ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাখের অধিক গরু প্রস্তুত, বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন খামারিরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাখের অধিক গরু প্রস্তুত, বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন খামারিরা

মো. আল আমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতি বছরই কোরবানির ঈদের পশুর বাজারগুলো জমজমাট হয় উঠে অন্তত ১৫ -১৬ দিন আগে। সেই অনুযায়ী এবারও কোরবানির পশু বিক্রি করতে শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারিরা। ইতোমধ্যে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রয়ের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে পশু বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খামারিরা। জেলার প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গবাদি পশুর খামার রয়েছে ১২ হাজার ৩৭০টি। এসব খামারে কোরবানির জন্য এক লাখ ৭৭ হাজার পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার। ১২ হাজার খামারের মধ্যে একটি হলো-শহরের দাতিয়ারায় রূপচান্দ বিবি ডেইরি খামার। এই খামারটিতে শতাধিক দেশীয় গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারটিতে ১২ জন শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছেন। এই খামারের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের খামারে কোরবানির গরু ছাড়াও গাভী রয়েছে। শ্রমিকরা গরুগুলোকে তিন বেলা খাবার দিচ্ছে ও গোসল করাচ্ছে। খামারটিতে অনেক টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। দেশের যে পরিস্থিতি, করোনার কারণে আমরা চিন্তিত কীভাবে গরুগুলো বিক্রি করব। যদি এইবার হাট না বসে তাহলে অনেকটা লোকসান গুণতে হবে। দক্ষিণ পৈরতলার তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত আলী আযম ডেইরি খামার। এই খামারে বড়-ছোট মিলিয়ে প্রায় ৪০টির মতো গরু রয়েছে। রয়েছে মহিষ ও গাড়ল। এই খামারে সর্বোচ্চ গরুর মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। প্রতি বেলায় পাঁচজন শ্রমিক খামারটিতে কাজ করেন। এই খামারে প্রায় ৩০ বছর যাবত কাজ করছেন তাজু মিয়া। তিনি বলেন, ‘গরুগুলোকে তিন বেলা খের, ঘাস, চিটা গুড়, খৈল, ভুষি দেয়া হয়। গতবছর করোনার মাঝেও পশুর হাট বসেছিল। কিন্তু এবার ঈদের আগে যে পরিস্থিতি, তাতে হাট না বসলে মালিকের অনেক টাকা লোকসান হবে। খামারটির মালিক আলী আযম বলেন, ‘ঈদের ৬ মাস আগে থেকেই পশুগুলোকে যত্ন সহকারে লালন-পালন করা হয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এইবার গরু কম তুলেছি। দেশের যে অবস্থা মহামারিতে সব খামারিরা একটা আতঙ্কের মাঝে রয়েছে। ঈদের আগে পরিস্থিতি কোন দিকে রূপ নেয় তা নিয়ে সংশয়ে আছি। এখন আমাদের দিক বিবেচনা করে সরকারের একটা পরিকল্পনা নিতে হবে। জেলা শহরের উত্তর পৈরতলার কাউসার এগ্রো ফার্ম। এই ফার্মটির মালিক শিল্পপতি কাউসার আহমেদ। খামারটির দায়িত্বে আছেন হাজী জালাল উদ্দীন। এই খামারে জেলার বড় বড় গরু রয়েছে। এখানে সর্বোচ্চ ১০ লাখ থেকে সর্বনিম্ন দুই লাখ টাকার গরু রয়েছে। রয়েছে ফাইটার, খাসা, শাহিওয়াল, হারিয়ানা, নেপালি প্রজাতির ষাঁড় ও বলদ। হাজী জালাল উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের খামারে এইবার কম গরু তুলেছি। তবে সবগুলো গরুই আকর্ষণীয়। খামারের বড় দুইটি বলদ রয়েছে, যা জেলার মধ্যে উচ্চতায় সবচেয়ে বড়। যার একটির উচ্চতা সাড়ে ৭ ফুট ও প্রশস্ততা ১১ ফুট। লাইভ ওয়েট আছে প্রায় ১৪০০ কেজি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনলাইনে গরুগুলো বিক্রয়ের প্রচারণা চালাচ্ছি। কিন্তু বাজারে দরদাম করে বিক্রয়ে আরও সুবিধা হয়। অন্যান্য বছর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা গরু কিনতে আসতেন খামারে। এই বছরের করোনার কারণে আসতে পারছেন না। যদি হাট নাও বসে আমরা যেন গরুগুলো বিক্রয় করতে পারি সরকার একটা ব্যবস্থা করে দেবে প্রত্যাশা করছি। এ বিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুজ্জান বলেন, ‘এই বছর কোরবানির ঈদকে ঘিরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পশু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রস্তুত রয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত আরও ১৩-১৪ হাজার পশু থাকবে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও আমরা খামারিদের অনলাইনে পশু বিক্রি করতে উৎসাহিত করছি। আমাদের ফেসবুক পেজ রয়েছে। সেখানে খামারিরা পশুর ছবি দিচ্ছেন। গত বছর প্রায় ৬০ শতাংশ পশু অনলাইনে বিক্রয় হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536