Darpon TV- মানুষ মানুষের জন‍্য

Darpon TV- মানুষ মানুষের জন‍্য

মহসিন মুন্সী, ব‍্যুরো চীফ, ফরিদপুর।

গজারিয়া ব্রীজের পাশেই পড়ে থাকতো এক পাগলী, যার শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যা বর্নণার অতীত। ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক অসুস্থ মহিলাটির সন্ধান পায় ফরিদপুর এর কিছু মানবিক ছেলে-মেয়ে। যাদের মধ‍্যে মহুয়া ইসলাম, তারিক হাসান ও ছিলেন। বিষয়টি তাদেরকে প্রচন্ডভাবে নাড়া দেয়। তারা অনেক চেষ্টা করে মহিলাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করেন এবং খাওয়ানোর ব‍্যবস্থা করেন। এরই মধ‍্যে আরোকিছু মানবিক গুনসম্পন্ন মানুষ এগিয়ে আসেন পাগলিকে সহযোগিতা করতে। যাদের মধ‍্যে ছিলেন আজিজুর রহমান ও জাহিদ মিলন রা ও।

ঐ মহিলা অনেকগুলো ( ১০/১৫ টি ) পোষাক পরিধান করে ছিলেন। তার দুই হাত, কোমর এবং নিম্নাঙ্গে ঘাঁ হয়ে তাতে পোকা কিলবিল করছিল।
ছেলে-মেয়েরা অন‍্যদের সহযোগিতায় মহিলাকে হাসপাতালে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও চিকিৎসা তখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারন এই ধরনের একজন রোগীর সেবা শুশ্রূষা করার জন‍্য একজন সার্বক্ষণিক লোক প্রয়োজন, তা পাওয়া যাবে কোথায়? আবার এই ধরনের মারাত্মক রোগী অন‍্য রোগিদের জন‍্য মারাত্মক ক্ষতিকর তাইতো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই রোগী রাখতে রাজি নয়।
এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তারা সরকারের বিশেষ পরিসেবা ৯৯৯ এ কল করেন সাহায্যের আশায়। প‍্রশাসনিক হস্তক্ষেপে মানবিক পুলিশের সহায়তায় চিকিৎসার ব‍্যবস্থা হয়।
এরপর একজন শুশ্রূষাকারী কোথায় পাওয়া যাবে? উপরওয়ালা তাও মিলিয়ে দিলেন। হাসপাতালের ই একজন আয়া। যিনি নিজেই অত‍্যন্ত গরীব, তারপরও যেচে এসে দায়িত্ব নিলেন ঐ মহিলার দেখাশোনার।
ঐ রোগির শুরু থেকে এ পর্যন্ত যারা তার প্রত‍্যাবাসন ও চিকিৎসায় ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ‍্যে রয়েছে ” মানুষের পাশে ফাউন্ডেশন “, ” মানবিক ফরিদপুর ” ও ” মানবিক ইউনিট পুলিশ ” এর বেশকিছু সদস‍্য। যাদের মধ‍্যে আজিজুর রহমান, জাহিদ মিলন, মহুয়া ইসলাম, তারিক হাসান, নিলুফার ইয়াসমিন রুবি, এ এস আই সজীব অন‍্যতম। এরা সবাই যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন এবং সক্রিয় রয়েছেন।
“মানুষের পাশে ফাউন্ডেশন” এর মহুয়া ইসলাম এবং তারিক হাসান তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাথে তাদের সংগঠনের অন‍্যান‍্যরা ও ভূমিকা রাখছেন। এ এস আই সজীব ও তার মানবিক পুলিশ টিম এর ঐকান্তিক চেষ্টায় রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ” মানবিক ফরিদপুর ” এর আজিজুর রহমান, জাহিদ মিলন, নিলুফার ইয়াসমিন রুবি এবং তাদের সংগঠন তাদের সাধ‍্যানুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেবা দেয়ার জন‍্য। এ যেন এক সেবার প্রতিযোগিতা, কে কার চেয়ে বেশী সেবা করতে পারে। প্রতিযোগিতায় কেউ পরাজিত হতে রাজি নয়।
এলাকার সচেতন সমাজ আশা করছেন যে এদের দেখে এই রকম মানবিক গুনসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা আরো বাড়বে। সকলের আশা সমাজে মানবিক গুনগুলি ছড়িয়ে পড়ুক এবং গুনাবলী সম্পন্ন মানবিক মানুষে পূর্ণ হয়ে উঠুক। যেখানে একের দুঃখে অন‍্যে ব‍্যথিত হবে, একের কষ্টে অন‍্যে কষ্ট পাবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536