ধর্ষনে অসহায় দেশ।

ধর্ষনে অসহায় দেশ।

মহসিন মুন্সী, বিশেষ প্রতিনিধি, ২০ অক্টোবর, ২০২০।

ইদানিং দেশে একটি বিষয় নিয়ে আমরা খুবই এক্সাইটড।
ধর্ষন।
এখানে, ওখানে, সেখানে যেদিকেই দেখি ধর্ষন। কোথাও একা তো কোথাও দলবেঁধে। কোথাও রাতে তো কোথাও দিনে। কোথাও ধর্ষনের পর ছেড়ে দিল তো কোথাও মেরে ফেললো। কোথাও চার বছরের শিশু তো কোথাও সত্তুর বছরের বৃদ্ধা। কোথাও ধর্মীয় সংখ্যাগুরু তো কোথাও সংখ্যালঘু। কোথাও বাঙালি তো কোথাও উপজাতীয়। কোথাও মানসিক প্রতিবন্ধী তো কোথাও শারীরিক প্রতিবন্ধী।কোথাও কেউ বাদ যাচ্ছে না। অপরদিকে যারা ঘটাচ্ছেন তাদের ও কোন নির্দিষ্ট পরিচয় নেই। বয়স আট হতে পারে আবার আশি ও হতে পারে। রাস্তার ভিক্ষুক হতে পারে আবার দেশ সেরা কেউ ও হতে পারে। হতে পারে শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রী, শিল্পী, ছাত্র, আমলা বা কোন পেশার যে নেই তা গবেষণার বিষয়। যার ফলশ্রুতীতে সবাই ধর্ষন বিরোধী আন্দোলনে উপস্থিত। আন্দোলনের আল্টিমটাম ধর্ষনের শাস্তি মৃত‍্যুদন্ড চাই, দিতেই হবে। সরকার বেদিশা, নির্বাহী আদেশে পাশ করা হল মৃত‍্যুদন্ড। ধর্ষকের শাস্তি শুধুমাত্র মৃত‍্যুদন্ড নয় আরো কঠিন কিছু হওয়া উচিৎ। এমন মৃত‍্যু যা দেখে অন‍্য কেউ আর এই অপরাধ করার কথা যাতে চিন্তাও না করে। উচ্চ আদালত ইতোমধ‍্যে একটি ধর্ষন মামলায় যুগান্তকারী একটি রায় দিলেন যাতে ধর্ষিতা কে ধর্ষনকান্ড প্রমানের জন‍্য শুধুমাত্র ডাক্তারের ওপর নির্ভরতা বন্ধ হল, স্বাক্ষীর মাধ‍্যমেও প্রমাণ করার ব‍্যবস্থা করা হল।
প্রতিটি ব‍্যাক্তিই ধর্ষনের বিপক্ষে (এমন কি ধর্ষন কারিরাও)। ধর্ষনকারির শাস্তি নিশ্চিত করার পক্ষে সবাই। তবে এক্ষেত্রে ধর্ষনের সঙ্গা নির্ধারণ করে দেয়া প্রয়োজন। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষন, পরকীয়া ধর্ষণ বা এজাতীয় আরো কিছু ক্ষেত্রে ঘটনাটি ধর্ষন হয় কিনা সেটা কিন্তু গবেষণার বিষয়। কোন নির্দোষ ব‍্যক্তি যেন ভুলে শাস্তি ভোগ না করেন।

ধর্ষককে মৃত‍্যুদন্ড নিশ্চিত করার মাধ‍্যমেই কি প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ? কেন এই সামাজিক ভাইরাস এই ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা খুজে বের করে তার যথাযথ প্রতিষেধক দিতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব‍্যবস্থার ত্রুটিবিচ্যুতি দুর করে শিক্ষিতরা যাতে নীতিবোধ সম্পন্ন মানবিক মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে সে জন‍্য যথাযথ ব‍্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

ধর্ষন মামলায় ধর্ষক কখনো কোন অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই সরকারকেই খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন নিরপরাধ শাস্তি ভোগ না করেন। আমাদের দেশে আমরা এমন উদাহরন ও দেখতে পেয়েছি যে এক মহিলা শুধু বিয়ে করে করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছে। প্রবাসী স্বামীর পাঠানো প্রায় কোটি টাকা নিয়ে অন‍্যের হাত ধরে চলে যাওয়ার খবর পেয়ে প্রবাসীর আত্মহত্যার সংবাদ জানা গেছে। এরকম আরো অনেক অনেক উদাহরন রয়েছে।
ইসলাম ধর্মীয় বিধান মতে বিবাহ বহির্ভূত সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক (যেনা) এর জন‍্য উভয়কেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। ধর্ষনকারির জন‍্য নির্ধারিত রয়েছে কঠিন যন্ত্রনাদায়ক মৃত‍্যু।
অনেকে বলেন মেয়েদের পর্দা না করা ধর্ষনের একটি কারন। আমি সবিনয়ে বলতে চাই, মেয়েটি পর্দা করেনি সেটা তার অপরাধ কিন্তু আমি পুরুষ কেন আমার পর্দা ঠিক রাখছি না। আমার চোখ, আমার মন কেন পর্দা করছে না? ইসলাম ধর্মীয় কোন গ্রন্থেই বলা নেই শুধু মেয়েদেরকেই পর্দা করতে হবে, বরং নারী পুরুষ সকলকেই কঠোর ভাবে পর্দা মেনে চলতে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। যেই মেয়েটি অর্ধ বা থ্রি কোয়ার্টার উলঙ্গ হয়ে বা অশালীন পোষাকে ঘর থেকে বাইরে আসছে তার নিশ্চয়ই পিতা,ভাই বা স্বামী অর্থাৎ পরিবার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের কি কোন দায়িত্ব নেই।
আবার শুধু যৌনাবেদন বা খারাপ পোষাক পড়ার কারনেই ধর্ষন হচ্ছে না, বোরকা পড়া বা সত্তুর বছরের বৃদ্ধাও ধর্ষনের শিকার হচ্ছেন। এই সমস‍্যা থেকে উত্তোরনের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত জাতী গড়ে তোলা। এই নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্র গঠন শুরু করতে হবে পরিবার থেকে। আর এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। নয়তো আমাদের ভবিষ্যৎ গন্তব‍্য হয়ে যাবে অযাচিত।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536