সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে কী কী কাজ ও আমল অত্যাবশ্যক?

সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে কী কী কাজ ও আমল অত্যাবশ্যক?

সিয়াম অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় আমলসমূহ :

[১] পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত আদায় করা। কোন শরয়ী উযর না থাকলে সালাত মাসজিদে গিয়ে জামাআতের সাথে আদায় করা। জামাআতে সালাত আদায়কে বিজ্ঞ ওলামায়ে কিরাম ওয়াজিব বলেছেন। যারা জামাআতের সাথে সালাত আদায় করে না তারা ২৭ গুণ সাওয়াব থেকে বঞ্চিততো হয়ই, উপরন্তু ফজর ও ঈশার জামাআত পরিত্যাগকারীকে হাদীসে মুনাফিকের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যারা অবহেলা করে বিনা ওযরে সালাত দেরী করে আদায় করে তার সালাত একশবার পড়লেও তা কবুল হবে না বলে উলামায়ে কিরাম মন্তব্য করেছেন। আর মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধ ব্যক্তিকেও অনুমতি প্রদান করেন নি।

[২] মিথ্যা না বলা।

[৩] গীবত না করা- আর তা হলো অসাক্ষাতে কারো দোষত্রুটি বা সমালোচনা করা

[৪] চোগলখোরী না করা- আর তা হলো এক জনের বিরুদ্ধে আরেকজনকে কিছু বলে ক্ষেপিয়ে তোলা ও ঝগড়া লাগিয়ে দেয়া।

[৪] ক্রয় বিক্রয় ও অন্যান্য কাজে কাউকে ধোঁকা না দেয়া।

[৫] গান গাওয়া ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো থেকে বিরত থাকা, মধুর কণ্ঠে গাওয়া যৌন উত্তেজনামূলক গান থেকে আরো বেশি সাবধান থাকা।

[৬] সকল প্রকার হারাম কাজ-কর্ম পরিহার করা।

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন,

إِذَا صُمْتَ فَلْيَصُمْ سَمْعُكَ وَبَصَرُكَ وَلِسَانُكَ عِنْدَ الْكَذِبِ وَالْمَحَارِمِ وَدَعْ عَنْكَ أَذَى الْجَارِ وَلْيَكُنْ عَلَيْكَ وَقَار وَسَكِيْنَة وَلاَ يَكُنْ يَوْمُ صَوْمِكَ وَيَوْمُ فِطْرِكَ سَوَاء

যখন তুমি রোযা রাখবে তখন যেন তোমার কর্ণ, চক্ষু এবং জিহবাও মিথ্যা ও হারাম কাজ থেকে রোযা রাখে। তুমি প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকো। আত্মমর্যাদা ও প্রশান্তভাব যেন তোমার উপর বজায় থাকে এমন হলে তোমার রোযা রাখা ও না রাখা সমান হবে না। (ইবন আবী শাইবা : ৮৮৮০)

[৭] ইসলামকে জীবনের সকলক্ষেত্রে অনুসরণ করা।

মসজিদে যেমনভাবে ইসলাম তেমনি পরিবার, সমাজ, ব্যবসা এবং রাষ্ট্রীয় জীবনেও ইসলামকে একমাত্র জীবন বিধান হিসেবে বাস্তবায়ন করা।

আল্লাহ বলেন,

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱدۡخُلُواْ فِي ٱلسِّلۡمِ كَآفَّةٗ ﴾ [البقرة: ٢٠٨]

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে দাখিল হও পরিপূর্ণভাবে (অর্থাৎ জীবনের সর্বক্ষেত্রে)। (বাকারাহ ২০৮)

[৮] সিয়াম আবস্থায় পাপাচার ত্যাগ করা এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

كَمْ مِنْ صَائِمِ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلاَّ الظَّمْأَ وَكَمْ مِنْ قَائِمِ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلاَّ السَّهْر

(ক) কত সিয়াম পালনকারী আছে যাদের রোযা হবে শুধু উপোস থাকা। আর কতলোক রাতের ইবাদতকারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া ইবাদতের কিছুই হবে না। (অর্থাৎ পাপকাজ থেকে বিরত না হওয়ার কারণে তার রোযা যেন রোযা নয়, তার রাতের সালাতও যেন ইবাদত নয়)। (আহমাদ : ৯৬৮৩; দারেমী : ২৭৬২)

فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ

(খ) তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রোযা রাখে, সে যেন তখন অশ্লীল কাজ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। রোযা রাখা অবস্থায় কেউ যদি তাকে গালাগালি ও তার সাথে মারামারি করতে আসে, সে যেন বলে ‘‘আমি রোযাদার’’। (মুসলিম: ১১৫১)

لَيْسَ الصِّيَامُ مِنَ الأَكْلِ وَالشُّرْبِ إِنَّمَا الصِّيَامُ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ

(গ) শুধুমাত্র পানাহার ত্যাগের নাম রোযা নয়, প্রকৃত রোযা হল (সিয়াম অবস্থায়) বেহুদা ও অশ্লীল কথা এবং কাজ থেকে বিরত থাকা। (ইবনু খুযাইমা : ১৯৯৬)

مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ وَالْجَهْلَ فَلَيْسَ للهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ

