শিক্ষা বনাম সুশিক্ষা পর্ব ২

শিক্ষা বনাম সুশিক্ষা পর্ব ২

মহসিন মুন্সী, বিশেষ প্রতিনিধি।

সম্প্রতি আনুষকা ও দিহানের বিকৃত যৌনাচারে আনুষকার মৃত্যুতে তাদের যৌন শিক্ষা না থাকার কারণে এই কাজ করেছে, এমনটাই বলেছেন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা সুলতানা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন শিশু ও তরুণদের যৌনাচার নিয়ে৷ তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও যৌনশিক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই৷ তাদেরকে যৌন শিক্ষা দেওয়া উচিৎ। এমনকি তারা এটাও বলেছেন যে প্রত্যেক অঙ্গের কথা উল্লেখ করে করে ছাত্র -ছাত্রীদের সামনে আলোচনা করার।

প্রথমেই আমাদের একটা বিষয় বুঝতে হবে যে যৌনাচার একটা খুবই স্পর্শকাতর ব্যাপার। মানুষ বলেন আর অন‍্য প্রাণী বলেন, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সবারই আছে। যে বলবে যে এটা আমার নেই সে হয়তো তৃতীয় লিঙ্গের অথবা থাকা সত্ত্বেও সে এটাকে আস্বীকার করছেন। এখন এই যৌনাচারকে যদি ছেলেমেয়েদের সামনে খোলামেলা আলোচনা করা হয় তাহলে তাদের কি অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখেছেন কি?
যৌন শিক্ষা দেওয়ার মত কিছু নেই, যদি একজন মুসলিম তার ধর্মকে মেনে চলে। ইসলামের নিয়ম কানুন সঠিকভাবে মেনে চলে। মহান আল্লাহ তালা বহু পূর্বেই মানুষকে অবৈধ যৌনাচারকে হারাম ঘোষণা করে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন “তোমরা অবৈধ যৌন সংযোগের নিকটবর্তী হয়োনা, ওটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।” [ সূরা ১৭ বানি ইসরাইল ৩২ আয়াত]
এছাড়াও রাসূলুল্লাহ ﷺ বিকৃত যৌনাচার করতে কঠোর ভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন
“তোমরা স্ত্রীদের গুহ্যদ্বারে (পিছনের মলদ্বার দিয়ে ) সঙ্গম করো না।” ( মুসনাদে আহমদ৬৫৫)
এখন আপনারা বলতে পারেন যৌনশিক্ষা না থাকার কারণে অনুষকা ও দিহান এই রকম বিকৃত যৌনাচার করেছে ‌‌। আসলে এই কারণে নয় বরং তাদের মাঝে ইসলামী শিক্ষা না থাকার কারণে এই অবৈধ হারাম কাজে লিপ্ত হয়েছে।
একটা প্রাণী অপর বিপরীত লিঙ্গের প্রাণীর সাথে যৌনাচার করে কিন্তু তাকে কখনো যৌনাচারের নিয়ম কানুন কিছুই শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন পরে না। নিয়মের মধ্যই তারা তাদের চাহিদাকে পূরণ করছে।
মানুষও সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি হিসেবে তার যৌন চাহিদা ইসলাম যে নিয়ম কানুন শিক্ষা দিয়েছে সেই ভাবে তার চাহিদাকে মিটাবে। আর এর জন্য প্রয়োজন ইসলামী শিক্ষা। তাই সমাজে যৌনশিক্ষার মতো অশ্লীল শিক্ষা না দিয়ে ইসলাম শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা উচিৎ। কারণ ইসলাম হচ্ছে একটি পরিপূর্ন জীবনবিধান।
এখন অনেকে বলতে পারেন ইসলাম ধর্ম পালন করেও তো অনেকে অবৈধ যৌনাচার করছে। প্রশ্ন হচ্ছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই কি পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়া যায়, যতক্ষন না সে ইসলাম ধর্মের প্রত্যেকটি বিধি বিধানের আদেশ নিষেধ পরিপূর্ণ ভাবে পালন করছে। তাই আমাদের উচিত আদর্শ মুসলিম হওয়া মডারেট মুসলিম নয়‌।
হে মু’মিনগণ! তোমরা পূর্ণ রূপে ইসলামে প্রবিষ্ট হও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করনা, নিশ্চয়ই সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।(বাকারা ২০৮)
মিডিয়া আনুশকার বিকৃত যৌনাচারে মৃত্যুর পর প্রচার করছে, শিক্ষা সিলেবাসে যৌনশিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। কিন্তু এখানে কয়েকটি কথা উঠে আসে-
