আশুগঞ্জে নেতার বাড়ী হামলা আ.লীগে কোন্দল বিএনপিতে প্রেফতার অনুপ্রবেশ কারা?

আশুগঞ্জে নেতার বাড়ী হামলা আ.লীগে কোন্দল বিএনপিতে প্রেফতার অনুপ্রবেশ কারা?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসান জাবেদ: হরতালের দিন আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী-লীগের যুগ্ম আহবায়ক আবু নাছের আহমেদ এর বাড়ীতে বিএনপি,জামায়াত এবং আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাড়ীতে ডুকে হামলা ও ভাংচুর করেন এবং তার বাড়ী থেকে ১০টন লট, ৫০ বস্তা সিমেন্ট, ৪০০০ হাজার ইট, মিকচার মেশিনসহ প্রায় ৪৯ লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে উল্লেখ করে তার ছোট ভাই মো. আবু রেজভী বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এই মামলা ঘিরে উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের ভেতরে ও বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন। হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে সমালোচনার মুখে আবু নাছের আহমেদ। আওয়ামী লীগে কোন্দল আর অনুপ্রবেশকারী কারা তা নিয়ে দলের বিতরে বাইরে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে।
সম্প্রতি কয়েকদিন ঘুরে আশুগঞ্জে অনুসন্ধানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীরা জানান।
২৮ মার্চ, রোববার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে হেফাজতের ডাকা হরতালের সমর্থনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হাজার হাজার জিন্স প্যান্ট ও টি শার্ট পড়া যুবকরা দা, কোড়াল, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগের সাথে হরতাল সমর্থকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার।

এক পর্যায়ে আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী-লীগের যুগ্ম আহবায়ক আবু নাছের আহমেদ এর বাড়ীর সামনে দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ চলতে থাকে। এসময় হামলাকারীরা রাস্তায় থাকলেও আবু নাছের আহমেদ এর বাড়ীটি রক্ষার করার জন্য এলাকার অনেকেই তার নিজ আরেকটি নির্মাণাধীন নতুন ভবনের ছাদে উঠে যান তখন দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছুড়াছুড়িতে তার বাড়ীর ১০টিরও বেশি জানালার গ্লাস ভাংচুর করতে দেখা যায়।

এই ঘটনার একদিন পর (২৯ মার্চ) সোমবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামীগের যুগ্ম আহবায়ক আবু নাসের আহমেদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শনে আসেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি শিউলি আজাদ। এসময় আবু নাসের এমপিকে জানান,অামি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমার বাড়িতে দাড়ি-টুপি ওয়ালা কোন লোক আক্রমণ করেনি। দুবৃত্তরা বাড়িতে ভাংচুর ও তান্ডব চালিয়েছে। কিন্তু আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বার বার অবহিত করলেও তারা আমাদের কোন সাহায্য করেনি। তখন আমরা ছিলাম অসহায়।

এই ঘটনার দুইদিন পর (৩০ মার্চ) মঙ্গলবার আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আবু নাসের আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, হেফাজতের উপর ভর করে আমার বাড়ীতে হামলার নেপথ্যে ছিলেন বিএনপি,জামায়াত এবং আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা কোন কারণ ছাড়াই আমার বসত ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

এদিকে ঘটনার ১১দিন পর (২৮ মার্চ) আবু নাছের আহমেদ এর বাড়িতে হামলা লুটপাটের ঘটনা উল্লেখ করে (০৭ এপ্রিল) বুধবার আবু নাছের আহমেদ এর ছোট ভাই মো. আবু রেজভী বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় হেফাজতের নাম না দিয়ে। বিএনপির জামায়াতের ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ তাদের বাড়ীতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অজ্ঞাত আরো ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এ মামলাটি নথিভুক্ত করেন পুলিশ।

এ বিষয়ে মামলার বাদী মো. আবু রেজভীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ হরতালের দিন হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে আমার বাড়ীতে ডুকে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় হামলাকারীরা দশ টন লট, মিকচার মেশিন, ইট ৪০০০ হাজার সিমেন্ট, ১৫০ বস্তাসহ প্রায় ৪৯ লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, হামলার সময় আমরা বাড়িতে ছিলাম না আমার বড় ভাই আবু নাছির আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ কে অবহিত করা হয়ে ছিল কিন্তু তারা কোন সাহায্য করেনি।

তবে আশুগঞ্জ বিএনপির অন্যতম নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ বলেন, হেফাজতের হরতালে তাদের সমর্থন ছিল না৷ আশুগঞ্জ উপজেলায় ভাংচুরের ঘটনায় যারা জড়িত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের সেই বিডিও ফুটেজ দেখে খুঁজে বের করার দাবী বিএনপির এই নেতা।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীগের আহবায়ক হাজী সুফিউল্লহ মিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলে হেফাজতের উপর ভর করে আবু নাছের আহমেদের বাড়ীতে হামলার নেপথ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী আসলে তারা কারা? এপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আবু নাছের ভালো করে জানেন কে অনুপ্রবেশকারী। হামলার পর আপনারা উনার বাড়ীতে যাননি কেন ? এপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক আতাউর রহমার কবির গিয়ে ছিল তখন আবু নাছের এর লোকজন কবির ও তার সাথে যারা ছিল তাদের উপর আক্রমন করে সে জন্য আমারা যায়নি। আমরা অনেক কিছুই জানি। কিন্তু দলীয় অবস্থানের কারণে বলতে পারি না।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। কেউ অপরাধ করে ছাড় পাবে না। পুলিশ সর্বত্র সক্রিয় রয়েছে।

তবে গত ২৮ মার্চ, রোববার আশুগঞ্জে যে তান্ডবের এই হামলায় কে বা কারা নেতৃত্ব দিয়েছে অথবা মূল ইন্ধন দাতা কে এই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি এসব বিষয়সহ সার্বিক পরিস্থিতিতে ধারণা পাওয়া যায়, হেফাজতে ইসলামের পাশাপাশি একটি ‘বিশেষ চক্রও’ হরতালের সময় লুটপাটে শামিল হয়। যে কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536