পদ্মাসেতু রেল প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা,তদন্ত করলে সরকার ফেরত আনতে পারে শত শত কোটি টাকা ।

পদ্মাসেতু রেল প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা,তদন্ত করলে সরকার ফেরত আনতে পারে শত শত কোটি টাকা ।

মীর এম ইমরান ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

পদ্মাসেতু রেল প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের বিল উত্তোলনে হয়েছে হরি লুট। সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তার করছে একটি মহল।

প্রথম ধাপে যে বিল প্রদান করা হয়েছে সেখানেও সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে অনেকেই হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। জাল দলিল,ভুয়া কবুলিয়াত দিয়ে নিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা,এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ গেলেও সঠিক তদন্তের অভাবে সরকার টাকা ফেরৎ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ।

সঠিক তদন্ত করলে সরকার প্রথম ধাপে দেয়া বিল থেকে শত শত কোটি টাকা ফেরৎ পেতে পারে। বর্তমানে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তার করছে একটি কৌ’চক্র মহল।

সম্প্রতি পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে দ্বিতীয় ধাপে স্থাবর সম্পত্তির অধিগ্রণের সরকারের শত কোটি টাকা লোপাটের পায়তারা করছে বলে আবুল বাশার নামের এক দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও দূর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় ।

সিন্ডিকেটের যোগসাজসে সরকারের এমন শত কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগে বলা হয়,আবুল বাশার নামের একই ব্যক্তির নামে জমির মালিকানা না থাকলেও ১৪ টি নোটিশের মাধ্যমে ক্ষতিপূরনের টাকা উত্তোলনের জন্য ( ৮ ধারা নোটিশ) মাদারীপুর জেলা প্রশাসন পাঠিয়েছে।

যেখানে সার্ভেয়ার হিসেবে স্বাক্ষর করেন মো.রাসেল আহমেদ। এসব সিন্ডিকেটের যোগসাজসে সরকারের শত কোটি টাকা লোপাট করেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। সে চক্রের অন্যতম সদস্য মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চরবাচামারা গ্রামের আবুল বাশার সরদার।

এ আবুল বাশার,পিতা আলিমিয়া সরদার, একজন মধ্যবিত্ত সংসারের ছেলে পেটের তাগিদে ধারদেনা করে পারি দেন “”বাহারাইন””সেখানে আবুল বাশার নাম বদলে”Md Rana”নামে পরিচিত হয়ে উঠেন একজন আদমব্যবসায়ী, আবুল বাশার””Md Rana” বেশ কয় একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের বাহরাইনে নেন এমন অভিযোগ করেন স্থানীয়়রা।

হঠাৎ করে বাংলাদেশে এসে আবুল বাশার”Md Rana” শুরু করে ” পদ্মা সেতু প্রকল্পের হাইওয়ে রোড ও রেল লাইন ভূমি অধিগ্রহণের দালালি,এর পরে আবুল বাশারের থেমে থাকতে হয়নি। এ প্রকল্পের আওতায় আবুল বাশারের ১ শতাংশ জমি না থাকলেও,নিজের নামে জমি ভূয়া জমির কাগজপত্র দেখিয়ে নিজের নামে বেনামে” বিল তৈরির প্রস্ততি নেন।

যিনি মাদারীপুরের চরবাচামারা গ্রামের সরকারের অধিগ্রহণ করা অন্যের জমিতে গাছপালা,ঘরবাড়ী দেখিয়ে ১৪ টি দাগে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করে। বিষয়টি রেল নিয়ে এলাকায় সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। ইতিপূর্বেও রেল সেতুর প্রথম ধাপে প্রতারন করে সরকারী কর্মচারীদেও সাথে যোগসাজসে এ চক্রের লোকেরা শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যা তাদের সম্পদের খোজ খবর নিলেই পাওয়া যাবে।
শুধু আবুল বাশার সরদার একাই এমনটা করেছে তা নয়। স্থানীয় প্রভাবশালী, নেতাদের ও রয়েছে আলাদা সিন্ডিকেট। তদন্ত করলে শত শত লোক পাওয়া যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। বিগত দিনেও অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। সরকারী জমির বিল উত্তোলন করে হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা। ১০৩ নং মাগুও খন্ড মৌজার এস এ ১৬২৬ দাগে ভ’য়া কবুলিয়াত নামা দিয়ে শিবচর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদ বেপারীর সহায়তায় ভুয়া ট্রেজার করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা । অন্যদিকে ভূয়া দালিল বানিয়ে ১০৭ নং বটেশর মৌজার ০৯,২০ ও ৫০৩ নং দাগে ক্রয়কৃত জমি দেখিয়ে তিন দফায় প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নুর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি। যে দলিল তল্লাসী দিয়ে দলিলের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি ।নুর মোহাম্মদ উত্তর চরজানাজাত গ্রামের মান্নান ফকিরের ছেলে। বিগত দিনে বিভিন্ন দপ্তরে যে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা তারও সঠিক তদন্ত হয়নি কোন অজানা কারনে।

মাদারীপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বিপুল পরিমান জমি অধিগ্রহন করে সরকার। এই অধিগ্রহনকৃত জমি ও অবকাঠামোর বিল নিতে আসতে হয় মাদারীপুর ভুমি অধিগ্রহন শাখায়। এদেরকে কেন্দ্র করেই মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক দালালচক্র।

স্থানীয় প্রভাবশালী এই দালাল চক্র বিভিন্ন কৌশলে নিরিহ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

এসব ঘটনায় দালাল চক্রের দালালদের বিরুদ্ধে মাদারীপুর আদালত এবং থানায় একাধিক মামলা হলেও থেমে নেই তাদের অপকর্ম। গ্রেপ্তারও হয়নি কেউ।

এ বিষয়ে আবুল বাশারের নামের এক দালাল চক্রের সদস্যের মুঠো ফোনে বারবার কল করেও তাকে পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুর মোহাম্মদ বলেন,আমার দলিল ঠিক আছে তার প্রমান দিতে পারি। আমি সম্পুর্ন টাকা একা খাইনি।
সার্ভেয়ার রাসেল আহমেদ বলেন, চর বাচামারা মৌজার তালিকা আমরা তৈরী করিনি। ঐ মৌজার গাছ ঘরের তালিকা করেছে সেনা বাহিনী।নিয়ম অনুযায়ী আমাদেও স্বাক্ষর করতে হয় তাই সেনা বাহিনির তালিকায় আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি মাত্র।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, আমরা শুনেছি ভুমি অধিগ্রহন শাখাকে কেন্দ্র করে একটি দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন বলেন, অন্যের জমিতে যারা নিজের নামে গাছ ঘর উঠিয়েছে তাদেরকে আমরা বিল দিব না। জালিয়াতি করে যারা সরকারী টাকা আত্মসাৎ করেছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। এখনো আবুল বাশারের বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ আমি পাইনি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।

দালাল চক্রের হোতা আবুল বাশার

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536