ফ্রান্সে শিক্ষকের মস্তক কর্তন

ফ্রান্সে শিক্ষকের মস্তক কর্তন

মহসিন মুন্সী, বিশেষ প্রতিনিধি:

ফ্রান্সের প‍্যারিস এর শহরতলী ইরাগ্নি তে এক শিক্ষক কে ছুড়ি দিয়ে মাথা কেটে আলাদা করে হত‍্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটিয়েছে ১৮ বছর বয়সি রাশিয়ার চেচেন বংশোদ্ভূত শরনার্থী ‘আবদুল্লাখ আবু ইয়েজিদোভিচ’। নিহত শিক্ষক এর নাম স‍্যামুয়েল পেটি (৪৭) বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তিনি তার ছাত্রদের ইতিহাস ও ভূগোল পড়াতেন।

গত পাঁচ অক্টোবর স‍্যামুয়েল পেটি তার ছাত্রদেরকে ‘বক্তব‍্যের স্বাধীনতা’ পড়ানোর সময় নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর কিছু ক‍্যারিকেচার প্রদর্শন ও উপস্থাপন করেন যা ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৭ তারিখ পেটির এক ছাত্রের অভিভাবক ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে আপত্তি জানিয়ে পোষ্ট করেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। ৮ অক্টোবর পেটি র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। স‍্যামুয়েল পেটি অভিযোগ কারী দের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনলে পুলিশ অভিভাবক সহ নয় জনকে তাদের হেফাজতে নেয়।

গত ১৬ অক্টোবর কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পেটি আক্রান্ত ও নিহত হন। কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলের ৬০০ মিটার দুরে পুলিশের গুলিতে আততায়ী নিহত হয়। পুলিশ বলেছে আততায়িকে তার হাতের অস্ত্র ফেলে দিতে বলার পরেও বন্দুক না ফেলার কারণে তাকে গুলি করা হয়। আততায়ির মরদেহের কাছে যে বন্দুক পাওয়া গেছে তা থেকে শুধু রাবার বুলেট ই ছোঁড়া যেত, যা দিয়ে মানুষ খুন করা সম্ভব নয়।

এ ঘটনার দায় চাঁপানো হয়েছে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের ওপর। যদিও কোন ব‍্যাক্তি বা গ্রুপ এই ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করে নি। এই হত‍্যার কারণে ইসলামপন্থী আন্দোলন কারিদের বিরুদ্ধে ইউরোপে ব‍্যপক জনমত তৈরী হচ্ছে। আজ হাজারো লোক পেটি র মৃত‍্যু স্থানে সমবেত হয়ে ফুল দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা মনে করেন এই ঘটনার মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হবে না।

ঘটনার পরে পুলিশ এই পর্যন্ত জিঞ্জাসাবাদের জন‍্য মোট ১৭ জনকে হেফাজতে নিয়েছে। যদিও ইয়েজিদোভিচ এর মা, বাবা,দাদা সবাই বলেছেন যে তার অতীত খুবই ভাল এবং তার কোন পুলিশ রেকর্ড নেই। গোয়েন্দারা আশাবাদী যে তারা সঠিক ঘটনা ও তথ‍্য উদঘাটনে সক্ষম হবেন।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536