লাশ দাফনের সুবিধার্থে রাস্তা কাজ বন্ধ রাখার কথায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

লাশ দাফনের সুবিধার্থে রাস্তা কাজ বন্ধ রাখার কথায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসান জাবেদ
মাইয়াতের লাশ দাফন ও জানাজার সুবিধার্থে কয়েক ঘন্টার জন্য রাস্তা সংস্কার কাজ বন্ধ রাখার কথা বলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ চরচারতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়া উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে স্থানীয় এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রবিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি
দিয়েছে উপজেলার যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।

এবিষয়ে সম্প্রতি কয়েকদিন ঘুরে অনুসুন্ধান করে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিরা বলেন।

২ ডিসেম্বর আমাদের গ্রামের কালা মিয়া (৫২) নামে এক ব্যক্তি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ির সামনে ঠিকাদারের লোকজন রাস্তায় ঢালাইয়ের কাজ করছিল। তখন গ্রামবাসী সবায় মিলে আমরা চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন খন্দকার কে বলি পরে চেয়ারম্যান গিয়ে লাশ আসার সময় কাজ বন্ধ রাখার জন্য ঠিকাদারের লোকজনকে অনুরোধ করেন। কিন্তু দুপুরে লাশ নিয়ে আসার পরও তারা কাজ করে যাচ্ছিল। এসময় লাশ নিয়ে বাড়িতে যতে সমস্যায় পড়েন নিহতের স্বজনরা।

আবারো পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি চেযারম্যানকে জাননো হলে তিনি সরেজমিনে সেখানে উপস্থিত হয়ে আবারো কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেন। এরপরও তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় চেয়ারম্যান তাদের ধমক দেন।

পরে ইউপি সদস্যদের সাথে ঠিকাদারের লোকজনের বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এসময় এলজিইডি অফিসের কার্য সহকারীর সাথে কোন
ঝামেলাই হয়নি।

এলাকাবাসী আরো জানান, কিছুদিন আগে চরচারতলার এই রাস্তার ঢালাই কাজের অনিয়ম নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন খন্দকার লিখত অভিযোগ করেছিলেন। এই অভিযোগের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহার করে না নিলে সকল জনগণকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও জানান এলাকাবাসী

এবিষয় জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. জিয়া উদ্দিন খন্দকার আক্ষেপ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান,

আমি কিছুদিন আগে চরচারতলার এই রাস্তার ঢালাই কাজের অনিয়ম নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখত একটি অভিযোগ করে ছিলাম। এই অভিযোগের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় আমার বিরুদ্ধে

যেখানে রাস্তার নির্মাণ কাজ চলছিল সেখানে আমার এক আত্মীয়ের বাসার একজন মারা গেছেন। যিনি মারা গেছেন তারা বাড়িরর গেইটের সামনের রাস্তার নির্মাণ কাজের কারণে লাশ নিয়ে বাড়িতে ঢুকার সামান্য জায়গাও ছিল না। মাইয়াতের লাশ দাফন ও জানাজার সুবিধার্থে কয়েক ঘন্টার জন্য আমি তাদেরকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। যে, লাশ ঢাকা থেকে আসা পর্যন্ত আপনারা এ রাস্তার কাজ আপাতত বন্ধ রাখুন। কিন্তু তিনি রাস্তার কাজ কোনোভাবেই বন্ধ না রেখে চালিয়ে যাচ্ছেন। পরে এ বিষয়ে তার সাথে বাক বিতণ্ডতা হওয়ার পর এক পর্যায়ে তাকে আমি একটা থাপ্পড় মারি।

তিনি আরো জানান,
কতিপয় কিছু লোক আমার এ অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাতীত সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছে,যাতে করে আমার রাজনৈতিক দলের ও আমার রাজনৈতিক জীবনের সুনাম নষ্ট হয়। আমি এ সমস্ত কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িত নয়।যারা এ সমস্ত অপবাদ ছড়াচ্ছে তারা শুধুমাত্র তাদের ফায়দা হাসিল করতে পারেনা বলে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটিমহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির কার্য-সহকারী সাখাওয়াত হোসেন শামীম এর সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিয়ে ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য হিলিপ প্রজেক্টের আওতায় চরচারতলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্থানীয় হাউজিং বাজার পর্যন্ত এলজিইডির সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করছেন কিশোরগঞ্জে অষ্টগ্রাম উপজেলার ঠিকাদার নুরুল ইসলাম। গত ৪ ডিসেম্বর উপজেলা চরচারতলা ইউনিয়নে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন ও জানাজার নামাজের সুবিধার্থে বাড়ির সামনের রাস্তার নির্মাণ কাজের কারণে লাশ নিয়ে বাড়িতে ঢুকার জায়গাও ছিল না। এক শ্রমিকে রাস্তার কাজ আপাতত বন্ধ কথা বলায় ঠিকাদারের লোকজনের সাথে স্থানীয় লোকজনের বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরচারতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. জিয়াউদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন উপজেলা এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারি শামীম। উক্ত মামলাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলার সকল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

এই বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ জানান, সরকারী কাজে বাধাঁ ও সরকারী কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা এলজিইডি অফিসের কার্য সহকারী শাহাদত হোসেন শামীম বাদি হয়ে মামলাটি
দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহার করে না করলে সকল জনগণকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও জানান এলাকাবাসী।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536