বিকৃত যৌনচারের উৎস পর্ণগ্রাফী বন্ধ না করে তারা পাঠ্য বইয়ে যৌনশিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করতে কেন বলছে? এই গোষ্ঠীটির স্বভাব সব সময় এক জিনিস দেখিয়ে অন্য জিনিস খাওয়ানো। যেমন- ছোট বাচ্চা ধর্ষণ হইছে, এটা দেখায় তারা প্রচার করে- “ধর্ষণের জন্য পোষাক দায়ী নয়, সুতরাং সবাই ছোট পোষাক পরো।” অথচ ধর্ষককে যে জিনিসগুলো (যেমন-পর্নোগ্রাফী, নারীর ছোট পোষাক)অ্যাগ্রেসিভ করছে, এবং ঐ নারীকে না পেয়ে সে ছোট বাচ্চার উপর হামলে পড়ছে, এ বিষয়টি তারা কৌশলে এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ কোন ইনসিডেন্টকে পূজি করে তারা নিজস্ব মতবাদ বিস্তার করে। কিন্তু তাদের দেয়া ভুল ওষুধ খাওয়ার কারণে যে সমাজের রোগ আরো বেড়ে যেতে পারে, এটা তারা বুঝতে চায় না।
পাঠ্যবই যৌনশিক্ষা দিবে, খুব ভালো কথা। কিন্তু উত্তম যৌন শিক্ষা কোনটা ?
তার মানদণ্ড কি হবে ?
তাদের মানদণ্ডে তো পায়ুকামীতা/সমকামীতাও গ্রহণযোগ্য।
আনুশকা মারা গেছে পায়ুকামীতার জন্য।
তো যৌনশিক্ষা বইয়ে যদি পায়ুকামীতাই শেখায়, তাহলে সে শিক্ষা নিয়ে বাচ্চা কতটুকু বিকৃতমনা থেকে উদ্ধার হবে ?
যে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের যৌনতা শেখাবে, সে নিজেই যে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে প্র্যাকটিকাল ক্লাস করা শুরু করবে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে ? এমনিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিমলের অভাব নেই। এর মধ্যে যদি শিক্ষকদেরকে যৌনশিক্ষা সিলেবাস দিয়ে দেয়া হয়, ছোট ছোট বাচ্চারা যে শিক্ষকদের রক্ষিতাতে পরিণত হবে না, তার নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।
যে সব দেশে পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে যৌনশিক্ষা দেয়া হয়, সেসব দেশগুলোতে ধর্ষণ বা বিকৃত যৌনচার নেই, এমন কোন ডাটা কি তারা প্রকাশ করতে পারবে ? বরং সেসব দেশে (পশ্চিমে) তো এগুলো আরো বেশি দেখা দেখা যায়। এ থেকেই তো বোঝা যায়, ধর্ষণ ও বিকৃত যৌনাচার ঠেকাতে তাদের পলিসি হচ্ছে ভুল ওষুধ। যে ওষুধ ট্রায়ালে রোগ আরো বেড়ে যায় বলে প্রমাণিত, সেই ওষুধ কিভাবে আমরা নিতে পারি?
মানুষ বিকৃত যৌনচারে যায় কখন ? যখন কারো কাছে ন্যাচারাল সেক্স পুরাতন হয়ে যায়, তখন সে নতুনত্ব খুজতে অ্যান-ন্যাচারাল সেক্সের দিকে যায়। আপনি নতুন প্রজন্মকে ফ্রি-মিক্সিং, বহুগামিতা, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কালচার বা লিভ-টুগেদার অর্থাৎ সহজলভ্য বহুগামী সেক্সের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তখন ২-৪ বছরের মধ্যে তার কাছে স্বাভাবিক সেক্স জীবন তো ভালো লাগবে না, সে নতুনত্ব খুজবে, আর নতুনত্ব খুজতে গিয়েই সে আন-ন্যাচারাল সেক্সের দিকে যাবে, বিকৃত যৌনাচারে মজা খুজবে। সুতরাং এই বিকৃত যৌনচার আটকাতে আপনাকে আগে বহুগামিতা, ফ্রি-মিক্সিং, বহুগামি সেক্সের অ্যাভেলএ্যাবিটিলি বন্ধ করতে হবে। সেক্সের অ্যাভেলএ্যাবিটিলি হ্রাস করতে আপনাকে সেক্সের জন্য দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টিকে গ্রহণ করতে হবে। লিভ- টুগেদারের মাধ্যমে কিন্তু নারী-পুরুষ পরস্পরের দায়িত্ব নেয় না। কিন্তু ‘বিয়ে’র মাধ্যমে নারী-পুরুষ পরস্পর পরস্পরের দায়িত্ব নেয়, এবং ভবিষ্যত প্রজন্মেরও দায়িত্ব নেয়্। যখন কেউ দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে সেক্স করে, তখন ‘সেক্স’র মূল্য বাড়বে বলে আশা করা যায়

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536