আশুগঞ্জে ভিক্ষুকদের পূনর্বাসনে শেড ও কাঁচা বাজার উদ্বোধন।

আশুগঞ্জে ভিক্ষুকদের পূনর্বাসনে শেড ও কাঁচা বাজার উদ্বোধন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসান জাবেদ
তাদের জীবন চলত অন্যের উপর নির্ভর করে। কোন কারণে অন্যের দুয়ারে যেতে না পারলে তারা উপবাসে দিন কাটাতো। ভিক্ষাবৃত্তি যখন তাদের নিত্য ঘটনা, তখন কেউ তাদের ফিরিয়ে দিত, কেউবা আবার করুণা করত যৎসামান্যই যা পাওয়া যেত সারা দিনপ তা দিয়ে পেট চালানোই ছিল কঠিন! সেখানে স্বাস্থ্য, বস্ত্র তো অনেক দূরের বিষয়। ব্রাহ্মণবাড়িযার আশুগঞ্জ উপজেলার এমন ছয়জন ভিক্ষুকের পাশে এসে দাড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

প্রধানমন্ত্রীর ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন মার্কেটের সামনে শেড নির্মাণ করে কাঁচামাল, মাছ ও ফলের দোকান করে দেয়া হয়েছে তাদের জন্য।

শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ এনডিসি উক্ত পুনর্বাসন মার্কেটের উদ্বোধন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ হায়াত উদ-দৌলা খান, আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হানিফ মুন্সী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিমুল হায়দার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লিমা সুলতানা, আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

পুনর্বাসন হওয়া ছয়জন ভিক্ষুক হলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রমজান মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম, চরচারতলা ইউনিয়নের মৃত রবিউল্লাহর ছেলে শফিকুল ইসলাম, আঃ বারিক মিয়ার ছেলে আঃ কাদির, চান মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা বেগম, পুরাগুদাম এলাকার আশ্রাব আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও যাত্রাপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা বেগম।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিমুল হায়দার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেয়া ভিক্ষুক পুনবার্সন কর্মসূচির আওতায় উল্লেখিত ছয়জন ভিক্ষুককে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য শেড নির্মাণ ছাড়াও প্রত্যেককে দোকান পরিচালনার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকার মালামাল কিনে দেয়া হয়েছে। মোট ছয়টি দোকানের মধ্যে দুটি ফলের, দুটি কাঁচামালের ও দুটি মাছের দোকান রয়েছে। তারা যেন সুন্দরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে লাভবান হতে পারে এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হবে।

এদিকে দোকান পেয়ে মহাখুশি পুনর্বাসিত ভিক্ষুকরা। তারা কোনদিন ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে যাবেননা বলে দৃঢ় অঙ্গিকার করেছে।

গৃহিত কর্মসূচির ফলে পুনর্বাসিতদের পরনির্ভরশীল সেই ভিক্ষাবৃত্তির জীবনের অবসান হবে, তাদের দুঃখ যাবে ঘুচে, বদলে যাবে দিন এমন প্রত্যাশ সকলের।

সংবাদ শেয়ার করুন

ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সাজানো মিথ্যা মামলায় ফেলে এক নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে-নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা কয়াগোলাহাট ঘোনপাড়া এলাকায়৷ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৭৯ বছর পূর্বে বসতি স্থাপন করে স্থানীয়রা রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করে আসছি৷ সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ এসে রাস্তা খুলে দিলেও পুলিশ চলে যাবার পরে রাস্তাটি পুনরায় বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তী স্থানীয়দের সহোযোগিতায় বাড়ির বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও গত ২৬র্মাচ এ বিকল্প চলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়া হয় । এতে বাধা দিলে সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাই আজিজুল হক ও শফিকুল ইসলামের পরিবার এ-র উপর আতর্কিত হামলা করে বাড়ী ঘরের বেড়া, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে ধারালো অস্ত্রসহ(হাচুয়া,বটি,দা) লোহার মোটা পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে প্রতিপক্ষ সিরাজুলরা। আহতদের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়া হয় (ওসিসি বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিরাজুল ও শফিকুলদের আসামী করে সৈয়দপুর থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবারটি৷ এদিকে, মামলাটি থানায় দেয়ার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটির উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকি বিদ্যমান রেখেছে প্রতিপক্ষ৷ ভুক্তভোগী পরিবারের আতিয়ার রহমান খোশো বলেন, আমি রংপুর বিভাগের রংপুর বীর উত্তম শহীদ সামাদ স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিষয়ক সহকারী শিক্ষক । ঘটনার দিন আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, এই মর্মে প্রতিষ্ঠান প্রিন্সিপাল মহোদয় প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করেন। শফিকুলেরা অপরাধ সংঘটিত করে আগেই মামলা দায়ের করেন৷ আমি উপস্থিতি না থাকলেও আমাকে আসামির শ্রেনীভুক্ত করা হয়েছে৷ এমনকি, সৈয়দপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আমার কল রেকর্ড আছে এবং ঐ কল রেকর্ড ট্রাকিং করে দেখা গেছে আমি ঐদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৬ শেষ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে যুক্ত ছিলাম, শুধু মাত্র আমাকে হয়রানি করার জন্য এবং আমার সন্মান হানি করার জন্য হয়রানি মূলক মিথ্যা সাজানো মামলা করা হয়েছে৷ এ অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আতিয়ার রহমান খোশো তাদের সম্পর্কে আত্মীয় আমাদের সাথে জগড়া লাগলে তিনি তাদের পরামর্শ ও শেল্টার দেন। তাই ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে। তারাও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাই আমরাও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি৷ তবে, মামলার সূষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীর।

নীলফামারীতে মিথ্যা মামলায় ফেলে নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

themesbazartvsite-01713478536