(ঘ) যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ এবং অজ্ঞতা থেকে মুক্ত হতে পারেনি সে ব্যক্তির শুধুমাত্র পানাহার বর্জনের (এ সিয়ামে) আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী : ৬০৫৭)

[৯] রোযা রাখা (ও অন্যান্য ইবাদত) একমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য করা। আল্লাহ বলেন,

﴿ وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ … ﴾ [البينة: ٥]

‘‘মানুষকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তাদের ইবাদত যেন শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য হয়।’’ (বাইয়্যেনাহ : ৫)

[১০] সকল হুকুম আহকাম পালনে নাবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র সুন্নাত তরীকা অনুসরণ করা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

‘‘যে ব্যক্তি এমন (তরীকায়) কোন আমল করল, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্দেশিত নয়, সেই কাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য তো হবেই না রবং তা হবে প্রত্যাখ্যাত’। (মুসলিম : ১৭১৮)

[১১] সিয়াম ভঙ্গের সহায়ক কাজ-কর্ম পরিহার করা স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন, চুম্বন বা একত্রে শয়ন জায়েয হলেও তা যেন রোযা ভঙ্গের পর্যায়ে নিয়ে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।

[১২] অন্তরে ভয় ও আশা পোষণ করা।

কোন অজানা ভুলের জন্য রোযাটি ভেঙ্গে যায় কিনা এ ধরনের ভয় থাকা এবং আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান পাবো এ আশাও পোষণ করা। অন্তরকে এ দু’য়ের মধ্যে সামঞ্জস্য করে রাখতে হবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

হযরত আলহাজ্ব শাহ মৌলানা হাফেজ আহমদ (রহঃ) শাহ্ সাহেব কেবলা চুনতী কর্তৃক প্রবর্তিত ঐতিহাসিক ১৯ দিন ব্যাপী সীরতুন্নবী (সঃ) মাহফিল এর ৫১তম মাহফিল উপলক্ষে চট্টগ্রাম শহরের প্রস্তুতি সভা ১২ অক্টোবর ২০২১ নগরীর রীমা কনভেনশন হলে আলহাজ্ব মাওলানা হাফিজুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দারুন উলুম আলীয়া মাদ্রাসা ছাত্র সংসদ জিএস শেখ সুলতান রাফি। নাতে রাসুল সঃ পাঠ করেন তামজিদুর রহমান, আবদুল হাদি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজ সেবক ও চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী। হাজার হাজার আশেকানে ভক্তের উপস্থিতিতে যাহেদুর রহমান ও কশশাফুল হক শেহজাদ এর সঞ্চালনায় মাহফিল এর সফলতা ও সার্বিক সহযোগিতার প্রত্যাশা নিয়ে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব এডিএম আবদুল বাসেত দুলাল, নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাঈল মানিক, সিটি কর্পোরেশন প্যানেল মেয়র ও দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড, আবুল আলা মোহাম্মদ হোসামুদ্দীন, লোহাগাড়া সমিতি চট্টগ্রাম সভাপতি শফিক উদ্দিন, অলিউদ্দিন মোহাম্মদ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাদাত জামান খান মারুফ, চুনতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জনু, তৈয়বুল হক বেদার, কাজি আরিফুল ইসলাম, আসমা উল্লাহ ইমরাত। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মোতোয়াল্লী কমিটির সদস্য আবু তাহের, মাহবুবুল হক, ইদ্রিস মিনহাজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবাইদুল মান্নান রোকন, প্রফেসর হামিদুল হোসেন ছিদ্দিকী, ওয়াহিদুল হক, মাওলানা জাফর সাদেক মিয়াজী, আবু হেনা টুটুল, চুনতি সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এডভোকেট মিনহাজুল আবরার, মাওলানা কফিল উদ্দিন, মাওলানা এবাদুর রহমান, কামরুল হুদা, জয়নাল আবেদীন শবাব, মোহাম্মদ নাঈম নিমু, সাদুর রহমান, মাহমুদ জামান খান, আবদুল ওয়াহেদ সোহেল, শাহাদাত খান ছিদ্দিকী, ইব্রাহীম মোহাম্মদ, আরিফ ইয়াসির, আবরারুল হক মুকুট প্রমুখ। মীলাদ পরিচালনা করেন মাওলানা আবু দাউদ মোহাম্মদ শাহ শরীফ এবং মুনাজাত পরিচালনা করেন মোতোয়াল্লী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা কাজী নাছির উদ্দিন। চুনতি ক্লাব সমূহ আনজুমান ই নওজোয়ান, শিকড়, দীপিত, নুরানী, চিরহরিৎ, নিরেট, প্রয়াস, অর্ণব, অগ্রাহী, সংস্মৃতি, সন্দীপন, অনির্বাণ, এলায়েন্স ও ক্লাব-৭১ এর সার্বিক সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাসেবক বৃন্দ প্রস্তুতি সভা সফল আয়োজনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, আগামী ১৮ অক্টোবর ২০২১ হতে ৫১তম মাহফিল এ সীরতুন্নবী (সঃ) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং ৫ নভেম্বর দিবাগত রাত আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইনশাআল্লাহ।
স-িতাজ২৪.কম/এস.টি

১৯ দিনব্যাপী সীরতুন্নবী (সঃ) মাহফিল এর চট্টগ্রাম শহর কেন্দ্রিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

themesbazartvsite-01713478536