বাংলাদেশ কখনো গরিব নয়, আমাদেরকে গরিব করে রেখেছে। কারা?

বাংলাদেশ কখনো গরিব নয়, আমাদেরকে গরিব করে রেখেছে। কারা?

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ।

বাংলাদেশ কখনো গরিব নয়, আমাদেরকে গরিব করে রাখা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু একথা ভেবেছিলেন অনেক আগেই।
এদেশে কি না আছে? সবুজ বনানী পল্লবে ঘেরা নদী-নালা বেষ্টিত সোনার বাংলা। বিস্তৃত সোনালী ফসলের মাঠ, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত, আর বিশাল সুন্দরবন। যে সুন্দরবনে রয়েছে অসংখ্য মূল্যবান ঔষধি গাছ, লতা পল্লব, যা দ্বারা হতে পারে অনেক মূল্যবান মহৌষধ। নাতিশীতোষ্ণ এ দেশটিতে মাটির নিচে রয়েছে অসংখ্য খনিজ সম্পদ। সমূদ্রে রয়েছে সামুদ্রিক সম্পদের এক বিশাল ভান্ডার। শিল্পে আমরা যে উন্নতি সাধন করেছি তা অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়।
বর্তমান সরকারের উন্নয়নের আরেকটি দিক বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বহু বছর পরে আমাদের সমুদ্র সীমা নির্ধারণের ফলে সমুদ্রসীমা অনেক বিস্তৃতি লাভ করেছে। অনেক জলসীমা আমাদের মানচিত্রের সাথে যোগ হয়েছে। এটা আমাদের বিশাল সাফল্য, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এই জলসীমা মায়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। এখানে রয়েছে বেশ কিছু মূল্যবান খনিজ সম্পদ। সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে রয়েছে অসংখ্য খনিজ সম্পদ। এরশাদ সরকারের সময় হরিপুরে বিশাল তেলের খনির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। বড়পুকুরিয়ায় যে কয়লার খনি, সেখান থেকে কয়লা উঠছে। এসকল কয়লার খনি থেকে হীরক, গ্রানাইট সহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান ধাতব পদার্থ পাওয়া যেতে পারে। গ্যাসের খনির তো অভাব নেই। যেখানে সেখানে রয়েছে অসংখ্য গ্যাসের খনি। বিশেষ করে আমাদের সমুদ্রসীমায় অবশ্যই গ্যাস ও তেলের খনি পাওয়া যেতে পারে বলে বিভিন্ন জরিপ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে। গভীর সমূদ্রবন্দর স্থাপনের মাধ্যমে ও আমরা নিজেদেরকে এগিয়ে নিয়ে চলেছি।

উল্লেখ্য ইসলাম ধর্ম আমাদের বেশিরভাগ জনগণের ধর্মবিশ্বাস। আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ হলেও এখানে শত করা ৯৫ ভাগ মুসলমান রয়েছে,তাই আমাদের উপরে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত রয়েছে। একটু পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সংখ্যাগুরু ইসলাম বিশ্বাসী সকল দেশেই রয়েছে অফুরন্ত খনিজ সম্পদ, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। যার জাজ্জ্বল্যমান প্রমাণ হলো আরব দেশগুলো। আরব দেশগুলোর প্রায় সকল দেশেই আল্লাহতালা মাটির নিচে রেখেছেন খনিজ সম্পদ তেলের খনি, সোনার খনি, ইত্যাদি।
আজ বিদেশিদের সাহায্য ছাড়াই ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ ব্যতিরেকে নিজস্ব অর্থায়নে বিশাল প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণ মহাজজ্ঞ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেইভাবে নিজস্ব অর্থায়নে এই সকল খনি থেকে তেল উত্তোলন মোটেই অসম্ভব নয় বলে মনে করা যায়। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার, উন্নয়নের সরকার। তার প্রতি আকুল আবেদন, অনুগ্রহ করে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য পদ্মা সেতুর মতো আরেকটি সাহসি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। সকল প্রকৃত দেশপ্রেমী বন্ধুদের প্রতি বিশেষ আবেদন, অনুগ্রহ করে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানাই এবং যাতে বাংলাদেশি অর্থ বিদেশে পাচার না হতে পারে তার জন্যও প্রতিরোধ গড়ে তুলি। শুধু একটি সংস্থার উপরই নির্ভর করা চলবে না, আমাদের দেশে রয়েছে অসংখ্য মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার। বিশ্বস্ত দেশি-বিদেশি ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান করা একান্ত অপরিহার্য। আরব দেশেগুলির মতো নিজেদের আভ্যন্তরিন সম্পদ নিজেদের হোক, এটাই সবার কামনা।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536