হাক্কানী জামে মসজিদ, নোয়াখালী

হাক্কানী জামে মসজিদ, নোয়াখালী

মোঃসামছু উদ্দিন লিটন, বিশেষ প্রতিনিধি নোয়াখালী

নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ৬নং কাবিলপুর ইউনিয়নে অবস্থিত হাক্কানী জামে মসজিদ।এটি চট্রগ্রাম বিভাগের মধ্যে ব্যায়বহুল ও সৌন্দর্যময় মসজিদ বলে পরিচিত। সৌন্দর্য ও বিশালতায় এটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম মসজিদ। এই মসজিদটি বর্তমান সময়ে পুনঃনির্মিত একটি মসজিদ যা ৮০’র দশকের প্রথম দিকে খুব ছোট পরিসরে নির্মিত হয়। তখন এর মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাশেম সওদাগর। পরবর্তীতে আবুল খায়ের গ্রুপ কোম্পানীর অর্থায়নে ২০০৭ সালে মসজিদটির পূনঃনির্মাণ শুরু করা হয়ে ২০১০ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মসজিদটি নির্মাণে টাইলস ব্যবহার করে নেই, কাচের প্লেট ব্যবহার করা হয়েছে। নজরকাড়া এই মসজিদটি দূর থেকে এক নজর পড়লে কাছ থেকে একে দেখার জন্য প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়। দূর থেকে একে অনেকটা তাজ মহলের মতন দেখায়। চতুষ্কোণ আকৃতির মসজিদে রয়েছে মোট ৪টি সুউচ্চ মিনার যা মসজিদের মূল ৪টি পিলার বরাবর উপরে উঠেছে এবং রয়েছে মাঝখানে একটি মূল গম্বুজ ও তার দুপাশে মোট ৩টি শাখা গম্বুজ। মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নতমানের উপকরণ। মসজিদের উত্তর পাশে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি এতিমখানা মাদ্রাসা আছে, বর্তমানে এখানে 65 জন ছাত্র আছে তাদের খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ আবুল খায়ের গ্রুপবহন করেএবং পূর্ব পাশে বিশাল ঈদগাঁহ রয়েছে । মসজিদটির ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের বিশেষত্ব হল যে, এর প্রতিটি তলার ছাদেও রয়েছে বিশেষ কারুকার্যের ছোঁয়া এবং প্রতিটি ছাদ বিশেষভাবে ডিজাইন করা। এর প্রধান ফটকসহ সামনের সম্পূর্ণ অংশ কারুকার্যমন্ডিত। প্রধান ফটকের উপরে বিভিন্ন আরবী লেখার পাশাপাশি আরবী ক্যালিওগ্রাফির ন্যায় বাংলাতে মসজিদের নাম খোদাই করে লেখা হয়েছে। রয়েছে গাড়ি পাকিং করার সুব্যবস্থা। স্টলগুলোতে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার দুপুরে আবুল খায়ের গ্রুপ কোম্পানীর অর্থায়নে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটক ও গরীব, অসহায় দুঃস্থদেরকে মেজবান ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের খাওয়ার জন্য আলাদা রুম এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রান্নাঘরটা আধুনিক শয্যায় নির্মাণ করা হয়েছে।কোন অনুষ্ঠানে কারো যেন অসুবিধা না হয় সেজন্য অনেকগুলা টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও এর আশেপাশে বিশাল জায়গা ক্রয় করে রাখছে। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে, তারা এখানে একটা বাড়ি, একটা হাসপাতাল, আরো সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করবে। মসজিদের পাশে শাহা সুফি রফিকুল ইসলাম (রহ)মাজার আছে, কিন্তু ওইখানে কোন দান বাক্স মুরোদ নেই। মাজারের দক্ষিণ পাশে আবুল খায়ের স্ত্রীর কবর, তার মেয়ের কবর, তার এক ছেলের কবর আছে। প্রতিমাসে একবার আবুল খায়ের পরিবারের লোক এই মসজিদে আসে। এছাড়াও ধর্মীয় এবাদতে,বিশেষ করে শবে বরাত শবে কদর এরকম বিশেষ দিনে তারা উপস্থিত থাকে।৩ তলা বিশিষ্ট মসজিদটি দেখতে এবং এ মসজিদে নামাজ পড়তে ভিড় জমান জেলা শহরসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা।

হাক্কানী জামে মসজিদ।

যেভাবে যাবেন

প্রথমে নোয়াখালী জেলায় পৌঁছে আপনাকে সেখান থেকে সি এন জি করে পৌঁছাতে হবে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর গ্রামে। সেখানে গিয়ে এলাকাবাসীদের সওদাগর বাড়ি মসজিদের কথা বললেই, তারা আপনাকে পথ দেখিয়ে দেবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536