ভারতের পশুর পাশাপাশি মানুষে সয়লাব কসবার নয়ন পুর গরুর বাজার-

ভারতের পশুর পাশাপাশি মানুষে সয়লাব কসবার নয়ন পুর গরুর বাজার-

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতাঃ-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে জেলার কসবা উপজেলার নয়ন পুর । ওই এলাকার ঠিক পাশেই ভারতীয় সীমানা, দূরত্ব মাত্র দুই তিন কিলোমিটারে। সেখানকার মাদলা নামে একটি সীমান্ত দিয়ে গরু নামানোর খবর বেশ পুরোনো। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে গরু ভারত থেকে আনা হয় বলে এ নিয়ে লেখালেখি কিংবা বলাবলিতেও কাজ হয় না।
তবে সময় এখন ভিন্ন। অতিমারি করোনায় থমকে আছে বিশ্ব। করোনা থেকে মুক্তি পেতে নেয়া হচ্ছে নানামুখী পদক্ষেপ। বাংলাদেশের জন্য এখন দুশ্চিন্তার কারণ করোনার ভারতীয় ধরণ। কিন্তু এ দুশ্চিন্তা যেন আমলে নিচ্ছেন না কসবার গরু ব্যবসায়িরা।
জেলার অন্যতম গরুর বাজারে নয়ন পুর এখন প্রতিনিয়িতই পশুর পাশাপাশি আসছে ভারতীয় মানুষ। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। যদিও ভারতীয়দের ঠেকাতে সেখানে কোনো ধরণের উদ্যোগ বিন্দুমাত্র লক্ষ্য করা যায়নি।

এদিকে অভিযোগ আছে, কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবনের প্রভাবে এ হাট নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। ইজারার আড়ালেও রয়েছেন তিনি। গত ৭ জুলাই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবার অভিযোগ হলেও কোনো ধরণের ব্যবস্থা নেয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে ও সরজমিনে ঘুরে জানা গেছে, মূলত প্রতি বৃহস্পতিবার এ হাট বসার অনুমতি রয়েছে। তবে বছর ‍জুড়ে বৃহস্পতিবারের পাশাপাশি রবিবার দিন এখানে পশুর হাট বসে। ঈদকে সামনে রেখে এক সপ্তাহের জন্য ২৪ ঘন্টার হাট বসানো হয়েছে। হাটে স্বাস্থ্য বিধির একেবারেই বালাই নেই বললেই চলে। ইজারাদারও এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। শুধুমাত্র মাইক দিয়ে মাঝে মাঝে বলে দায় সারছেন।
নয়ন পুর বাজার থেকে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে সকাল থেকেই সেখান থেকে গরু আসতে শুরু করে। দু’একটি গরু হলে হাঁটিয়ে ও বেশি গরু হলে ছোট ছোট পিকআপ ভ্যানে করে আনতে দেখা গেছে। গরু আনার সময় কথা হলে অনেকেই স্বীকার করেন যে এগুলো ভারতীয়। কেউ কেউ ইদানিং কিনে এনেছেন বা কেউ কেউ আগে থেকে কিনে বাড়িতে রেখেছেন বলে জানান।
হাটে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, ভারত থেকে এখানে গরু আসে জেনেই ছুটে এনেছেন। এ হাটে তুলনামূলক কম দামে গরু পাওয়া যায় বলে ছুটে আসা। তবে ভারতীয় লোকজন আসার বিষয়ে তারা জানেন না। হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই বলে তারাও স্বীকার করেন। ইজারাদার সোহেল রানা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা ইউএনও সাথে আলাপকালে উনি বলেন কেউ এ ধরনের সুবিধা পাবে না আমি ভালোভাবে এ বিষয়টা মেসেজ করে বলে দিয়েছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনরকমে ইন্ডিয়ান গরু আনা সুবিধা নাই। বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরু বেচাকেনা করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে আমারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি অতএব স্বাস্থ্য বিধি না মেনে কোন ক্রেতা-বিক্রেতা বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না এবং গরু বিক্রি করতে পারবে না এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536