ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ২ সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল আইনে মামলা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ২ সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল আইনে মামলা

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কর্মরত ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহসিন ফকিরের বিরুদ্ধে ফেসবুক ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে মাতৃ স্থাস্ব্য ভাইচার স্কীমের টাকা আত্মসাৎ এবং ওই কর্মকতার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের জেরে এ মামলা হয়েছে বলে মামলা সূত্রে প্রকাশ। মামলার আসামীরা হচ্ছেন, উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও অনলাইন পোর্টাল সমাজের আলোর সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম ও ভাঙ্গা অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল হক মোল্লা ।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহসিন উদ্দিন ফকির বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে গত ১২ জুন শহিদুল ইসলাম তার অফিস কক্ষে ঢুকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ডিএসএফ এর মাতৃ স্বাস্থ্য ভাউচারের স্কীমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে তার নিকট দশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। তাকে জানানো হয় আমাদের কাছে কোনো নগদ টাকা আসে না। আমরা কখনও নগদ টাকা উত্তোলন করি না এবং রোগীদেরকেও কোনো নগদ টাকা দেই না। আমরা শুধু রোগীদের নাম ও মোবাইল নম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করি। রোগীদের ডিএসএফ এর টাকা ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের রকেট একাউন্টে পৌঁছে যায়।এ কথা শুনে শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় ও ফেসবুকে তার নামে আক্রমণাত্মক ও মিথ্যা রিপোর্ট করার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার অফিস থেকে বের হয়ে যায়। এরপর ২৪ জুন দুপুরে তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে এমডি শহিদুল নামে ফেসবুক একাউন্টে “টাকা আত্মসাতের অভিযোগ” শিরোনামে ফেসবুকে পোষ্ট করে এবং ভাঙ্গা হাসপাতালে গরীব গর্ভবতী মায়েদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন মানহানিকর সংবাদ পোষ্ট করে। এছাড়া মনিরুল হক মোল্লা নামের ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবিসহ ‘অবাক কান্ড’ দুর্নীতির পাগলা ঘোড়া, ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার্ ডা. মহসিন ফকির’- শিরোনামে ২৪ জুন ফেসবুকে একটি পোষ্ট করে যা সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক , মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন এবং মানহানীকর।ওই ফেসবুক আইডিধারী সহ তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিন জন পরস্পর যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, ভিত্তিহীন পোষ্ট ও সংবাদ পরিবেশনের কারণে তিনি সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন এবং তার মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে ডাঃ মোহসিন তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে শহিদুল ইসলাম ও মনিরুল হক মোল্লা সহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অপরাধের আওতায় মামলাটি দায়ের করেন।
এ সংক্রান্তে সাংবাদিক মোঃ শহিদুল ইসলাম ও মনিরুল হক মোল্লা জানান,সম্প্রতি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকে সীমাহীন দূর্নীতি করে যাচ্ছেন ডাঃ মোহসিন ফকির। ক্ষতিগ্রস্থ অভিযোগকারী দের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তার নিকট বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ নিয়ে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি সাংবাদিকের কন্ঠ রোধ করতে মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন “আমার হাত অনেক লম্বা,আমার নামে নিউজ করে কি করবি।বরং আমার নামে নিউজ করলে আমি তোদের ছাড়বনা”।
জনাব খায়রুল আলম রফিক বলেন, যাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে তারা ২ জনই ভাঙ্গার পেশাদার সংবাদকর্মী। তারা দু’জন সবসময়ই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। আর এ কারণেই এই মামলা করা হয়েছে বলে সাংবাদিক সমাজ মনে করছে। সাংবাদিকদের নামে ডিজিটাল আইনে করা মামলা প্রত্যাহার না করলে খুব শীঘ্রই সারাদেশে কর্মসূচি দেওয়া হবে। এই দুই গণমাধ্যম কর্মী নিজ নিজ কর্ম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নেপথ্য কারণ হতে পারে অন্য গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি একটি মেসেজ, সেটি হলো সত্য লেখা যাবে না। শুধু ভাঙ্গায় নয়, পুরো দেশেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা চাই এ আইনটি গণমাধ্যমের জন্য কালো আইনে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই এ আইন বাতিল করা হোক কিংবা আইনের সংশোধন করা হোক। বিশেষ করে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর যেন এ আইন খড়গে পরিণত না হয়।

বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন বসকোর সভাপতি হাসান আল মামুন বলেন, পূর্বে তথ্য ও প্রযুক্তি আইন নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হলো। আমরা আইনের বিরুদ্ধে নই, আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। সংবিধানে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেই স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করে। সংবিধান ও ৩২ ধারা সাংঘর্ষিক। এ আইন দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকবচ হিসেবে দুর্নীতি করার জন্য উৎসাহ জোগাচ্ছে। এ আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার অথবা অসঙ্গতিগুলো সংশোধনের দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ লুৎফর রহমান বলেন,উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার্র নিকট চাঁদা দাবী এবং ভিত্তিহীন প্রচারনার অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536