনতাইকারী একটি চক্রের কথা। এরই সূত্র ধরে পুলিশ গোপনে নজরদারী করতে থাকে। পরে তাদের আটক করা হয়। জামাল পাশা জানান, আটককৃতরা পেশাদার ডাকাত।

আটককৃত জুয়েল রানার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে। অপর আসামী বাবুলের নামে ৭টি মামলা রয়েছে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536