কিছু লোক হাতুড়ি-শাবল দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙেছে : প্রধানমন্ত্রী!

কিছু লোক হাতুড়ি-শাবল দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙেছে : প্রধানমন্ত্রী!

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ।

অনেক কঠিন অভিযোগ। তাও সরকার প্রধানের কন্ঠ হতে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় লাখের মতো ঘর নির্মাণ করা হলেও মাত্র তিনশ ঘরে ত্রুটি ধরা পড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “কিছু লোক ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প’ র ঘর হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙে তা মিডিয়ায় প্রচার করেছে। যারা ঘর ভেঙেছে তাদের নামের তালিকাসহ তদন্ত প্রতিবেদন আমার হাতে রয়েছে।”
বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো, আমি যখন সিদ্ধান্ত নিলাম প্রত্যেকটা মানুষকে আমরা ঘর করে দেব, আমাদের দেশের কিছু মানুষ এত জঘন্য চরিত্রের, আমি কয়েকটা জায়গায় হঠাৎ দেখলাম যে ঘর ভেঙে পড়ছে, কোনো জায়গায় ভাঙা ছবি ইত্যাদি দেখার পর পুরো সার্ভে করালাম কোথায় কী হচ্ছে। সেখানে আমরা প্রায় দেড় লাখের মতো ঘর তৈরি করে দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৩শ ঘর (ভেঙেছে)- বিভিন্ন এলাকায় কিছু মানুষ নিজে থেকে গিয়ে হাতুড়ি-শাবল দিয়ে সেগুলো ভেঙে ভেঙে তারপর মিডিয়ায় সেগুলো ছবি তুলে দিচ্ছে। তাদের নামধাম এগুলো একদম এনকোয়ারি করে সবগুলো বের করা হয়ে গেছে। আমার কাছে যে পুরো রিপোর্টটা আছে। মানে গরিবের জন্য ঘর করে দিচ্ছি, তারা এইভাবে যে ভাঙতে পারে, সেই ছবিগুলো দেখলে, দেখা যায়।

ঘর ভেঙে পড়ার পেছনের কারণ মিডিয়া অনুসন্ধান করেনি অভিযোগ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘মিডিয়া এগুলো ধারণ করে প্রচার করে, তারা কিন্তু এটা কিভাবে হলো সেটা খোঁজে না।’
তদন্তে ৯টি জায়গায় দুর্নীতি পাওয়া গেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কয়েকটা জায়গায় পাওয়া গেছে, যেমন এক জায়গায় ৬০০ ঘর, সেখানে হয়তো ৩/৪টা ঘর, ওই যে প্রবল বৃষ্টি হলো, সে সময় মাটি ধ্বসে কয়েকটা ঘর নষ্ট হয়েছে। মাত্র ৯টা জায়গায় আমরা পেয়েছিলাম, যেখানে কিছুটা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, মাত্র ৯টা জায়গায়।’

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি যে প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। তারা মনে করেছে, যাদের অফিসারদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আমাদের ইউএনও-ডিসি সমস্ত কর্মচারীরা ছিল, তারা কিন্তু অনেকে নিজেরা এগিয়ে এসেছে এই ঘরগুলো তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘যারা ইট তৈরি করে তারাও এগিয়ে এসেছে, অল্প পয়সায় তারা ইট দিয়ে দিয়েছে। এভাবে সবাই। সবার সহযোগিতা, আন্তরিকতাটাই বেশি। কিন্তু এর মধ্যে কিছু দুষ্ট বুদ্ধির ছিল, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে কষ্টকর। যখন এটা গরিবের ঘর সেখানে হাত দেয় কিভাবে।’

নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যা-ই হোক, আমরা সেগুলো মোকাবেলা করেছি, তবে আমাদের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকা দরকার।’

এপর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে ভাঙ্গা ঘরগুলোর ছবি মিডিয়ায় এসেছে তাতে কিন্তু প্রমানীত হয় না যে সেগুলো হাতুড়ি শাবল দিয়ে ভাঙা। বরং বেশিরভাগই মনে হয় ত্রুটিপূর্ণ নির্মানের কারনেই এমনটি হয়েছে। আরো একটি বিষয়, বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিনে দেখা গেছে আবাদি জমির উপরেই প্রকল্পের ঘর তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর গুলি সংলগ্ন রাস্তা থেকে ২/১ ফুট উঁচু। অর্থাৎ প্রকল্পের ঘর গুলি পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে ৪/৫ ফুট নিচু। কোথাও কোথাও ঘরগুলোতে পানিবন্দি থাকার জন্য বণ্যার প্রয়োজন পড়বে না, সামান্য বৃষ্টিই যথেষ্ট।
এই উপলক্ষে মনে পড়ে যখন বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়ঙ্করতম ভবনধ্বসের ঘটনা (রানা প্লাজা) ঘটে তখন একজন উচ্চ শিক্ষিত প্রাক্তন আমলা মন্ত্রী বলেছিলেন যে ‘বিরোধী দলের লোকজন ধাক্কা দিয়ে ঐ বিল্ডিং ফেলে দিয়েছে’।

যারা পাইকারিভাবে রিপোর্ট দিয়ে দিল যে হাতুড়ি শাবল দিয়ে ঘরগুলো ভাঙা হয়েছে, তাদের বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারন এরা যতই আপনাকে ভুল বোঝানোর চেস্টা করুক না কেন, ভুক্তভোগীরা কিন্তু সত্যিটা ঠিকই জানে। একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা – ব্যবসায়ী মিলে সরকারের শুভ কাজগুলির ফলাফল নিজেদের পকেটে পুড়ছে অপরদিকে সরকারের বদনাম হচ্ছে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536