বাংলাদেশের “রাজস্ব হিরো” অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা। Darpon TV

বাংলাদেশের “রাজস্ব হিরো” অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা। Darpon TV

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

বাংলাদেশের রাজস্ব হিরো ফরিদপুর এর চরভদ্রাসন এর সন্তান।

সম্প্রতি ফেসবুক, অ্যামাজন, গুগল, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, মাইক্রোসফট কোম্পানি গুলো বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধনে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে অন্য সব কোম্পানি গুলোকে ভ্যাট এবং ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশে বন্ধ হবে ব্যবসা। কিন্তু কয়েক যুগ ধরে এসব কোম্পানির ট্যাক্স এবং ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার মহোৎসবের ইতি টানার গল্পটা বেশ লম্বা এবং চাঞ্চল্যকর।

বাংলাদেশের বিদ্যমান ভ্যাট আইন এবং আয়কর আইন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান অবশ্যই ভ্যাট এবং কর প্রদানে বাধ্য। কিন্তু তারা কোনটাই দিতে আগ্রহী ছিল না। যুগের পর যুগ ভ্যাট এবং ট্যাক্স ফাঁকি। তাদেরকে টাকা পরিশোধ করা হতো হুন্ডির মাধ্যমে। পাচার হত হাজার হাজার কোটি টাকা।

২০১৮ সাল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়েরের মাধ্যমেই গল্পের শুরু।

এই বিস্ময়কর রাজস্ব যাত্রার কান্ডারী ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব । তিনিই আজ আমাদের বাংলাদেশের “রাজস্ব হিরো”!
ব্যারিস্টার পল্লব গুগল-ফেসবুক, অ্যামাজন, ইউটিউব, ইয়াহু সহ সকল কোম্পানিগুলিকে ট্যাক্স এবং ভ্যাট এর আওতায় আনার জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর ৫২২৭/২০১৮) মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পরে হাইকোর্ট বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় বৃহৎ স্বার্থ বিবেচনা করে তৎক্ষণাৎ একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুগান্তকারী আদেশ দিয়ে সবাইকে ট্যাক্স এবং ভ্যাট এর আওতায় আনার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন এবং রুল জারি করেন ২০১৮ সালে।

২০২০ সালে দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শুনানির পর জারিকৃত রুলটি যথাযথ ঘোষণা করেন এবং সকল ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ট্যাক্স ভ্যাট আদায়ের রায় ঘোষণা করে। একই সাথে বিগত পাঁচ বছরে গুগল-ফেসবুক অ্যামাজন সহ সকল অনলাইন এবং ইন্টারনেট কোম্পানি গুলি বাংলাদেশ থেকে কী পরিমান টাকা আয় করেছে তা নিরুপন করে উক্ত টাকার উপর বকেয়া রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ দেন । এনবিআরকে প্রতি ৬ মাস পরপর হলফনামা আকারে কোর্টে হালনাগাদ তথ্য এবং তাদের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানোর নির্দেশ দেন আদালত।
শুরু হয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তৎপরতা! ইতিমধ্যেই অধিকাংশই বড় কোম্পানিগুলো ভ্যাট নিবন্ধন করতে বাধ্য হয়েছে এবং অচিরেই ট্যাক্স নিবন্ধন ও তাদেরকে করতে হবে।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী এইসব কোম্পানিকে ভ্যাট এবং ট্যাক্স এর আওতায় আনা গেলে বাংলাদেশের প্রতিবছর এই খাত থেকে রাজস্ব আয় হবে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার উপরে !
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র (২০১৯ সাল) অনুযায়ী ফেইসবুক বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর আয় করে অন্তত ১২০০০ কোটি টাকা ! গুগলের আয় আরো একটু বেশি । এছাড়াও রয়েছে অ্যামাজন, ইয়াহু, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, আলিবাবা সহ বহু ইন্টারনেট ভিত্তিক কোম্পানি। এইসব অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ কোম্পানিকে প্রায় ৩০% ভ্যাট এবং কর প্রদান করতে হয়।
চলমান পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে আমাদের “রাজস্ব হিরো”র দায়ের করা রিট মামলায় হাইকোর্টের ঘোষিত রায় টি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী ৩ বছর পরে শুধু এই খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব দিয়েই একই মানের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব।

শুরুটা বাংলাদেশের । তবে ঢেউ লেগেছে বিশ্ব দরবারেও । এসব কোম্পানিগুলোকে গুনতে হবে শতকরা ১৫% কর্পোরেট ট্যাক্স ! ইতিমধ্যেই জি-৭, জি-২০ রাষ্ট্রগুলো এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ।
বাংলাদেশের দেখানো পথেই হাঁটছে সারা বিশ্ব।

এই অর্জন শুধু ব্যারিস্টার পল্লবের নয় । এ অর্জন বাংলাদেশের ।
অভিনন্দন ! বাংলাদেশের “রাজস্ব হিরো” ব্যারিস্টার পল্লব ! এমন বিরল নিরেট দেশপ্রেমিক আইনজীবী আরো জন্ম হলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ। সাব্বাস ব্যারিস্টার পল্লব।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536