‘পরী মনি’ গং কড়চা

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ।

আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব।।
বুধবার বিকালে এ চিত্রনায়িকার বাসায় অভিযান চালানো হয়।
সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করে। পরীমণি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় নিশ্চত হওয়ার পর দরজা খুলেদেন। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়। বুধবার বনানীর বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা, এলএসডি, আইস ও বিভিন্ন প্রকার মাদকসহ আটক হন পরীমণি। মামলার প্রেক্ষিতে পরীমনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

পরীমণির কথিত মা চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘পরীমনির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। তার সঙ্গে যে সব আলাপ হতো তার সবই কাজভিত্তিক। তুমি কেমন আছ, তুমি খেয়েছ কি না, তোমার শরীর কেমন, আমাদের এই নাটকটি কেমন হয়েছে – এসব বিষয়ে সব সময় কথা হয়েছে। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে পরীমনি আমার সঙ্গে কোনোদিনই আলাপ করেনি। আর আমিও যেচে পড়ে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাইনি। জানতেও চাইনি।’
গ্রেফতার পরীমনির আইনি লড়াইয়ে তিনি পাশে থাকবেন কি না সাংবাদিকের সেই প্রশ্নে বিষয়টি এড়িয়ে যান এই নাট্যনির্মাতা।

উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন পরীমনির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে- সব সময় এমনটাই মনে করতেন তার ‘প্রথম স্বামী’ কেশবপুরের ফেরদৌস কবীর সৌরভ।
তুহিন সিদ্দিকী অমির সঙ্গে গত এপ্রিলে দুবাই যান চিত্রনায়িকা পরীমণি। ওই সফরে তিনি অবস্থান করেন দুবাইয়ের সবচেয়ে অভিজাত ‘বুর্জ আল খলিফা’ টাওয়ারের হোটেল আরমানিতে। টানা সাত দিন অভিজাত হোটেলে ‘অ্যাম্বাসেডর স্যুটে’ অবস্থান করেন। এই অ্যাম্বাসেডর স্যুটের ভাড়া হিসেবে একেকটা স্যুটের জন্য প্রতিদিন গুনতেন এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
জানা গেছে, এধরনের প্লেজার ট্যুরে প্রায়ই বিদেশ যেতেন পরীমণি। তার সফরসঙ্গী হতেন দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা কিংবা ক্ষমতাবান কোন নেতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরী সিন্ডিকেট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পার্টির নামে যৌনতা ও মাদকের আসর বসাত। এই সকল আসর থেকে টার্গেট করা লোকদের গোপন শ্পর্ষকাতর ভিডিও করে পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে চলত ব্ল্যাকমেলিং। দফায় দফায় হাতিয়ে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা।
পরীর বেশিরভাগ পার্টির আয়োজনের দায়িত্বে থাকতেন নজরুল ইসলাম রাজ এবং তার কথিত মামা দিপু। আর পরীর সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালীর ট্যুরের আয়োজন করে দিতেন চয়নিকা চৌধুরী।(সূত্র-ইনকিলাব)

পরীমণি র বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। মাদক রাখা, ব্যবহার করা ও ব্যবসা করা। ব্লাকমেইল করা। পর্ণোগ্রাফি। অবৈধ অর্থ উপার্জন। আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন খরচ। অসামাজিক কার্যকলাপ এর মাধ্যমে সমাজের অবক্ষয় সৃষ্টি ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক।

আল্লাহর একজন নাদান বান্দা হিসাবে আমার একটি প্রশ্ন চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল
শিখে এসেছি যে ‘একহাতে কখনো তালি বাজে না’। একটি হাতের সঙ্গে তালি বাজানোর জন্য অন্য একটি হাত দরকার। তো সেই অন্য হাতটি এখনো খুঁজে পাওয়া যায় নি। পরীমণি যখন ৩+ কোটি টাকার গাড়ি কেনেন সেখানে আরো একটি হাত ছিল। তিনি যখন মাদকের ব্যবসা করতেন সেখানে আরো একটি হাত ছিল। তিনি যখন পৃথিবীর সবচেয়ে খরুচে হোটেলে প্লেজার ট্রিপে যান সেখানে ও আরো একটি হাত ছিল। তিনি যখন ব্লাকমেইল, পর্ণোগ্রাফি বা অসামাজিক কার্যকলাপ করেন তখনো নিশ্চিতভাবেই সেখানে আরো একটি করে হাত থাকার কথা। প্রশ্নটা সেখানেই।
এই অন্য হাতকে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ এত দূর্বল তা আমরা মনে করি না।
পরীমণি বা এই ধরনের মেয়েরা খারাপ। মেনে নিলেও আমরা তাদের অন্য হাতটি কে দেখতে পাইনা কেন। যারা এদের কাছ থেকে মাদক নেয়, লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্লেজার ট্রিপে নিয়ে যায়, কোন অসামাজিক কাজ করে পরবর্তীতে ব্লাকমেইলিং এর শিকার হয় এরা আর যাই হোক মান, সম্মান, ইজ্জত এর অধিকারী বলে আমি বিশ্বাস করি না। আর যাদের যা নেই সেটা আবার হারানোর ভয় থাকে কি ভাবে?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয় নিবেদন এই সকল সম্মান, মর্যাদা বিহীন পয়সাওয়ালা ও ক্ষমতাবানদের নামগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করে তাদেরকে চিনতে জনগনকে সহযোগিতা করুন। নয়তো বাজারে এমন কথাও প্রচলিত রয়েছে যে “পাপিয়া, হেলেনা, পিয়াসা, মৌ , পরীমণি গং রা এখন পুরোনো হয়ে গেছে তাই নতুনদের জায়গা করে দিতেই এদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে”।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536