জীবননগরে তিন ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানের প্রতিবাদে এলাকাবাসির মানববন্ধন।

জীবননগরে তিন ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানের প্রতিবাদে এলাকাবাসির মানববন্ধন।


মো, রাশেদুল ইসলাম (রাশেদ), বিশেষ প্রতিনিধি,

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মাঠে তিন ফসলি জমিতে একটি বিদেশী কোম্পানি সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। গ্রামবাসির একমাত্র কৃষি জমিতে পাওয়ার প্লান্ট নির্মানে জোর আপত্তি থাকলেও প্রভাবশালী একটি মহল সেখানে যে কোন মুল্যে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মান করতে কোম্পানির পক্ষে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানের বিরুদ্ধে শনিবার বিকালে এলাকার কৃষকেরা মানববন্ধন করেছেন।এদিকে একই দদিন বিকালে কেম্পানির একজন প্রতিনিধিসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা শনিবার বিকালে গ্রামবাসির সাথে মতবিনিময় করতে গেলে গ্রামবাসির সাফ জবাব জীবন দিব তবুও তাদের একমাত্র ফসলি জমিতে পাওয়ার প্লান্ট নির্মান করতে দেয়া হবে না। গ্রামবাসির অভিযোগ প্লান্ট নির্মানে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসির অভিযোগ থেকে জানা গেছে,জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মাঠের জমি খাদ্য উৎপাদনে একটি কৃষি সমৃদ্ধ মাঠ। যে মাঠের জমিতে ফলে না এমন কোন ফসল নেই। বর্তমান মাঠ শষ্য শ্যামল সবুজে ভরা একটি ফসলি মাঠ।। কিন্তু গত কয়েক বছর আগে সাইক্লিট এ্যানার্জি লিমিটেড নামের একটি বিদেশী কোম্পানি এলাকার কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষের সহযোিতায় এলাকার কৃষকদের গোপন করে উপজেলা কৃষি বিভাগ দিয়ে একটি জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদন নেয় যে,কৃষ্ণপুর মাঠটি মরুভুমি। সে সময় উপজেলা কৃষি বিভাগের এমন প্রতিবেদনের ফলে কোম্পানির তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে তারা দফায় দফায় মাঠটি পরিদর্শন করতে থাকে। কিন্তু এতে নড়েচড়ে বসে এলাকার কৃষকেরা। তারা তাদের ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন। এতে কোম্পানির তৎপরতা থেমে যায়। কিন্তু এলাকার একটি স্বার্থনন্বেষী মহল কোম্পানির নিকট থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার মানসিকতায় এলাকার কৃষকদের ও পরিবেশের ভবিষ্যত ভারসাম্যের কথা চিন্তা না করে সেখানে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানে তৎপর হয়ে উঠেছেন। কৃষকদের দাবি সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মান হলে শুধু কৃষি জমিই কমবে তা নয় এলাকার পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ফলে এলাকায় একদিকে খাদ্য ঘাটতি পড়বে,অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়বে।
সাবেক ইউপি সদস্য জেহের আলী,ঠান্ডু,শওকত আলীসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন,এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল তাদের নিজেদের লাভের কথা চিন্তা করে আমাদের একমাত্র ফসলি মাঠ,যেখানে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করা হয়। সেই মাঠের জমিকে মরুভুমি কিংবা পতিত জমি দেখিয়ে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানের পাঁয়তারা করছেন। সেখানে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মান করা হলে এলাকায় কৃষি জমি কমে গিয়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিবে এবং পরিবেশেরও বিপর্যয় ঘটবে। যুক্তি দেখানো হচ্ছে প্লান্ট নির্মান হলে ১০০-১৫০ লোকের কর্মসংস্থান হবে। তাহলে আর ৫-৬ হাজার মানুষের কি হবে? তাই গ্রামবাসির জীবন থাকতে প্লান্ট নির্মান করতে দেয়া হবে না।
সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানের জন্য শনিবার বিকালে কৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসির সাথে মতবিনিময় করতে আসেন কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকির হোসেন,জীবননগর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি গোলাম মোর্তুজা,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ অমল,আওয়ামীলীগ নেতা শাহিনুর মাস্টার,রাজ্জাক শাহ,রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শাহ,কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ- সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তারা আমাদেরকে বলেন জমি আপনাদের,আপনারা জমি দিলে প্লান্ট নির্মান হবে,না দিলে হবে না। আমরা তাদের বলি আমরা জীবন দেব তো জমি দেব না। কিন্তু এখন শুনছি আমাদের বিরিদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে!
একই ভাবে কৃষ্ণপুরের মেহেরজান বেগম আঞ্জুরা খাতুন,মাহফুজা খাতুনদের দাবি মাঠের ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মান হলে তারা কি খেয়ে বাঁচবে? আমরা জীবন দিয়ে হলেও প্লান্ট নির্মান প্রতিহত করব। মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গ্রামবাসির দাবি তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিন ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মান বন্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
এ ব্যাপারে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শাহ বলেন,আমি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ছিলাম,আমার বক্তব্যে আমি বলেছি এলাকাবাসী না চাইলে প্লান্ট হবে না। আমি এলাকাবাসির মতামতের বাইরে যেতে পারি না। তবে বিষষটি উভয়পক্ষকে ভেবে চিন্তে দেখা দরকার।
এদিকে সোমবার সকালে উপ- সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীনের নেতৃত্বে একটি টিম সরজমিনে মাঠটি পরিদর্শন করেন। এসময় এলাকার নারী- পুরুষেরা তিন ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ চাই না লেখা ব্যানার,প্লাকার্ড হাতে নিয়ে মানব বন্ধন করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার সারমিন আক্তার বলেন,কৃষ্ণপুর মাঠের জমি আবাদি। সেখানে ভুট্টা,চিনা বাদামসহ সব ধরনের আবাদ হচ্ছে। সেখানে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট হওয়া না হওয়ার ব্যাপারটা কৃষি বিভাগের নয়। কৃষকরা জমি দিলে হবে,না দিলে হবে না। তবে আমরা আবারও এলাকাটা জরিপ করব।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনিম লিংকন বলেন,কৃষ্ণপুর গ্রামবাসীর চিন্তার কিছু নেই। কৃষকের ক্ষতি হয় সরকার এমন কিছু করবে না।

