Darpon TV-৩৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদে ফাঁসলেন যমুনা অয়েলের এজিএম

Darpon TV-৩৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদে ফাঁসলেন যমুনা অয়েলের এজিএম

নিউজ ডেস্ক: প্রায় ৩৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মামলার আসামি হলেন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (কেমিক্যাল) মো. আবদুল্লাহ রশিদ ও তার স্ত্রী মিসেস শামিমা আক্তার।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলাতেই মো. আবদুল্লাহ রশিদকে আসামি করা হয়েছে। দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য মামলার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (কেমিক্যাল) মো. আবদুল্লাহ রশিদ ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন, যেখানে তিনি ১ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ১৭৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্ণনা দিয়েছেন। তবে দুদকের যাচাই-বাছাইয়ে ২ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার ১২৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি মোট ৭৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে ৯ লাখ ৩ হাজার ৯২৯ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সন্ধান মিলেছে।

এছাড়াও অনুসন্ধানে ওই সম্পদ ব্যতীত বিভিন্ন ব্যাংকে ২৯টি এফডিআর ও ৮টি সঞ্চয়ী হিসাবে মোট ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ টাকার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৭ কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৫২ টাকার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি যমুনা অয়েলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক। এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করার মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। যে কারণে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ (২) এ (৩) ধারায় মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তার স্ত্রী মিসেস শামিমা আক্তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মোট ৩ কোটি ৯৪ লাখ ১২ হাজার ১১০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব দেখিয়েছেন। অথচ দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে ১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য মেলে। এর মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৮ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট ১০ কোটি ৫৩ লাখ ৩১ হাজার ৪৫১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ১২ কোটি ১৬ লাখ ৬৯ হাজার ১১৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

এছাড়া সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পদের অতিরিক্ত তিন ব্যাংকে এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাবে ৩ কোটি ৯০ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৬ টাকা পাওয়া যায়, যার কোনো বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি যমুনা অয়েল কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ রশীদের স্ত্রী শামিমা। দুদক মনে করে, স্ত্রীর নামে এতো সম্পদ অর্জনে আবদুল্লাহ রশীদ সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536