ফরিদপুরে করোনা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লকডাউন এর প্রস্তাব।

ফরিদপুরে করোনা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লকডাউন এর প্রস্তাব।

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

ফরিদপুরে মহামারী করোনা পরিস্থিতি আবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মত বেড়েছে। মঙ্গলবার জেলায় নতুন করে ৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের করোনা সনাক্ত করণ ল্যাব সূত্রে মঙ্গলবার ২৫৬ জনের করোনা সনাক্ত করণ পরীক্ষা করে সনাক্ত হয়েছে ৯০ জনের। করোনা সনাক্তের হার ৩৫.১০ ভাগ। সোমবার এর হার ছিল ৩৭.৭৫ ভাগ। রবিবার ছিল ৫৫.০৬ ভাগ। শনিবার এর হার ছিল ৪৫.১৬ ভাগ। শুক্রবার এর হার ছিল ২৪.৬৩ ভাগ। ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ পর্যন্ত জেলায় করোনা সনাক্ত হয়েছে ১১,১৭৮ জনের। সুস্থ্য হয়েছেন ১০,৩৪৭ জন। ফরিদপুরে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮৯ জন। এর মধ্যে ফরিদপুরের বাসিন্দা ৬৯ জন অন্যরা সংলগ্ন জেলার। ফরিদপুর মেডিকেল হাসাপাতাল সূত্র মতে সোমবার পর্যন্ত হাসপাতালে ৮৫ জন করোনা সনাক্ত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে সাত জন আইসিইউতে আছেন।

দ্রুত দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি। করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশের মধ্যেও সনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ যথাসাধ্য ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সিভিল সার্জন মহোদয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন ফরিদপুরে লকডাউন কার্যকর করার জন্য।দেশের মানুষদের জীবন রক্ষায় প্রতিক্ষণ সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবগতকরণ ও ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের জীবন আগে না জীবীকা? যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুরোধ করে বলেছেন, জীবন আগে বেঁচে থাকলে আবার স্বপ্ন গোছানো যাবে। সামাজিক সচেতনতায় উদ্যোগের কোন ঘাটতি রয়েছে কি?
জেলা প্রশাসক জনাব অতুল সরকার, পুলিশ সুপার জনাব আলীমুজ্জামান সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন কাজ করছে তারপরও মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির হার বাড়ছে না। এর পেছনে মূল কারণ হিসাবে দেখা যায় জেলার প্রায় ১৮ লাখের মত জন গোষ্ঠীর বেশির ভাগই দরিদ্র ও শ্রমজীবী এর মধ্যে দিনমজুর বা দৈনিক আয় করে সংসার চালানোর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। মন না চাইলেও সংসারের প্রয়োজনেই তাদেরকে কাজে বের হতে হয়। করোনার কারনে ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক গতি পতন হয়েছে। দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি যদিও সারা বিশ্ব ময়, তারপরও দেশের চাল, ডাল, তেলের মূল্য নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সংসারের থাবা হেনেছে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমান সরকার সার্বক্ষণিক সচেষ্ট থাকলেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সাথে পেরে উঠছে না। জেলার করোনা পরিস্থি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বাঁচাতে কেবল সরকার নয় সমাজের প্রত্যেক সংস্থা ও ব্যক্তিকে দেশাত্ববোধের তাড়নায় মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মাস্ক ব্যবহারে উদ্যোগি করে তুলতে হবে। সামাজিক দূরত্ব পালনে কঠোর হতে হবে। হাট বাজারগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে স্বাস্থ্য বিধির আওতায় আনা জরুরী। এক বারে সমস্ত বিপনী বিতান মার্কেট গুলো খোলা না রেখে বিকল্প ব্যবস্থায় খোলা যেতে পারে। করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা রোধে নির্দিষ্ট হাসপাতাল তৈরীর সরঞ্জাম, ঔষধ, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ব্যবস্থা মজুত রাখা জরুরী। মহমারীর মধ্যেও এক শ্রেণির ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট বেশি মুনাফার লোভে যে কারসাজি করছেন তা থেকে তাদের বের করে আনতে হবে। মনিটরিং, ভ্রাম্যমান অভিযানের মাধ্যমে মজুদ গুদামগুলোতে নজরদারী বাড়াতে হবে। জেলার জনসংখ্যা অনুপাতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে আগে থেকেই। জেলার উৎপাদিত ধান, গম কৃষি পণ্য চাহিদার ভিত্তিতে বাজার জাত করণ করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবার সকল মাধ্যম এখনই প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। মাস্ক, স্বাস্থ্য বিধি মানার ক্ষেত্রে আইন সংস্থা কঠোর হোক কোন ব্যক্তি বিশেষ বা মুখ দেখে নয়। এই মহামারী থেকে বাঁচতে সকলকেই যোদ্ধা হতে হবে। এই যুদ্ধে যে সমস্ত চিকিৎসক, নার্স, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মদান দিয়ে গেছেন আমরা তাদের সশ্রদ্ধ সালাম জানাই। আর তাদের সম্মান রক্ষার্থেই আমাদেরকে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদের সচেতন করতে হবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536