‘দিয়াড়া নারিকেলবাড়িয়া’ য় নতুন দিনের ডাক! darpontv.com(সত্যের প্রতিচ্ছবি)

‘দিয়াড়া নারিকেলবাড়িয়া’ য় নতুন দিনের ডাক! darpontv.com(সত্যের প্রতিচ্ছবি)

মহসিন মুন্সী, ব‍্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

বাংলাদেশের একটি জেলা ফরিদপুর, যার একটি পশ্চাৎপদ উপজেলা সদরপুর এর একটি প্রান্তিক ইউনিয়ন ” দিয়াড়া নারিকেলবাড়িয়া “। আজকের কথামালা সব এই ইউনিয়নকে ঘিরে।


অনেক অনেক আগে এই এলাকার জনগন ভালভাবেই সুখে, স্বাচ্ছন্দ্যে, বিত্ত বৈভবে দিনাতিপাত করছিল। তাদের সেই সুখের সময়ে বাগড়া বসায় প্রমত্তা, রুদ্র পদ্মা। সমস্ত এলাকা ভেঙে তছনছ করে দেয়। বিত্তশালী লোকগুলো হঠাৎ করেই কপর্দকহীন হয়ে পড়ে। জীবনযুদ্ধে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অবশ‍্য একসময় পদ্মা শান্ত হয়, চর জেগে ওঠে ঐ সমস্ত এলাকায়। হলে কি হবে সরকারের নিয়মকানুন এর ফেরে নন্দলালপুর, হকিয়তপুর, খালপাড়, বেথুয়া, চর জানাজাত সহ অত্র এলাকার সাধারণ জনগন তাদের পৈত্রিক ভিটাবাড়ির মালিকানা বুঝে পাচ্ছিলনা। এলাকাটি ছিল ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার সীমান্তবর্তী। এরশাদ সরকারের শাসনামলে মহকুমাগুলি জেলায় উন্নীত হলে এই এলাকাটি হয়ে পড়ে ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর এই চার জেলার সীমান্ত এলাকা।


প্রশাসনিক জটিলতার কারনে যেমন এলাকাটি সঠিক জরিপ সমাপন কষ্টকর। তেমনি একশ্রেনীর ভূমিদস‍্যুদের কারনে নিরিহ জনগন সঠিকভাবে ভূমি ভোগ করতেও পারছে না, এমনকি তাদের রোপিত ফসলও তারা নিজের গোলায় তুলতে পারছেনা। ভূমিদস‍্যুরা জোরপূর্বক ফসল কেটে নিয়ে যায়। নিরিহ গ্রামবাসিদের মারধর করে। এমনকি এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত বেশ কিছু খুন খারাবিও হয়েছে।
একসময়ে এই অঞ্চলের জনগণের ন‍্যায‍্য দাবী আদায়ের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন জনাব আব্দুল মজিদ সরকার, আব্দুল মজিদ হাওলাদার, শুক্কুর হাওলাদার দের মত বিদগ্ধ জনেরা। বর্তমানেও বেশকিছু সমাজকর্মী অত্র এলাকার জনগনের ন‍্যায‍্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রশাসনের নির্দেশনা ও স্থানীয় সংসদ সদস‍্যের সক্রিয় তত্বাবধানে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ যুগ শেষে এক সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা অায়োজন করা হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই সর্বদলীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় মৃত আব্দুল মজিদ সরকারের বাড়িতে। সেই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সকল গন‍্যমান‍্য ব‍্যাক্তিগন এবং সংলগ্ন সকল এলাকার গনপ্রতিনিধিবৃন্দ। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস‍্য মহোদয়।
উপস্থিত সকল পক্ষ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে নিজেদের মধ‍্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভূমি ব‍্যবস্থাপনার কাজগুলো সম্পাদন করতে সবাই একমত। এলাকার সাধারণ জনগণের আশা, ‘এবার হয়তো একটা সমাধান আসবে। এখন হয়তো তারা ফসল বুনে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। হয়তো বাপের ভিটের মালিকানা এবার পাবেন’।
আমরাও আশাবাদী হতে চাই এ বিষয়ে। সাধারণ শান্তিপ্রিয় জনগন যেন তাদের ন‍্যায‍্য অধিকার পায়। নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমাতে পারে। কোন লুটেরা, দস‍্যু বা সুযোগ সন্ধানী যেন তাদের অধিকার বা ঘুম কেড়ে নিতে না পারে।
তবে এজন‍্য সর্বপ্রথম যে কাজটি করা প্রয়োজন তা হচ্ছে এলাকার সীমানা নির্ধারণ। এলাকাবাসী তাদের সাংসদের উপর অত‍্যন্ত আস্থাশীল যে তিনি দ্রুতই সরকারি উদ‍্যোগে সীমানা নির্ধারণের কাজটি শেষ করাতে সক্ষম হবেন।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536