যমুনার ভাঙনে, দেওয়ানগঞ্জ খোলাবাড়ী হুমকির মুখে।

যমুনার ভাঙনে, দেওয়ানগঞ্জ খোলাবাড়ী হুমকির মুখে।

তাওহিদুজ্জামান জীবন
দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবাড়ী এলাকায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে দীর্ঘ হচ্ছে ঘর-বাড়ি হারা মানুষের সংখ্যা। এবার বছরের শুরুতেই দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। গত বছর ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকে এলাকার মায়া ত্যাগ করে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন শহরে চলে গেছেন।

ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, যমুনার পানি উজান থেকে নেমে এসে দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানী, চুকাইবাড়ী ইউনিয়ন হয়ে ভাটি এলাকার দিকে যাচ্ছে। বছরের শুরুতেই নদী ভাঙনের কারণ হচ্ছে যমুনার পশ্চিম পারে প্রায় দেড় কিলোমিটার চর জেগে উঠেছে। পশ্চিম পারে চর জেগে ওঠার কারণে চ্যানেলের মুখ শুকিয়ে গেছে।

যার ফলে পূর্ব পাড় দিয়ে প্রচণ্ড স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর গভীরতা বেশি থাকায় পূর্ব পাড়ের চিকাজানী ও চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন ও সাবেক ছাত্রনেতা আনম মিয়া জানান, যমুনা নদী ভাঙনে এখন আর সময়-অসময় লাগে না। নদীর সামনের চরের জায়গায় বেশি ভাঙছে। শুকনা মৌসুমে যদি চরটা খনন করা যেত তাহলে এতো ভাঙতো না। যমুনা নদীর ভাঙনের কারণে ১৯ বার বাড়ি সরাইছি, এবার বাড়ি আর ঘর তোলার মতো জায়গা নেই। নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে আমরা এখন পথের ভিখারি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এবার আমরা ত্রাণ চাইনা। বেড়ি বাঁধ চাই। প্রতিবছর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে আমরা ভুলে যায়। বন্যায় তারা সামান্য কিছু ত্রাণ বিতরণ করেই তাদের দায় সারা হয়ে যায়। তাই এবার আমাদের সকলের একটাই দাবি “ত্রাণ চাই না, বাঁধ চাই। বাঁধ ছাড়া রক্ষা নাই“। একমাত্র বেড়ি বাঁধই রক্ষা করতে পারে আমাদের এই প্রাচীন বসতভিটা।

চিকাজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, আগের বছর (২০২০ ইং) সালে আমার ইউনিয়নের ১নং ও ২নং ওয়ার্ডে স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, বাজারসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেছে। এই বছর মৌসুমের শুরুতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনরোধের ব্যবস্থা না নিলে পুরো ইউনিয়নটি বিলীন হয়ে যাবে।

বাহাদুরাবাদ নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, নদী থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে নৌ-থানার কাজ শুরু করা হয়েছিল। নদী খুব কম সময়ে ভেঙে নির্মাণাধীন নৌ-থানার কাছে চলে এসেছে। গত বছর কিছু পদক্ষেপ নিয়ে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এইবছর আসা করছি ভাঙ্গনের কবলে আমাদের বাহাদুরাবাদ নৌ থানা পরবে না। তবুও আমরা আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছি পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করতে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536