না ফেরার দেশে চলে গেলেন আধ্যাত্মিক বাউল আব্দুর রহমান

না ফেরার দেশে চলে গেলেন আধ্যাত্মিক বাউল আব্দুর রহমান

মহসিন মুন্সী, ব্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

ফরিদপুরের খ্যাতিমান আধ্যাত্মিক সাধক বাউল আব্দুর রহমান আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ১১৮ বছর। শনিবার সকাল ১১ টায় সংসারের মায়া ত্যাগ করে তিনি না ফেরার দেশে চলে জান। মৃত্যুকালে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, নাতি নাতনি সহ অসংখ্য গুনগ্রাহি রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে ফরিদপুরের বাউল, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে সকলেই ফরিদপুর শহরের চর কমলাপুর নিজ বাস ভবনে ছুটে যান। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপিত, ফরিদপুর হল্যান্ড চিন্ড্রেন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শিল্প প্রতি শামীম হক, ফরিদপুর পৌর মেয়র অমিতাভ বোস, ফরিদপুর লালন পরিষদের সভাপতি বাউল পাগলা বাবলু খান, শিবাজী নিকেতনের সভাপতি বিজয় পোদ্দার, আলীপুরের ব্যবসায়ী মোস্তফা খানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বাদ এশা তার নামাজের জানাজা শেষে তার নিজ বাড়ীতে ১ম স্ত্রীর কবরের পাশে দাফন সম্পূর্ণ করা হবে। পারিপারিক সূত্রে জানা যায় তিনি যৌবনকালে দেশের খ্যাতিমান লালন ঘারানার সাধক প্রায়াত মহিম শাহ এর কাছে দিক্ষ্যা গ্রহণ করে বাউল দর্শনে প্রবেশ করেছিলেন। অসংখ্য গান রচনা ও সূর করেছেন। তার সুর করা গানের মধ্যে রয়েছে “আরাফাতে কাবাতুল্লাহ/খোদ খোদার ঘরে মোন আমার চল, হজ্বে চলোরে…… আবার তিনি নিজে লেখেছেন “মানব দেহে রকেট প্লেন/হাওয়াতে করছে ভ্রমন/রকেট হাওয়ার জোরে চলে/হাওয়া জোরে কয় কথা/যখন ইচ্ছালয় মনে তার/চলে যায় যথা তথাসহ বিভিন্ন গান। দীর্ঘ জীবনে মানুষ হয়ে মানুষকে ভালবাসা আর মানবতার আলো ছড়িয়ে যাবার সংগ্রামে তিনি নিবেদিত ছিলেন ফকির লালন শাহ্ ও মহিম শাহ্ ঘারনায়। স্বীকৃতী স্বরূপ পেয়েছেন মহিম শাহ্ স্বর্ণ পদক, সাংবাদিক গৌতম স্মৃতি পদক, খোদা বক্স শাহ্ পুরুস্কার, ঢাকা শিল্প কলার সম্মাননা সহ অসংখ্যা পুরস্কার।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536