“দে‌শের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলার স্বা‌র্থে রো‌হিঙ্গা ক্যা‌ম্পে স‌র্বোচ্চ তৎপরতা নি‌শ্চিত করুন”

“দে‌শের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলার স্বা‌র্থে রো‌হিঙ্গা ক্যা‌ম্পে স‌র্বোচ্চ তৎপরতা নি‌শ্চিত করুন”

  • কক্সবাজা‌রে পু‌লিশ‌কে আই‌জি‌পি

মহসিন মুন্সী, বিশেষ প্রতিনিধি।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) কক্সবাজার জেলায় সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বুধবার (২০ জানুয়ারি ২০২১ খ্রি.) সন্ধ্যায় সৈকত ফাঁড়িতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সম্মেলন কক্ষে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
পুলিশি কার্যক্রমকে এক ধরনের যুদ্ধের সাথে তুলনা করে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, অপরাধ দমন ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে যুদ্ধ করে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হয়।
তিনি বলেন, পুলিশকে জনগণের ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান।
প্রায় চার ঘন্টা স্থায়ী মতবিনিময় সভায় পুলিশ প্রধান জনাব বেনজীর আহমেদ বলেন, পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা ইস্যু কক্সবাজারের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার জন্য জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি। তি‌নি ব‌লেন, দে‌শের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলার প্র‌তি রো‌হিঙ্গা ইস‍্যু যে‌নো কো‌নোভা‌বেই হুম‌কির কারন হ‌য়ে না দাঁঁড়ায় দে‌শের স্বা‌র্থে সে‌দি‌কে ক‌ঠোর দৃ‌ষ্টি দি‌তে হ‌বে।
তিনি বলেন, এখানে গতানুগতিক পুলিশিংয়ের পরিবর্তে গোয়েন্দা তথ্য নির্ভর পুলিশিং করতে হবে, নজরদারি বাড়াতে হবে। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ ইউনিটের চলমান কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা আইজিপির সামনে তুলে ধরেন।

কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় এপিবিএন এর অতিরিক্ত আইজি মোঃ মোশারফ হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন সহ জেলা পুলিশ, এপিবিএন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং অন্যান্য ইউনিটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ শেয়ার করুন

মোঃসামছু উদ্দিন লিটন, বিশেষ প্রতিনিধি নোয়াখালী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে থেকে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৭) দুই মাস পর ঢাকার সাভার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে চারজনকে আসামি করে দুটি মামলা করেন। মামলায় আসামি সাইফুল ইসলাম ইমনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড ও ফয়সালের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছে আদালত।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অপহৃত ছাত্রীকে সাভারের পূরগাও এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে অপহৃত ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার পর সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। অভিযানকালে বেগমগঞ্জ থানার এসআই মোস্তাক আহমেদ, ফিরোজ আলম, রুবেল মিয়া ও এএসআই নূর নবীর নেতৃত্বে শনিবার সন্ধ্যায় সাভারের পূরগাও এলাকার জৈনিক রুবির বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। তবে এসময় ওই বাসায় অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সাইফুল ইসলাম ইমন ও ফয়সালকে শনিবার বিকালে নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মোসলেহ উদ্দিন মিজান ১৬৪ ধারায় আসামি ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অপর আসামি ইমনকে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলায় তিন দিন ও পর্ণোগ্রাফি মামলায় দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রদান করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন জানান, পৃথক দুটি মামলায় সাইফুল ইসলাম ইমনকে পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করলে আদালত দুটি মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ রাতে মামলার আসামি ফয়সাল ও জোবায়ের ঘরে ডুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তার ভিডিও ধারণ করে। ঘরে থেকে যাওয়ার সময় তারা আলমেরি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও দুইটি আংটি নিয়ে যায়। গত ২০২০ সালের ৫মার্চ রাত আড়াইটার দিকে ইমন ও রাসেল ঘরে ডুকে নির্যাতিতাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার তিন মাস পর রাসেলকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকার মিরপুর-২, ৭নং রোডের ৩নং গলির জান্নাত নামে এক নারীর কাছ থেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন তার মা। ওই তিন মাসে অপহৃতাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রাসেল। এরপর বিভিন্ন সময় ইমন বাড়িতে এসে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সবশেষ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে আবারও অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি ফয়সাল ও ইমনকে গ্রেপ্তার করে।

নোয়াখালী থেকে অপহরণের দুই মাস পর কিশোরী উদ্ধার

themesbazartvsite-01713478536