সংবাদ শেয়ার করুন

ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সাজানো মিথ্যা মামলায় ফেলে এক নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে-নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা কয়াগোলাহাট ঘোনপাড়া এলাকায়৷ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৭৯ বছর পূর্বে বসতি স্থাপন করে স্থানীয়রা রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করে আসছি৷ সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ এসে রাস্তা খুলে দিলেও পুলিশ চলে যাবার পরে রাস্তাটি পুনরায় বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তী স্থানীয়দের সহোযোগিতায় বাড়ির বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও গত ২৬র্মাচ এ বিকল্প চলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়া হয় । এতে বাধা দিলে সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাই আজিজুল হক ও শফিকুল ইসলামের পরিবার এ-র উপর আতর্কিত হামলা করে বাড়ী ঘরের বেড়া, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে ধারালো অস্ত্রসহ(হাচুয়া,বটি,দা) লোহার মোটা পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে প্রতিপক্ষ সিরাজুলরা। আহতদের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়া হয় (ওসিসি বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিরাজুল ও শফিকুলদের আসামী করে সৈয়দপুর থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবারটি৷ এদিকে, মামলাটি থানায় দেয়ার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটির উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকি বিদ্যমান রেখেছে প্রতিপক্ষ৷ ভুক্তভোগী পরিবারের আতিয়ার রহমান খোশো বলেন, আমি রংপুর বিভাগের রংপুর বীর উত্তম শহীদ সামাদ স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিষয়ক সহকারী শিক্ষক । ঘটনার দিন আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, এই মর্মে প্রতিষ্ঠান প্রিন্সিপাল মহোদয় প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করেন। শফিকুলেরা অপরাধ সংঘটিত করে আগেই মামলা দায়ের করেন৷ আমি উপস্থিতি না থাকলেও আমাকে আসামির শ্রেনীভুক্ত করা হয়েছে৷ এমনকি, সৈয়দপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আমার কল রেকর্ড আছে এবং ঐ কল রেকর্ড ট্রাকিং করে দেখা গেছে আমি ঐদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৬ শেষ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে যুক্ত ছিলাম, শুধু মাত্র আমাকে হয়রানি করার জন্য এবং আমার সন্মান হানি করার জন্য হয়রানি মূলক মিথ্যা সাজানো মামলা করা হয়েছে৷ এ অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আতিয়ার রহমান খোশো তাদের সম্পর্কে আত্মীয় আমাদের সাথে জগড়া লাগলে তিনি তাদের পরামর্শ ও শেল্টার দেন। তাই ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে। তারাও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাই আমরাও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি৷ তবে, মামলার সূষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীর।

নীলফামারীতে মিথ্যা মামলায় ফেলে নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

themesbazartvsite-01713478536