মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র হবে ফরিদপুরের ভাঙ্গায়।

মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র হবে ফরিদপুরের ভাঙ্গায়।

মহসিন মুন্সী, ফরিদপুর।

দেশের প্রথম মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের লক্ষ্যে এই মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি আগামী ১৯ জানুয়ারি অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
কর্কটক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দু ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়, যেখানে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’।
পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিনে ৪টি ও পূর্ব-পশ্চিমে ৩টি রেখা দিয়ে পুরো পৃথিবীকে ভৌগলিক ভাবে ভাগ করা হয়েছে।এই রেখাগুলি সব মিলিয়ে ১২ জায়গায় ছেদ করেছে। নিঃসন্দেহে এই ১২টি বিন্দু হচ্ছে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ বিন্দু। ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে, তাই মানুষ সেখানে যেতে পারে না। একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে, সেখানেও মানুষ যায় না। শুধু ১টি বিন্দু পড়েছে শুকনা মাটিতে, যেখানে মানুষ যেতে পারে, সেই বিন্দুটি পড়েছে ভাঙ্গা উপজেলায়।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র’ স্থাপন প্রকল্পটি আগামী ১৯ জানুয়ারি একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১৩ কোটি টাকা। অনুমোদনের পর ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।
জানা গেছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কর্কট ক্রান্তিরেখা ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার সংযোগস্থল। এখানে মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র স্থাপন করলে বাংলাদেশ থেকেই টেলিস্কোপে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রস্তাবিত কেন্দ্রে সাধারণ জনগণের জন্য থাকবে বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ। এছাড়া এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রনমি বা অ্যাস্ট্রফিজিক্স অলিম্পায়াডে অংশগ্রহণকারীদের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজনের সুযোগ থাকবে। এমফিল, পিএইচডি গবেষকদের জন্য থাকবে মহাকাশ বিজ্ঞানে গবেষণার সুযোগ।
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি গবেষণা ও প্রয়োগধর্মী প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান মহাকাশ বিজ্ঞান ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তি, বন ও পরিবেশ, কৃষি মৎস্য, ভূ-তত্ত্ব, মানচিত্র অংকন, পানিসম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবহাওয়া, ভূগোল, সমুদ্র বিজ্ঞান ইত্যাদি ক্ষেত্রে গবেষণা কাজে নিয়োজিত। এছাড়া কেন্দ্রটি একটি শিক্ষা সহায়ক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। যার সুবিধা পেতে শুধু বাংলাদেশি নয়, বিদেশি পর্যটকদেরও আগমন ঘটবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536