লামায় প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন

লামায় প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন

বিপ্লব দাশ,স্টাফ রিপোর্টার:-
বান্দরবানের লামা উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের শতাধিক স্থান থেকে কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, সরই ও আজিজনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদী, খাল ও ছড়া থেকে সেলু মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। লামা উপজেলা প্রশাসনের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না থাকায় কোন ভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে বালু সন্ত্রাসকে এমনটাই জানান স্থানীয়রা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা ছড়া, খুটাখালী ছড়া, লাইল্যারমার পাড়া, পাগলির বিল, ফকিরাখোলা, বগাইছড়ি, উত্তর মালুম্যা, আব্দুল্লাহ ঝিরি, কমিউনিটি সেন্টার, ফাঁসিয়াখালী ছড়া, কুমারী এলাকার কমপক্ষে ৩৫টি স্পট থেকে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষ, সরকারদলীয় লোকজন ও পার্শ্ববর্তী ডুলহাজারা-চকরিয়ার লোকজন এই বালু সন্ত্রাসের সাথে জড়িত। হারগাজা এলাকার মো. হোসাইন, নুর ইসলাম, নুরুল আলম ও আমির হোসেন সহ অনেকে জানিয়েছেন, বালু তোলার কারণে তাদের ফসলের জমি, বসতবাড়ি ও খালের দু’পাড় ভেঙ্গে যচ্ছে। তারা কাউকে বলে কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। বালু ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাবান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে অনেকে সাহস পাচ্ছেনা।

উপজেলার সরই ইউনিয়নের পুলু খাল, হরি খাল ও ডলু খালের কমপক্ষে ২৫টি পয়েন্ট থেকে সেলু মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু তোলা হয়। এতে করে খালের দু’পাড় ভেঙ্গে নষ্ট হচ্ছে বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, পাহাড় ও বসতবাড়ি। পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ও সরই এলাকার সরকার দলীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন এই পরিবেশ ধ্বংসের সাথে জড়িত বলে জানায় স্থানীয়রা। ইউনিয়নের ধুমচা বিল, পুলাং পাড়া, কেয়া বন্যা, হাসনা ভিটা, কিল্লাছডা, ডলুছড়ি বাজার পাড়া, ঝটকি বনিয়া পাড়া, আমতলী মুসলিম পাড়া, কিল্লাখোলা সহ অসংখ্য স্থান থেকে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে হরিখালটির মৃত্যু হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ৬ মাস খালটিতে পানি থাকেনা। পাশাপাশি একইভাবে আজিজনগর ও ফাইতং ইউনিয়নের অসংখ্য জায়গা থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

একইভাবে আজিজনগর ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্ট থেকে অবৈধ ভাবে উত্তোলন হিমছড়ি, মিশন পাড়া ও তেলুনিয়া এলাকা হতে হাজার হাজার ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। বালু তোলার কারণে কয়েকটি ব্রিজ ও কালভার্ট ধরে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা ও লাইল্যারমার পাড়া কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সারাবছরই স্থানীয় ও বহিরাগত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সেলু ইঞ্জিন দিয়ে নদী, খাল ও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে থাকেন। ৩টি ইউনিয়ন হতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থকে ২৭০ ট্রাক বালু উত্তোলন করে নিয়ে যায়।

প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, পার্বত্য অঞ্চলে সরকারীভাবে বালু উত্তোলনের ইজারা দেওয়ার কোন নিয়ম নেই এবং বালুর মহাল নেই। বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনী। বালু উত্তোলন ও পাচারের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনুরোধ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536