পাবনা-৪ উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ’র মনোনয়ন ভাবনা

পাবনা-৪ উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ’র মনোনয়ন ভাবনা

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী মাসের ২৬ তারিখ হচ্ছে পাবনা-৪ এর উপ-নির্বাচন। কে পাচ্ছেন নৌকার টিকেট ? এ নিয়ে এলাকায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব খানে কানাঘুষো, হৈ চৈ পড়ে গিয়েছে।সাবেক সফল ভূমি মন্ত্রী আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যু জনিত কারনে এই আসন টি শূন্য হয়।এই আসনের নির্বাচনে ইতিমধ্যে ২৮ জন আওয়ামীলীগের পার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। চূড়ান্তকরণ হবে আজ আওয়ামীলীগ সভাপতি, দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ সিদ্ধান্তে।তিনি যেটা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই সবার জন্য মঙ্গল।

পাবনা-৪ অত্যন্ত গুরুপূর্নসহ একটি সংসদীয় আসন। এখানে সব দিক দিয়ে বিবেচনা করে যোগ্যতম একজন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া উচিৎ।কারণ এখানে আছে রুপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, ইপিজেড, ঈক্ষু ও ডাল গবেষণা, সুগার মিলস্, রেল জংশন, বিমান বন্দর, শিক্ষা, কৃষি সহ নানা দিক দিয়ে বাংলাদেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের পাবনা-৪ আসন।ফলে আমার মনে হয় এখানে একজন গুরুপূর্নসহ মেধাবী যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল ফারুক খান বলেছেন : যাকে প্রার্থী করা হবে, তাকে অবশ্যই স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হতে হবে। শিক্ষা, উন্নয়ন, সংস্কৃতিসহ এলাকার বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। আমি উনার এই কথার সাথে সহমত পোষন করছি।

ইতিপূর্বে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটিকেও আমরা সমর্থন করি।

ফলে সার্বিক দিক বিবেচনায় কে হবে নৌকার মাঝি তা মাননীয় নেত্রীই ঠিক করবেন।

জাহিদুল ইসলামসহ এলাকার জনগন বলেন এই সব বিবেচনায়  দৃষ্টিতে যোগ্য প্রার্থী শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক অধ্যক্ষ ড. আব্দুল মজিদ। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় ঈশ্বরদী-আটঘড়িয়া তার হাতেই নিরাপদ।

ডক্টর এম এ আব্দুল মজিদ-এর পরিবার পাবনা জেলার শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গুবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যম আমাদের এই বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হয়। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছিলো ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী গ্রামের অধ্যক্ষ এম এ আব্দুল মজিদ এর পরিবার।কালের স্রোতে এ কথা আজ সবাই হইতো ভুলে যেতে পারে। কিন্তু আমরা তা ভুলিনী। স্বাধীনতার ইতিহাস ভুলে যাওয়া তো এক ধরনের প্রতারণা । সেই প্রতারণা আমরা করতে পারিনা।১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এই পরিবারের অনেকেই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। বাকিরা পরোক্ষ ভাবে যুদ্ধে সহযোগীতা করেন। শান্তি কমিটির অত্যাচার, নির্যাতন, হুমকি ধামকি, রক্তচক্ষু তাদের দমাতে পারেনি।এই আব্দুল মজিদ মালিথার পরিবারটি ছিলো গেরিলা যোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় ও খাবার সরবরাহ কেন্দ্র।যুদ্ধকালীন সময়ে আব্দুল মজিদ সাহেব এর পরিবার ছিলো দেশপ্রেমীক বীর সেনাদের পৃষ্ঠপোষক।

আজ যারা বড় দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবি করেন, সে দিন তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাবনা জেলার অহংকার। বিশিষ্ট সমাজ সেবক ডক্টর এম এ আব্দুল মজিদ। এই সমাজে অনেক বিত্তবান প্রভাবশালী মানুষের আনাগোনা বেশি, কিন্তু এই বিত্তবান, প্রভাবশালী মানুষের সমাজের ভালো মন্দ নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই, ঠিক সেই সময় একজন আলোকিত মানুষ আব্দুল মজিদের দৃষ্টি পড়ে ভেঙ্গে পড়া সমাজের অবহেলিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উপর। নিজেই উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন গরীব অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করার জন্য এবং মাদকমুক্ত সমাজ ও অপরাধ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।গরীব অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে আব্দুল মজিদের ভুমিকা অনিস্বীকার্য। অন্ধসমাজে শিক্ষার আলো ফোটানোই একমাত্র স্বপ্ন এই মহান বিদ্যানুরাগী মানুষটির।নিজের এলাকায় জনপ্রিয় এই মানুষটি মসজিদ মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমুলক কাজে নিজের আয়কৃত অর্থ দান করে সাধারন মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন।তাই জীবনের সর্বস্ব দিয়ে আব্দুল মজিদ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গরীব অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া এই সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে।অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদের পারিবারিক পরিচিতি: আব্দুল মজিদ ১৯৬০ সালের ৪ ঠা এপ্রিল উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার ভাড়ইমারী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘ মালীথা ‘ বংশে জন্মগ্রহন করেন । পিতা মরহুম ফকির উদ্দিন মালীথা এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবী ছিলেন । মাতা বেগম দুলাজান ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী ফকির বংশের মেয়ে । যার ভাই ( আব্দুল মজিদের মামা) ফকির নূরুল ইসলাম ঈশ্বরদীর প্রাক্তন পৌর চেয়ারম্যান । স্থানীয় পরিচিতি ও অত্যন্ত বিনয়ী মিষ্টভাষী ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে জনাব এম , এ , মজিদ এলাকায় সু – পরিচিত । তার প্রয়াত বড় ভাই আব্দুর রশিদ ঢাকা কলেজের অধ্যাপক ছিলেন ও মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধা ( অধিনায়ক ) কালুরঘাট সেক্টরে যুদ্ধ করেন এবং পরবর্তীতে শহীদ হন । মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর গ্রামের বাড়ীটি মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার হয় । আব্দুল মজিদ ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন । এই সময়েই তার সঙ্গে এলাকার জনগণের ব্যাপক জনসংযোগ ঘটে শিক্ষাজীবন:  আব্দুল মজিদ স্থানীয় দাশুড়িয়া এম এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। শিক্ষাজীবনে ১ ম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ১ম স্থান অধিকারী ছিলেন তিনি।পরে সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা থেকে এইচ এস সি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে সম্মান সহ মাষ্টার্স গ্রহণ করেন । সম্মান ও মাষ্টার্স পরীক্ষায় যথাক্রমে মেধা তালিকায় ৫ম ও ৭ম স্থান অধিকার করেন ।

লেখক: জাহিদুল ইসলাম জাহিদ

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536