এগিয়ে যাচ্ছে দেশ!

এগিয়ে যাচ্ছে দেশ!

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লাশ কবরে আছে কিনা তা নিয়ে চলছে বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সংসদের সমাপনী বক্তব্যে দাঁড়িয়ে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানের লাশের নামে চট্টগ্রাম থেকে একটি বাক্স সাজিয়ে গুজিয়ে আনা হয়েছে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কথা উঠছে। আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না। ৪০ বছর পরে নয়, জিয়াউর মৃত্যুর সংবাদের পরে তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। কয়েকদিন পরে একটি বাক্স আনা হলো। এখানে কেউ একটা বুদ্ধি দিয়েছে- আর জেনারেল এরশাদ তো এই বিষয়ে বেশি পারদর্শী। সাজিয়ে-গুজিয়ে একখানা বাক্স নিয়ে এসে দেখানো হলো। তিনি বলেন, ‘তখন এই পার্লামেন্টে বারবার প্রশ্ন এসেছে-যদি লাশ পাওয়া যায় তার ছবি থাকবে না কেন? লাশ শনাক্ত করেছিলেন মীর শওকত’।
আরেকটি মন্তব্য কিছুদিন আগে করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়। সেটি ছিল, জিয়াউর রহমান এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী মেজর (পরবর্তীতে লে. কর্নেল) জিয়াউর রহমান এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ অস্পষ্ট। তিনি কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন তার ভূমিকা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ছিল।

মাননীয় জননেত্রী বিনয়ের সাথে বলতে চাই ইতিহাস যেই বিকৃত করতে চাক না কেন, সেটা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয় না। বৈরী পরিবেশ কেটে গেলেই সত্য বেরিয়ে আসে। যেমন আপনার পিতার ক্ষেত্রে আপনি ক্ষমতায় আসার পরে জনগন অনেক কিছুই জানতে পেরেছে। তেমনি জিয়া বিরোধী শক্তি যখন ক্ষমতায় থাকবেনা তখন তার সম্বন্ধেও আরো অনেক তথ্য জানা যাবে। মার্চের ২৫,২৬,২৭ কোন দিন, কে, কি ভাষায় স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা করেছিলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কে কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন বা কে কোন ময়দানে যুদ্ধ করেছেন সবই ইতিহাসে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে। খেতাব প্রাপ্তদের তালিকা ও থাকবে। হয়তো আপনি, আমি বা আমরা থাকবো না। কারন নিরপেক্ষ সঠিক ইতিহাস তুলে আনতে কত সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
তবে জিয়া র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে মন্তব্য করার পরেই মুক্তিযুদ্ধকালীন অনেক কমান্ডার বিভিন্ন ফোরামে ও আলোচনায় তাদের মতামত জানিয়েছেন। যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতির বক্তব্য সঠিক প্রমানিত হয় না।
আর জিয়ার কবর নিয়ে করা মন্তব্য কি আসলেই ভব্যতার সীমা অতিক্রম করেছে কিনা তা ও নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
এই দুটি আলোচনাই জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি তার নিজের চারপাশের তোষামোদকারীদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে মন্তব্য করেছেন বলেই সবাই বিশ্বাস করেন।
মাত্র অল্প কয়েকদিন আগে এই তোষামোদকারীরা প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে বলিয়েছে যে আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রায় ৩০০ ঘর কেউ হাতুড়ি শাবল দিয়ে ভেঙেছে। প্রধানমন্ত্রী বলার সময় বুঝতেও পারেননি যে তাঁকে দিয়ে ঐ খারাপ লোকগুলো কত হাস্যকর একটা কথা বলিয়ে নিল।
ঐ তোষামোদকারী, তৈলবাজ লোকগুলো ঠিকই তাদের আখের গুছিয়ে নিলেও জনগনের নিকট হাসির পাত্র করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে।
আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থার বড় কিছু সমস্যার মধ্যে রয়েছে নেতাকে ঘিরে চাটুকারদের বলয়। এর কারনে জনতার এ্যাকশন রিএ্যাকশন গুলো নেতাদের কান বা চোখ পর্যন্ত পৌঁছে না। আর জনতার সঠিক রিএ্যাকশন জানতে না পারার কারণে নেতা সঠিক সিদ্ধান্ত ও নিতে পারেন না।
বাংলায় একটি প্রবচন রয়েছে- ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষন’। মাননীয় নেত্রী, একটু চোখ ঘুরিয়ে দেখুন, আপনার চারপাশে এমন অতিভক্তের অভাব নেই।
যাদের মূল কাজ ছিল দল ও সরকারকে এগিয়ে নেয়া হলেও তারা এমন সব কাজ করছে যাতে এগিয়ে যাওয়াতো দুরের কথা, সরকার ও দল দুটিই বিতর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চাটুকারিতা ও তোষামোদ এমন যেন শীল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে ‌।
এই ধরনের অতিচাটুকার বা তোষামোদকারীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেত্রী আপনার হাতেই। দেশবাসী আপনার পানেই এখনো চেয়ে রয়েছে।
আপনার পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনকারী এদেশের অবুঝ, অশিক্ষিত, অনগ্রসর জনগন আপনার দিকেই তাকিয়ে আছে। তাঁদেরকে সকল ধরনের বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন একমাত্র আপনিই।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536