হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা “৯১ এর আগে ও পরে”Darpon TV(সত্যের প্রতিচ্ছবি)

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা “৯১ এর আগে ও পরে”Darpon TV(সত্যের প্রতিচ্ছবি)

ডেক্স রিপোর্টঃ

পাহাড়ের নির্জনতায় বসে অতীতের মধুময় স্মৃতি গুলো আজ স্মৃতির পটে ভেসে আসে ফেলে আসা সেই স্মরণীয় দিনগুলি। পাবনা পাকশিতে বেড়ে ওঠা আমাদের জীবন। সভ্যতা, শিক্ষা, রাজনীতি, বিকশিত হত আমাদের পাকশি থেকে। স্কুলের গণ্ডি না পেরুতেই মিছিলের পিছে ছুটে বেড়িয়েছি। স্কুল শেষে কলেজ। যে যেখানেই লেখাপড়া করেছি, সবাই যেন নির্দিষ্ট সময় পাকশিতে এসে জমানো নিঃশ্বাস ফেলে উচ্চস্বরে আনন্দ করেছি। আজ এই পড়ন্ত বেলায় রবি গুরুর সেই বিখ্যাত গানটি মনের মাঝে বেজে ওঠে,

“দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায়
রইল না রইল না
সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি”

রাজনৈতিকভাবে উর্বর পাকশীর ভূমিতে সে সময় আবির্ভাব হয়েছিল এক হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার। যার কথার সুর, হাসিমাখা মুখ, ঝাঁকড়া চুলের ঝাকুনিতে, আমাদের মত তরুণরা পাগলের মত ছুটেছিল বাঁশিওয়ালার পেছনে। কি তার আদর্শ! কি তার নীতি বাক্য! চায়ের দোকানে বেঞ্চে বসে পা নাচাতে নাচাতে বলতেন এসব নীতিকথা। অপলক দৃষ্টি নিবন্ধন করতাম তার বাচনভঙ্গিতে। কাঙ্খিত মনে কল্পনার সাগরে ভেসে বেরিয়েছি এইসব নীতি কথা শুনে। বাঁশিওয়ালার আদর্শেই আমাদের বেড়ে ওঠা। পড়ালেখার জন্য যে যেখানেই যেতাম, আমরা যেনো ঐ বাঁশিওয়ালার প্রেমে পড়ে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতাম। আমাদের সচেতনতা বোধ, আমাদের উচ্চতর আকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্বের বিকাশের বীজ তখন থেকেই অঙ্কুরিত হয়েছিল।

৯১ এর আগে এই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ছিল আমাদের কল্পনার সুপুরুষ। কোন এক শীতের সকালে এই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা লাল টরে কাপড়ের শার্ট আর রোদে ঝলসানো কালো প্যান্ট ও দু’ফিতা পঞ্চের স্যান্ডেল পড়ে মোমবাতির আলো ধরলেন আমাদের মাঝে। এই মোমবাতির মৃদু আলোয় ঝাকে ঝাকে অগণিত তরুণরা এসে জড়ো হলো পাকশির আমতলা মাঠে। সেই আলোয় আলোকিত হল ঈশ্বরদী আটঘরিয়ার ধানক্ষেত। তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ধানের শীষ হাতে নিয়ে পৌঁছে গেলেন মহান সংসদে ভাগ্যবিধাতার আসনে। অতীতের নীতিবাক্যকে চাপা দিয়ে অহংকারীত হয়ে ওঠেন নিজ কর্মযজ্ঞে। পরিবর্তন হয় তার বেশভূষার আর আচার আচরণ।

৯১ পরবর্তীতে ছন্দপতন হতে থাকে তার আদর্শিক নীতিকথা। বেসুরা হয়ে ওঠে বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুর ও মিষ্টি হাসি। ঝলসে ওঠে বাঁশিওয়ালার পেটানো শরীরের ঝলসানো মুখ। বাঁশিওয়ালার ঝাঁকড়া চুলে বাসা বাঁধে অজানা অচেনা কাক-পক্ষি। বিচ্যুত হয় শেখরের গভীর থেকে। তখন আমাদের মত তরুণদের হৃদয়ে রক্তক্ষরন হতে শুরু করে। রাজনীতিকে গড়ে তোলেন পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। শুরু হয় ঘাট, হাট, মাঠ ও রেলের টেন্ডারবাজি। আভিজাত্যের ছোঁয়ায় গড়ে তোলেন সুরম্য অট্টালিকা। দুর্নীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন নিজ পরিবার। নিয়ন্ত্রণহীন বেসামাল রাজনীতিকে লাগামহীন করে তোলেন। অযোগ্য অথর্ব লোকদের দিয়ে কমিটির বিভিন্ন পদে বসিয়ে নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। দানব রূপে বাঁশিওয়ালা হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর অগ্নিমূর্তি। আস্তে আস্তে নিজের রাজনীতিকে বিকিয়ে আস্তাকুড়ে নিমজ্জিত হন। গড়ে তোলেন অযোগ্য নেতৃত্ব। যদি বা কেউ নিজ চেষ্টাই যোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে এগিয়ে আসে, তাকে করেছেন পরাস্ত।

দেখতে দেখতে ৩০টি বছর অতিক্রান্ত করলেন বাঁশিওয়ালা। বয়সের ছাপে জীবন এখন নিভু নিভু প্রায়। কানায় কানায় পরিপূর্ণ জীবন সেই বাঁশিওয়ালার। না পাওয়ার তালিকায় বাকি নেই কিছু। তবুও কেন নির্বাচনে এলে ছুটে চলেন ডাকহরকরার মত। কেন সমালোচিত হন সাধারণ মানুষের। একবার ট্রেন মিস করলে কি সেই ট্রেন আর ধরা যায়? এখন উচিত অতীত ভুলগুলো শুধরে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসা। ভালোবাসার মানুষগুলোকে নিয়ে হৃদয়ে স্পন্দন অনুভব করা। আল্লাহ পাক বাঁশিওয়ালাকে যে সম্মানে সম্মানিত করেছেন, সেই সম্মানে আগামী দিনগুলোতে সম্মানিত হউন। যোদ্ধা হিসেবে নয়, বীর হিসেবে নয়, একজন অভিভাবক হয়ে নতুন যোগ্য নেতৃত্বে সহায়তার হাত প্রসারিত করুন। যে সম্মানে আপনি সম্মানিত হয়েছেন, সেই সম্মানে নিজের তৈরি কর্মীকে সম্মানিত করুন, কোন বিশ্বাসঘাতককে নয়।

সনজু খান

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536