সেনবাগে সাব-রেজিষ্ট্রার ও দলিল লিখকদের পাল্টা-পাল্ট অভিযোগ

সেনবাগে সাব-রেজিষ্ট্রার ও দলিল লিখকদের পাল্টা-পাল্ট অভিযোগ

মোঃসামছু উদ্দিন লিটন, বিশেষ প্রতিনিধি নোয়াখালী

নোয়াখালী- সেনবাগ উপজেলা’র সাব-রেজিস্টার তানিয়া তাহেরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দলিল লিখকদের সঙ্গে অসদাচরণ, ঘুষ দাবী ও দলিল লিখকদের সনদপ্রত্র বাতিলের হুমকি প্রদান করেছেন মর্মে অভিযোগ করেছেন এবং দুইজন দলিল লিখকের সনদপত্র বাতিলের জন্য সাব-রেজিষ্টার উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদনও করেন।


এইমর্মে, ২০ই জুন সকাল ১১.৩০ মিনিটে সেনবাগ সাবরেজিষ্ট্রার অফিস সংলগ্ন দলিল লিখক সমিতির অফিসে স্বঘোষিত সভাপতি এম তালেবুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা এবং দুইজন অভিযুক্ত দলিল লিখকের সনদপত্র বাতিলের অভিযোগ প্রত্যাহার করার দাবী জানান অন্যথায় তারা ২১শে জুন থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেন এবং এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলমান।যা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন দলিল লেখক সমিতির স্বঘোষিত সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক বাহাদুর।

অপর দিকে, সেনবাগ সাব-রেজিস্টার তানিয়া তাহের তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলি মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন, তাকে অফিস কার্য সম্পাদনের পরও সন্ধা ৭টা পর্যন্ত দলিল রেজিষ্ট্রি করেন, এরপরেও আরো বাকী থাকা দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য অফিসের বাহিরে দলিল লিখকগণ তাকে গতিরোধ করে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন।

দলিল লিখক ও অফিসসুত্রে জানা যায়

চলতি বছরের মার্চ মাসে কবিরা হাট উপজেলার সাব রেজিষ্ট্রার তানিয়া তাহের সেনবাগে সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও মঙ্গলবার অফিস করেন।গত দুই সপ্তাহ ধরে ডেপুটেশনে থাকা সাব-রেজিষ্ট্রারের সাথে দলিল লিখকদের বিভিন্ন মতবিরোধ ও বাকবিতন্ডা চলে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,কয়েকজন দলিল লিখক আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন,কথিত কয়েকজন সিনিয়র দলিল লিখক কাগজ-পত্র সম্পূর্ণ ছাড়া দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত প্রতিটি সাব রেজিস্ট্রারের সাথে বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হয় তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও একই পথ অবলম্বন করেন,না হলে সেদিন দলিল জমা পড়ে প্রায় ১৬০টি তারমধ্যে রেজিষ্ট্রি হয় প্রায় একশ’র উপরে।শুধু ৪/৫ জন সিনিয়র দলিল লিখকদের সাথেই জামেলা হয়।তাদের জামেলার কারনে নিরিহ দলিল লিখক এবং সাধারণ জনগন ভূক্তভোগী হন।তারাও এইসব ঘটনার সুষ্টু তদন্ত দাবী করেন।

অভিযুক্ত দলিল লিখক আলী হোসেন রতন বলেন,গত ৭ই জুন রবিউল ইসলাম রিফাত (নাবালক) ও লতিফা আক্তার মিমি’র (নাবালিকা)পক্ষে অভিভাবক নিযুক্ত হয়ে মাতা শাহিদা আকতার ধাত্রী, ইস্রাফিল ভূইয়া গৃহীতার দলিলটি সাব রেজিষ্ট্রার বরাবরে দাখিল করলে, সাব রেজিষ্ট্রার তানিয়া তাহের বলেন,
বন্টন নামা,হেবা ঘোষণা, দানপত্র, নাদাবী পত্র,অছিয়তনামা, উইল এবং নাবালক-নাবালিকার দলিল রেজিষ্ট্রি করতে পূর্বেই কথা বলে নিতে হয়,
অন্যথায় রেজিষ্ট্রি করতে হলে পনের হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

অপরদিকে আলী হোসেনের এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-রেজিষ্টার তানিয়া তাহের বলেন, আমি বলেছি উপরোক্ত দলিলে যে যে সমস্যা গুলো ছিল তা সমাধান করে আনলেই আমি দলিল রেজিষ্ট্রির কাজ সম্পূর্ণ করে দিবো এবং অনেক বাকবিন্ডার পরবর্তীতে সমস্যা সমাধান করে আনার পর আমি ঐ দিনই দলিলটি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
সাব-রেজিষ্ট্রার আরো বলেন,
আমার বিরুদ্ধে দলিল লিখকদের আনীত অভিযোগ গুলো সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
বরং তারা আমার সাথে অসদাচরণ ও গতিরোধ করার জন্য আমি দুই লিখক আলী হোসেন রতন ও কাজী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি,আমি আশাকরি কর্তৃপক্ষ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536