ড.মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম এর”গ্রীষ্মের ছুটিতে”

ড.মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম এর”গ্রীষ্মের ছুটিতে”

দিনাজপুর জেলা স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বার্ষিক পরীক্ষা শেষে গ্রীষ্মের দীর্ঘ ছুটি কাটাতে একবার নানার বাড়ি যাই। উদ্দেশ্য বাগানের রসালো লিচু খাওয়া। আর দিনাজপুরের লিচুর স্বাদের কথা কে না জানে। নানার বাগানে ছিল বেদনা , চায়না থ্রি , বোম্বাই লিচুসহ আরো অনেক প্রজাতির লিচুর গাছ। সেবার গাছে প্রচুর লিচু ধরেছিল। কিন্তু বাদুড়ের উৎপাতে নানা সবসময় দুর্ভাবনায় থাকতেন। তাছাড়া এতবড় বাগানে নেট লাগানো সম্ভব ছিল না। তাই নানা একজন পাহারাদার রেখে রাত্রিতে টিন বাজিয়ে বাদুড় তাড়ানোর ব্যবস্হা করেন। আমিও নানা অজুহাতে লিচু খাওয়ার সূযোগ খুঁজতে থাকি। কিন্তু দিনের বেলায় সম্ভব ছিল না। কারণ নানা সবসময় লিচু বাগানে বসে থাকতেন।

কয়েকদিন যেতে না যেতেই লিচু খাওয়ার সূবর্ন সুযোগ পেয়ে যাই। পাহারাদার অসুস্থ হওয়ায় নানা রাতে বাদুড় তাড়ানোর দায়িত্ব আমাকে দেন। মুখে কপট অসন্তোষভাব দেখালেও মনে মনে খুশি হয়ে গোপনে কয়েকজন মামাতো ভাইকে রাত্রিতে লিচু খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাই।

সন্ধার পর লিচু বাগানের মাচায় বসে প্লান মোতাবেক অনবরত টিন বাজাতে থাকি। নানা বাড়ির ভেতর থেকে শুনে বলেন, কী রে এতো টিন বাজাচ্ছিস কেন? উত্তরে বলি, আজ বাগানে বাদুড়ের উৎপাত বেশি, তাই। শুনে নানা খুশি হয়ে কিছুক্ষন পর শুয়ে পড়েন।

রাত ১০ টার পর মামাতো ভাইরা এলে তাদের একজনকে টিন বাজাতে বলে আমরা দল বেঁধে গাছে উঠি। প্রচুর লিচু খেয়ে খোসা আর বিচিগুলো নীচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখি। দেখে মনে হয় যেন লিচু বাদুড়ে খেয়েছে।

খুব সকালে নানা লিচু বাগানে এসে তা দেখে বিচলিত হয়ে আফসোস করে বলেন, এতো লিচু খেলো কারা? আমি ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে বলি, কারা আবার? বাদুড়ের দল। সারারাত টিন বাজিয়েও তাদের তাড়ানো যায়নি। মিনিটে মিনিটে তারা দল বেঁধে লিচু গাছে হামলে পড়েছে। একবার ভেবেছিলাম আপনাকে ডাকি। এসেছিলামও। কিন্তু দেখি আপনি জোরে জোরে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলেন। আপনি তো আবার বলে রেখেছেন, ঘুমালে কেউ যেন আপনাকে না ডাকে। একবার মামা ডেকে কী বিপদেই না পড়েছিল। তাই ভয়ে আপনাকে ডাকিনি। শুনে নানা হতাশ কন্ঠে বলেন, কী আর করা যাবে? পাহারাদার না আসা পর্যন্ত তুই লিচুর বাগান পাহারার দায়িত্ব পালন করে যাবি। খুশিতে আত্মহারা হলেও মুখে তা প্রকাশ করি না। প্রতি রাতে চলে লিচু খাওয়ার ধুম। ওই মৌসুমে আমাদের আর লিচু কিনে খেতে হয়নি। সবসময় মনে মনে চাইতাম, পাহারাদারের শরীর লিচুর সময়ে যেন মাঝে মাঝে খারাপ হয়ে যায়।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536