নোয়াখালী আওয়ামীলীগের কমিটিতে পরিবর্তনের আভাস-

নোয়াখালী আওয়ামীলীগের কমিটিতে পরিবর্তনের আভাস-

মোঃ সামছু উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি:-

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পরিবর্তনের আভাস শোনা যাচ্ছে। জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা। নোয়াখালী আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিতে কে কে আসছেন তাই নিয়ে দিনভর চলে জল্পনা-কল্পনরা।গত এক সপ্তাহ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পরিবর্তন করে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের স্থলে ৭১ এর রণাঙ্গনে জেলা বিএলএফ কমান্ডার মাহমুদুর বেলায়েতকে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একরামুল করিম চৌধুরীর স্থলে নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌরমেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন নাম শোনা গেলেও তৃতীয় কেউ ও চলে আসতে পারে।সভাপতি পদে আলোচনায় নীরবতা দেখা গেলেও জেলাজুড়ে সাধারণ সম্পাদক পদে শহিদ উল্যাহ খান সোহেল ও অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন নাম সরব আলোচনায় রয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পরিবর্তনের আভাসটি টক অব দ্যা টাউন নোয়াখালীতে পরিণত হয়েছে।বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জানা যায়, ২৮ জুন সোমবার নোয়াখালী আওয়ামী লীগের চলমান সংকটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সাক্ষাতের পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পরিবর্তনের আভাস প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিগত সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল সেক্রেটারী পদ অলংকৃত করছেন এমনটাই জানান দিচ্ছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। তার সমর্থকরা বলছেন, আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে ত্যাগী ও কারা নির্যাতিত হামলা-মামলার শিকার তুখোড় ক্যারিশমা ছাত্রনেতা সোহেল নোয়াখালী আওয়ামী লীগকে জাগিয়ে তুলেছেন। তাই সোহেলের প্রতি দলীয় হাইকমান্ডের সুদৃষ্টি রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তিনিই হচ্ছেন। বর্তমান সরকারের আমলে প্রথম সংসদ নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ২টি ও পরবর্তী নির্বাচনে ৬টি আসনই আসে আওয়ামী লীগের দখলে। জেলায় যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সব অঙ্গসংগঠনের কাজে জোয়ার আসে। জেলায় আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জেলায় ও উন্নয়নের জোয়ার আসে। দলীয় কর্মকান্ডে চেইন অব কমান্ড ফিরে আসে।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অধ্যক্ষ খারুল আনম চৌধুরী সেলিমকে সভাপতি ও এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এক সময়ে একরামুল করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন বর্তমান শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উল্যাহ খান সোহেল। ২০১৯ সালের ওই সম্মেলনকে ঘিরে একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে শহিদ উল্যাহ খান সোহেলের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। যে কারণে সম্মেলনের দিন এ দুই গ্রুপে জেলা শহরে সংঘর্ষ, গোলাগুলিতে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী রক্তাক্ত জখম হয়। উক্ত ঘটনায় এমপি গ্রুপ ও মেয়র গ্রুপের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মামলা হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে দলীয় প্রধানের দপ্তরে জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পুর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হলে জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান দলীয় সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা।এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে কাদের মির্জা তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অ-পরাজনীতি, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য ও লুটপাটের অভিযোগ এনে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের স্থান না হওয়া নিয়েও বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে তিনি তার বড় ভাই ওবায়দুল কাদের, ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী, আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী ও এমপিদের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।কাদের মির্জার এই বক্তব্যের পরপরই জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর কয়েকদিন পর নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার ফেসবুক এ্যাকাউন্টে লাইভে এসে ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সদস্য হিসাবে আখ্যায়িত করে কয়েকদিনের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি দেওয়া না হলে তিনি এটা নিয়ে আন্দোলন শুরু করবেন বলে মন্তব্য করেন।কাদের মির্জা ও একারমুল করিম চৌধুরীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দ্বন্ধ প্রকাশ্যে আসে। কাদের মির্জার বিচার ও মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার চেয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন।কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির ও সিএনজি শ্রমিক আলা উদ্দিন। এ নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।এসব ঘটনায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে। দলের নেতাকর্মীরাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছেন। সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।তারা বলছেন, দুই নেতার দ্বন্ধের বলী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই দুই নেতার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য ও কর্মসূচি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে। খুব শিগগির এর অবসান করা না হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ দলীয় কর্মকান্ডে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536