নিরাপত্তার কথা ভেবে বিনা মজুরিতে ১৫ বছর রেলগেট সুরক্ষায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী জানে আলম

নিরাপত্তার কথা ভেবে বিনা মজুরিতে ১৫ বছর রেলগেট সুরক্ষায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী জানে আলম

অন্তর আহম্মেদ নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
বিনা মজুরিতে ১৫ বছর রেলগেট সুরক্ষায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী জানে আলম
শ্রবণ প্রতিবন্ধী শেখ জানে আলম

নওগাঁর আত্রাই রেলগেটে ১৫ বছর ধরে বিনা মজুরিতে রেলগেট সুরক্ষায় কাজ করছেন শ্রবণ প্রতিবন্ধী মো. শেখ জানে আলম (৬৫)। উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের বিহারিপুর গ্রামের শেখ আফাজ উদ্দিনের ছেলে জানে আলম মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই এ কাজ করছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশে একটি ও দক্ষিণ পাশে রেল ব্রিজ সংলগ্ন একটি গেট রয়েছে। উত্তর পাশের গেটে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুইজন গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও দক্ষিণ পাশের গেটে কোনো গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এখানে সবসময়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

এসব দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ১৫ বছর ধরে রেলগেট সুরক্ষায় কাজ করছেন জানে আলম। ওই সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০০ টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হয় তাকে। সেই থেকে আজও জানে আলম এককভাবে ২৪ ঘণ্টা গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন । এ রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫টি যাত্রীবাহী ট্রেনসহ ও আরও কয়েকটি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। তবে জানে আলমের পক্ষে একা দিন-রাত গেটম্যানের দায়িত্ব পালন অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে রাতের বেলায় এ গেটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

উল্লেখ্য, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলস্টেশনটি বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় শতকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ, আসাম, কুচবিহার, দার্জিলিংয়ের সঙ্গে ভারতবর্ষের তখনকার রাজধানী কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। সে সময় আত্রাইয়ে একটি রেলস্টেশন স্থাপন করা হয়। দক্ষিণ পাশের গেটে আজ পর্যন্ত কোনো গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

শেখ জানে আলম বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কাজ করছি। এই বয়সে আমার আর সরকারি চাকরি হবে না। তাই আমার ছেলের জন্য রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। ছেলেকে যদি রেল কর্তৃপক্ষ চাকরি দেন তাহলে আমার ১৫ বছরের কষ্ট সার্থক হবে।

আহসানগঞ্জ স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের অধীনে ৯৭৮টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৭৫৭টিতে গেটকিপার ছাড়া রেল আসা যাওয়া করছে। এ ছাড়া, গেটকিপার হিসেবে রেলওয়েতে শুধু ১৮৯ জন স্থায়ী কর্মী রয়েছে। বাকি ১২২ জন অস্থায়ী ভিত্তিতে ১৫০ টাকা দৈনিক মজুরিতে কাজ করছেন।

আত্রাই রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করায় এটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এখানে স্থায়ী গেটম্যান না থাকায় সব সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা এড়াতে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। শেখ জানে আলমের ছেলের চাকরির জন্য রেল দফতরে আবেদন পাঠিয়েছেন বলে জানান স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে দেখছি একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ রাত-দিন গেট পাহারা দিচ্ছেন। আমরা সকলেই তাকে সহযোগিতা করি। তিনি খুব ভালো মানুষ।

আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন , ‘এখানে স্থায়ী গেটম্যান না থাকায় প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এখানে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’#

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536