মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে ছাগলনাইয়ার মনুরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে ছাগলনাইয়ার মনুরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ


ফেনী প্রতিনিধি
শাহাদাত হোসেন সিকদার
ফ্রান্স সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে ছাগলনাইয়া উপজেলার ৫ নং মহামায়া ইউনিয়নের মনুরহাট বাজারে “মনুরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের” উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২০ নভেম্বর ) বাদ আসরের নামাজ শেষে মনুরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল ওয়াবে’র সভাপতিত্বে ও বিশিষ্ট সমাজ কর্মী ও মনুরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন মজুমদার’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মনুরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাসান মাহমুদ মজুমদার এসময় আরো বক্তব্য রাখেন ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ওবায়দুল হক মজুমদার, পশ্চিম দেবপুর মহিসুন্নাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হুসাইন সাহেব, দেবপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা মাহফুজুর রহমান, পূর্ব দেবপুর আলী মজুমদার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল হালিম, তালবাড়িয়া মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব ও পূর্ব দেবপুর পাটোয়ারী বাড়ী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাফেজ মেজবাউজ্জমান ।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন দেবপুর ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ফয়েজ আহমদ । এর আগে বাদ আসরের নামাজ শেষে দল-মত নির্বিশেষে দলে দলে সমাবেশে যোগদান করেন মুসুল্লিরা। এ সময় বক্তারা ফ্রান্সের পণ্য বয়কট, ব্যঙ্গচিত্র অপসারণ ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ফ্রান্স সরকারের সহযোগিতায় প্যারিসের দেয়ালে দেয়ালে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অবমাননাকর কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন ও অমর্যাদা, বিশ্ব মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত, যা বরদাশত করা হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশ সরকারকে ফ্রান্সের সরকারের এ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল মনুরহাট বাজারে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।

সংবাদ শেয়ার করুন

মোঃসামছু উদ্দিন লিটন, বিশেষ প্রতিনিধি নোয়াখালী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে থেকে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৭) দুই মাস পর ঢাকার সাভার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে চারজনকে আসামি করে দুটি মামলা করেন। মামলায় আসামি সাইফুল ইসলাম ইমনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড ও ফয়সালের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছে আদালত।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অপহৃত ছাত্রীকে সাভারের পূরগাও এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে অপহৃত ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার পর সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। অভিযানকালে বেগমগঞ্জ থানার এসআই মোস্তাক আহমেদ, ফিরোজ আলম, রুবেল মিয়া ও এএসআই নূর নবীর নেতৃত্বে শনিবার সন্ধ্যায় সাভারের পূরগাও এলাকার জৈনিক রুবির বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। তবে এসময় ওই বাসায় অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সাইফুল ইসলাম ইমন ও ফয়সালকে শনিবার বিকালে নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মোসলেহ উদ্দিন মিজান ১৬৪ ধারায় আসামি ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অপর আসামি ইমনকে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলায় তিন দিন ও পর্ণোগ্রাফি মামলায় দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রদান করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন জানান, পৃথক দুটি মামলায় সাইফুল ইসলাম ইমনকে পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করলে আদালত দুটি মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ রাতে মামলার আসামি ফয়সাল ও জোবায়ের ঘরে ডুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তার ভিডিও ধারণ করে। ঘরে থেকে যাওয়ার সময় তারা আলমেরি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও দুইটি আংটি নিয়ে যায়। গত ২০২০ সালের ৫মার্চ রাত আড়াইটার দিকে ইমন ও রাসেল ঘরে ডুকে নির্যাতিতাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার তিন মাস পর রাসেলকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকার মিরপুর-২, ৭নং রোডের ৩নং গলির জান্নাত নামে এক নারীর কাছ থেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন তার মা। ওই তিন মাসে অপহৃতাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রাসেল। এরপর বিভিন্ন সময় ইমন বাড়িতে এসে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সবশেষ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে আবারও অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি ফয়সাল ও ইমনকে গ্রেপ্তার করে।

নোয়াখালী থেকে অপহরণের দুই মাস পর কিশোরী উদ্ধার

themesbazartvsite-01713478536