জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে সাতকানিয়া আদালতের বিচারিক কার্যক্রম

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে সাতকানিয়া আদালতের বিচারিক কার্যক্রম

রিদুয়ানুল হক, স্টাফ রিপোর্টারঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় ৬১ কি.মি দক্ষিণে সাতকানিয়া উপজেলা অবস্থিত এ-ই সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার চৌকি আদালতে তৎকালীন বৃটিশ আমলে জরাজীর্ণ বেড়া দ্বারা নির্মিত ভবন স্বাধীনতার ৪৫ বৎসর পরও এখনো কোন সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নেই। তৎ মধ্যে দিয়ে চলছে বিচারীক কার্যক্রম এতে যেমনটা বিচারকের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে অপর দিকে আইনজীবীদেরও বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, কাজেই যে কোন সময় দূর্ঘটনা হতে পারে বলে আশংঙ্কা রয়েছে। এ-ই বিষয়ে সাতকানিয়া আইনজীবী বারের বার বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও এডিশলান পিপি মেজবাহ উদ্দীন কচির চৌধুরী বলেন এ-ই সাতকানিয়া চৌকি আদালতে চারটি আদালত স্থিত রয়েছে যেগুলো হল যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সাতকানিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, সাতকানিয়া অতিরিক্ত সহকারী জজ আদালত, লোহাগাড়া সহকারী জজ আদালত, যার মধ্যে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবন, অপর আদালতগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে একশত চল্লিশ বছর পরও দৃশ্যমান উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নাই এই চোকি আদালতে নাই তেমন উন্নতমানের ভবন। ফলে যেকোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। অপর দিকে এই চোকি আদালতে রয়েছে বিচারকের সংকট য়ার কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় নেমে এসেছে ধীরগতি। নানা পদক্ষেপের পরও প্রয়োজনীয় বিচারক নিয়োগ দেয়াও সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বিচারক নিয়েই চলছে বিচার বিভাগ। ফলে বাড়ছে দেওয়ানি মামলা জট। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মামলা হলেও বিচারকাজ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারক না থাকায় দুর্ভোগ পাঠাতে হচ্ছে বিচার প্রার্থী জনগনকে। এভাবে একের পর এক এসব ক্ষোভের কথা বলছিলেন চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক। বর্তমানে আমরা এখনো জরাজীর্ণ ভবনের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করছি। আমাদের আদালত রয়েছে চারটি। কিন্তু বিচারক রয়েছে দুইজন। দীর্ঘ সময় যাবত আমরা বিচারক সংকটে আছি। যার কারনে প্রায় দশহাজার এর অধিক মামলা জট বেঁধে আছে। আমাদের কাছে ম্যাজিস্ট্রেড কোর্ট করার মত পরিবেশ থাকা স্বর্থেও ম্যাজিস্ট্রেড কোর্ট নাই। ১৪৫ যে ধারাটি রয়েছে সে ধারায় মামলা করতে হলে একজন সাধারন মানুষকে সাতকানিয়া লোহাগাড়া থেকে সুদূর চট্টগ্রামে চলে যেতে হয়। সাতকানিয়া লোহাগাড়ার আয়তন প্রায় ৫৪০ বর্গ কিঃমিঃ। যারা শেষ সিমান্তে বসবাস করে তাদের জন্য একটা মামলা পরিচালনা করা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি পড়লেই আদালত প্রাঙ্গন হাটু পানিতে তলিয়ে যায়। একজন সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে একজন আইনজীবী এবং একজন বিচারক পর্যন্ত বর্ষাকালে ভোগান্তির শিকার হয়। সরকারীভাবে এসব সংস্কারের খুবই প্রয়োজন যদিও দীর্ঘ সময় ধরে হচ্ছেনা, এসবের কোন কাজ। এসময় সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি সুনীল বড়ুয়া মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী কছিরের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, আমাদের আদালত ভবন দরকার, পর্যাপ্ত পরিমান বিচারক দরকার এবং ম্যাজিস্ট্রেড কোর্ট দরকার। আমাদের সফলতা রয়েছে। আমরাই চট্টগ্রামে প্রথম যারা একশতটি মামলার মধ্যে আঁশি টি মামলার বিচারকার্য আমাদের আদালতে সম্পন্ন করতে পেরেছি। সুতরাং বিচারক, ভবন, ম্যাজিস্ট্রেড কোর্ট সহ সাতকানিয়া লোহাগাড়ার মানুষের বিচারকার্যে জীবনমান সহজ করার জন্য যা যা দরকার আমরা সেই সব দাবি আপনাদের মাধ্যমে উর্ধতন মহলে আবেদন জানাচ্ছি। সাতকানিয়ার মানুষের জন্য কাজ করবে। সুতরাং আদালত ভবনের খারাপ আবস্থা, বিচারক সংকট,
ম্যাজিস্ট্রেড কোর্ট না থাকা সহ সব কিছুই সাতকানিয়া লোহাগাড়ার মানুষের জন্য দূর্ভাগ্য। আমরা কথা দিচ্ছি আমরা এসব বিষয়ে ততক্ষনেই লিখতে থাকব যতক্ষন সরকারীভাবে এসবের সমাধান না হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় ভবনের অধিকাংশ জায়গায় ফাটল ধরেছে। যেকোন মুহূর্তে হতে পারে দূর্ঘটনা। বিচারক সংকট ও ম্যাজিস্ট্রেড কোর্ট এবং ১৪৫ ধারার মামলা করতে না পারা সহ বেশ কয়েকটি নিয়ে বারের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য বিজ্ঞ কৌশলী সদস্যবৃন্দরা সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে দাবী জানান।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536