নাগর্নো কারাবাখ আবার অস্থিতিশীল।

নাগর্নো কারাবাখ আবার অস্থিতিশীল।

মহসিন মুন্সী, বিশেষ প্রতিনিধি, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০।

আর্মেনিয়া – আজারবাইজানে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে নাগর্নো কারাবাখ নিয়ে। ৪৪০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই ভূখন্ড আজারবাইজান রিপাবলিকের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল। যদিও এই ভূখণ্ড আজারবাইজানের অন্তর্ভুক্ত হিসাবে আন্তজার্তিক স্বীকৃত তথাপি এর বেশিরভাগ নাগরিক জাতিগত ভাবে আর্মেনিয় খৃষ্টান বাকিরা তুর্কী মুসলিম। এখানে তুরস্ক সরাসরি আজারবাইজান কে সমর্থন করছে আর আর্মেনিয়াতে রয়েছে রাশিয়ার সামরিক ঘাটি।


১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ এ যে যুদ্ধ হয়েছিল তাতে প্রায় ৩০,০০০ লোক মারা যায় এবং প্রায় এক মিলিয়ন বাস্তচ‍্যুত হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আজারবাইজানের সংযুক্ত কিছু এলাকাও দখল করে নেয়।
১৯৯৪ সন থেকে এখানে যুদ্ধবিরতি চলছিল। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া নতুন এ যুদ্ধে মঙ্গলবার পর্যন্ত সামরিক ৮৭ সহ প্রায় ১০০ জনের মৃত‍্যু হয়েছে। আজারবাইজান কোন সামরিক হতাহত স্বীকার না করলেও বেসরকারি ৭ জন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় পক্ষই কিছু কিছু এলাকায় সামরিক শাসন জারি করেছে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। একে অপরকে দোষারোপ করছে যুদ্ধ শুরু করার জন‍্য। এখানে এ প্রসংগে আরো বিভিন্ন দেশ জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যেমন তুরস্ক সরাসরি আজারবাইজান কে সহযোগিতা করছে অপরদিকে রাশিয়া অনতিবিলম্বে অস্ত্রবিরতির ডাক দিয়েছে।

জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফর হিউম‍্যান রাইটস গভীর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বেসামরিক জীবন হতাহতে এবং বেসামরিক সম্পদ ধ্বংসে। তিনি এ যুদ্ধের আশু সমাধান দাবী করেন।

মঙ্গলবারেও ভারী যুদ্ধ চলার দাবি করে উভয় পক্ষই। বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে রবিবার শুরু হওয়া এ যুদ্ধে তাদের ৮৭ জন সেনা সদস‍্য মৃত‍্যুবরন করেছে এবং ১২০ জন আহত হয়েছে। তারা দাবি করেছে আজারবাইজানের পক্ষে এ সংখ্যা প্রায় ৪০০, আরো রয়েছে একটি যুদ্ধ বিমান, ৪টি হেলিকপ্টার এবং বেশ কিছু ট‍্যাংক ও ধ্বংস হয়।
অপরদিকে আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে আর্মেনিয়া তাদের আর্মার ও কমব‍্যাট ভেহিকেলের একটি কলাম হারিয়েছে এবং তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
যদিও দু’পক্ষের কারো দাবিই নিরপেক্ষ সূত্র সমর্থিত নয়।

তুরস্ক সোমবার আর্মেনিয়াকে আহ্বান জানিয়েছে ‘ অবিলম্বে দখলদারিত্ব বন্ধ করে সৈন‍্য প্রত‍্যাহার করতে যা শান্তিরক্ষার একমাত্র উপায় ‘।
রাশিয়া ও চীন উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান বলেছে তারা গভীর ভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছ এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
১৯৮৮ সনে শুরু হওয়া এই কনফ্লিক্ট এই পর্যন্ত কোন সমাধানে পৌঁছুতে পারেনি। যার মাধ্যমে ‘ নাগর্নো কারাবাখ ‘ বা ‘পার্বত‍্য কালো বাগান ‘ তার সৌন্দর্য্য ও স্বমহিমায় বিশ্ববাসীকে আকর্ষন করবে!

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536