Darpon TV-কোন পথে আমরা!

মহসিন মুন্সী।

গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে আমরা কি দেখলাম?
কিছু মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করল। এই সুযোগে রাস্ট্রীয় সম্পদের ধ্বংস ও বিনাশ সাধন হল। কথিত রয়েছে যে সরকারের সমর্থক বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কোথাও কোথাও বাড়াবাড়িও করেছে। বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্দোলন প্রতিহত করতে অনেক জায়গায় সরাসরি বুকে গুলি করেছে।


এই যে এত এত ঘটনা, সব একজন বিদেশী কে কেন্দ্র করে। নিঃসন্দেহে ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশ এর জন্মলগ থেকেই ভারত আমাদের বন্ধু হিসাবে সুখে দুঃখে পাশে রয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের অবদান তো ভোলার নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সমরে, কূটনীতিতে, অর্থে, সমরাস্ত্রে এমনকি এককোটি জনতাকে আশ্রয় দেয়া ভরণপোষণ করা সবই করেছে ভারত। শ্রদ্ধাবনত চিত্তে আমাদের তা স্মরণ করতে হবে। পরবর্তীতে তাদের কিছু কাজ আমাদের স্বার্থবিরোধী হয়েছে যেমন যুদ্ধ শেষে সকল যুদ্ধবন্দী ও অধিকৃত অস্ত্রসস্ত্র সব ভারত হস্তগত করে। ফারাক্কা বাঁধ সহ আরো বেশকিছু নদিতে বাঁধ দিয়ে আমাদেরকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা। সীমান্তে ভারত যে পরিমাণ বাংলাদেশী হত্যা করে, পৃথিবীর অন্য কোথাও এরকম হয় বলে জানা নেই। রোহিঙ্গা সমস্যায় ভারত সর্বদাই বাংলাদেশ এর বিপরীত অবস্থানে। এন আর সি করে ভারতীয়দের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা।

এসকল কর্মকান্ডর কারনে ভারতের বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন আসতেই পারে। তদুপরি যাকে নিয়ে এই ঘটনা প্রবাহ তাকে পুরো পৃথিবী চেনে গুজরাটের কসাই হিসাবে। তার মুসলিম বিদ্বেষী সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে ( যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ ) বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন।
৯০% মুসলিম জন অধ্যুষিত এদেশে সেই ব্যাক্তিকে আমন্ত্রণ জানানোর পূর্বে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন ছিল না কি? সরকার একটি দল থেকে নির্বাচিত হয়। তাদের নির্দিষ্ট কিছু চিন্তা ভাবনা থাকে। পূর্ব থেকেই তাদের কিছু নির্ধারিত বন্ধু ও (শত্রু) অবন্ধু থাকে। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতি সবসময়ই পরিবর্তনশীল তাই বন্ধু বা শত্রুও বদলে যেতে পারে যে কোন সময়। ভারত আমাদের সাথে যা করেছে বা করছে তার জন্য দোষ খুব একটা দেয়া যায় কি? কারন তারা যা করেছে বা করছে সেটা তাদের স্বার্থে করেছে। কিন্তু আমরা কেন আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারিনি তার জবাব কে দেবে?


ধর্ম ভিত্তিক দলগুলি যখন প্রতিবাদ সভা বা বিক্ষোভ মিছিল এর আয়োজন করে তখন তাদের মুখোমুখি কেন সরকার সমর্থক অংগসংগঠন গুলি দাঁড়াবে? দেশে সুসংগঠিত বিভিন্ন বাহিনী রয়েছে যারা সারাজীবন এ সকল কাজের উপর প্রশিক্ষণ পায় এবং এই সব কাজে তারা নিশ্চয়ই দক্ষ। বাহিনীগুলি এইসব মিটিং মিছিল মোকাবেলা করতে যেয়ে যেন জনবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

মিটিং মিছিল আহ্বানকারী দের প্রতিরোধ করার জন্য যারা হেলমেট পড়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ্যাকশনে থাকে তারা কি আইনসিদ্ধ কাজ করছে? তাদের বিরুদ্ধে আইনি শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি কোন ব্যবস্থা নেয়?
মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি- আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পৃথিবীর অনেক দেশের নেতারা বানী পাঠিয়েছেন। কোন কোন সরকার বা রাস্ট্র প্রধান সশরীরে এসেছেন। কোন নেতাকে নিয়ে কথা ওঠেনি। যাকে নিয়ে এত সমস্যা তাঁকে অতিথি হিসেবে এনে আমরা কেন নিজের নাক কাটলাম? না পারলাম আমরা অতিথির মর্যাদা রক্ষা করতে ( কারন তিনি তার লোকদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন ) না পারলাম দেশের জনগণকে খুশী রাখতে!

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536