ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিন হাসপাতাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত

ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিন হাসপাতাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ।

ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) নেয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিএসএমএমইউ ছাড়পত্র দেয়ার পর সেখান থেকে রফিকুল আমীনকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। ‘অসুস্থতার কথা বলে’ প্রায় তিন মাস এই হাসপাতালের প্রিজন সেলে ছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে এর আগে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একাধিকবার জুম মিটিং করেছেন আলোচিত ব্যবসায়ী ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন। ইন্টারনেট সংযোগসহ তাকে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে ১৭ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে চারজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকি ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন একাধিকবার জুম প্লাটফর্মে মিটিং করেন। কারাবন্দী হয়েও জুম মিটিংয়ে অংশ নেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে বসে রীতিমতো ইন্টারনেট ব্যবহার করে জুম মিটিংয়ে অংশ নেয়ার বিষয়টিতে কারা কর্তৃপক্ষ বিব্রত হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মোমিন দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় কারা অধিদফতর থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা বিভাগীয় কারা উপমহাপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলামকে। এ ছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে নারায়ণগঞ্জের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম ও সদস্য হিসেবে মুন্সীগঞ্জের জেল সুপার নুরনবী ভূঁইয়া রয়েছেন। কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে যেসব কারারক্ষী পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের মধ্যে ১৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা প্রশাসন। বাকি ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ডেসটিনির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ২০১২ সালে গ্রেফতার হন এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রফিকুল আমীন। গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা দুইটি মামলা এখনো বিচারাধীন। ২০১৩ সালে আদালতের এক নির্দেশে ডেসটিনির নামে থাকা বিপুল সম্পদ জব্দ করে পুলিশকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এই বিষয়ে ডেসটিনি র পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয় যে রফিকুল আমীনের বিরুদ্ধে সক্রিয় গ্রুপের মিজানুর রহমান তার সঙ্গীদের নিয়ে জুম মিটিং করেন এবং এর সাথে রফিকুল আমীনের ছবি জুড়ে দিয়ে এই ঘটনার জন্ম দেয়।

সংবাদ শেয়ার করুন

ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সাজানো মিথ্যা মামলায় ফেলে এক নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে-নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা কয়াগোলাহাট ঘোনপাড়া এলাকায়৷ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৭৯ বছর পূর্বে বসতি স্থাপন করে স্থানীয়রা রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করে আসছি৷ সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ এসে রাস্তা খুলে দিলেও পুলিশ চলে যাবার পরে রাস্তাটি পুনরায় বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তী স্থানীয়দের সহোযোগিতায় বাড়ির বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও গত ২৬র্মাচ এ বিকল্প চলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়া হয় । এতে বাধা দিলে সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাই আজিজুল হক ও শফিকুল ইসলামের পরিবার এ-র উপর আতর্কিত হামলা করে বাড়ী ঘরের বেড়া, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে ধারালো অস্ত্রসহ(হাচুয়া,বটি,দা) লোহার মোটা পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে প্রতিপক্ষ সিরাজুলরা। আহতদের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়া হয় (ওসিসি বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিরাজুল ও শফিকুলদের আসামী করে সৈয়দপুর থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবারটি৷ এদিকে, মামলাটি থানায় দেয়ার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটির উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকি বিদ্যমান রেখেছে প্রতিপক্ষ৷ ভুক্তভোগী পরিবারের আতিয়ার রহমান খোশো বলেন, আমি রংপুর বিভাগের রংপুর বীর উত্তম শহীদ সামাদ স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিষয়ক সহকারী শিক্ষক । ঘটনার দিন আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, এই মর্মে প্রতিষ্ঠান প্রিন্সিপাল মহোদয় প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করেন। শফিকুলেরা অপরাধ সংঘটিত করে আগেই মামলা দায়ের করেন৷ আমি উপস্থিতি না থাকলেও আমাকে আসামির শ্রেনীভুক্ত করা হয়েছে৷ এমনকি, সৈয়দপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আমার কল রেকর্ড আছে এবং ঐ কল রেকর্ড ট্রাকিং করে দেখা গেছে আমি ঐদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৬ শেষ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে যুক্ত ছিলাম, শুধু মাত্র আমাকে হয়রানি করার জন্য এবং আমার সন্মান হানি করার জন্য হয়রানি মূলক মিথ্যা সাজানো মামলা করা হয়েছে৷ এ অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আতিয়ার রহমান খোশো তাদের সম্পর্কে আত্মীয় আমাদের সাথে জগড়া লাগলে তিনি তাদের পরামর্শ ও শেল্টার দেন। তাই ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে। তারাও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাই আমরাও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি৷ তবে, মামলার সূষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীর।

নীলফামারীতে মিথ্যা মামলায় ফেলে নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

themesbazartvsite-01713478536