মাদারীপুরের শিবচর পৌর নির্বাচনে ওসিকে নিয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন-পুলিশ সুপার।

মাদারীপুরের শিবচর পৌর নির্বাচনে ওসিকে নিয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন-পুলিশ সুপার।

মীর এম ইমরান ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
মাদারীপুরের শিবচর পৌর নির্বাচনে ওসিকে নিয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সুপার। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) চাইলাউ মারমা, সদস্য সচিব সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আবির হোসেন এবং কমিটির সদস্য শিবচর সার্কেল অফিসের পরিদর্শক আনোয়ারুল করিম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিসিটিভি ও ওই দিন কর্তব্যরত সংবাদকর্মীদের ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষনে দেখা যায় শিবচর পৌর নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর,সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সকল প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমাকালেই উপস্থিত ছিলেন ওসি মোঃ মিরাজ হোসেন।

মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে কয়েকজন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন জমাকালেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জকে একই স্থানে মনোনয়নপত্র জমা নিতে দেখা যায়। ওসি মিরাজ হোসেন দাবী করেন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাও একই মতামত পোষণ করে সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমাকালে ওসি উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি শিবচর পৌরসভার নির্বাচন। ২ ফেব্রæয়ারি ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওই দিন বেলা ১০টার পর থেকে বিভিন্ন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। শুরু থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার হারুন-অর-রশিদ ও অফিসার ইনচার্জ মো: মিরাজ হোসেন মনোনয়ন পত্র জমাদানকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১২ টার পর আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী মোঃ আওলাদ হোসেন খান দলীয় নেতাদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এসময়ও উপরোক্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ মোঃ সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ দলীয় নেতৃবৃন্দ সাথে থেকে মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি। সেখানে আগে থেকেই ইউএনও,ওসি, নির্বাচন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ওসিকে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কোন প্রশ্নই আসে না।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোঃ আওলাদ হোসেন খান বলেন, আওয়ামী লীগের সীমিত সংখ্যক নেতৃবৃন্দ নিয়ে আমি মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি। সেখানে আগে থেকেই কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিবচর থানার ওসি মিরাজ হোসেন বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সেদিন আমি শুরু থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের অফিসে ছিলাম। মেয়র,কাউন্সিলর,সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সকল প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আমার অফিসে সেদিন ওসি শুরু থেকেই ছিলেন। প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা থাকায় ওসির থাকাটা দরকার ছিল। কর্মকর্তারা এক পাশে থেকে সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা নিয়েছে। এরমধ্যে আমি দোষের বা আচরন বিধি লংঘনের কিছু দেখি না।
শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ লতিফ মোল্লা বলেন, শিবচর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্রজমা দিয়েছে অন্য কোন দলের কোন প্রার্থীই মনোনয়ন জমা দেয়নি। তাই আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আওলাদ হোসেন খান বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ের পথে।
শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান মোল্লা বলেন, শিবচর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ওসিকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার খবরটি ভিত্তিহীন।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536